Read today's news --> Click here

এক মাস পেরিয়ে আরও ভয়াবহ আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত: পরিকাঠামোয় হামলার মাঝেই কড়া প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির মধ্যে চলমান বহুমুখী যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে আরও চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দফতরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে কোনো আগ্রাসী শক্তি দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের “পা কেটে ফেলা হবে”।

তেহরান থেকে ইস্পাহান—ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আছড়ে পড়ছে ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর গোলা। ইস্পাহানের আকাশে দুটি মার্কিন এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন ধ্বংসের খবর মিলেছে। ইরানের সরকারের দাবি, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় তাদের একটি অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ক্যানসার এবং অ্যানেসথেশিয়ার ওষুধ তৈরি হতো। এছাড়া কেশম (Qeshm) দ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল পরিশোধন কেন্দ্রও (Desalination plant) হামলার জেরে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়েছে। পূর্ব তেহরানে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে মিসাইলের টুকরো ছিটকে পড়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা ৭৪৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ। এরই মধ্যে সেদেশের বিচারবিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের সাথে কোনো ছবি বা তথ্য আদানপ্রদান করলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

এই ডামাডোলের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি অবিলম্বে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো যায়, তবে ইরানের শক্তি এবং অন্যান্য অসামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের সংসদীয় স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথে তাঁর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে জানিয়েছে যে গত ৩১ দিনে আমেরিকার সাথে তাদের কোনো আলোচনাই হয়নি, শুধুমাত্র পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব এসেছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের ড্রোন ও মিসাইল তৈরির কারখানাগুলি ধ্বংস করা। যুদ্ধ চালানোর খরচের জন্য আমেরিকা এখন উপসাগরীয় আরব দেশগুলির আর্থিক সহায়তা নেওয়ার কথাও ভাবছে। অন্যদিকে, জল্পনা শোনা যাচ্ছে যে আমেরিকা স্থলপথে আক্রমণ চালালে ইরানের পাশে দাঁড়াতে রাশিয়ার চেচেন যোদ্ধারাও প্রস্তুত রয়েছে।

যুদ্ধের ভয়াবহ আঁচ এসে পড়েছে লেবানন এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতেও। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইজরায়েলি সেনার অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১,২৪০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের তিন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী এবং চারজন ইজরায়েলি সেনাও। অন্যদিকে, দুবাই বন্দরের কাছে নোঙর করে থাকা একটি বিশাল কুয়েতি তেলের ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালানো হলে আগুন ধরে যায়। যদিও ট্যাঙ্কারের ২৪ জন ক্রু সদস্যই অক্ষত রয়েছেন। সৌদি আরব রিয়াধের দিকে ধেয়ে আসা ৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১০টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে, তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আল-খারজ প্রদেশে ৬টি বাড়ির ক্ষতি হয়েছে এবং দক্ষিণ দুবাইয়ে চারজন সামান্য আহত হয়েছেন। স্পেন এবং ইতালির মতো দেশগুলি ইতিমধ্যে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।

হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। আমেরিকায় ২০২২ সালের পর এই প্রথম পেট্রোলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চেক প্রজাতন্ত্র তাদের রিজার্ভ থেকে ১ লক্ষ মেট্রিক টন তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও তিনি চার থেকে ছয় সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি টানতে প্রস্তুত।

এক মাস পেরিয়ে আরও ভয়াবহ আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত: পরিকাঠামোয় হামলার মাঝেই কড়া প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের
Scroll to top