Read today's news --> ⚡️Click here 

চন্দ্রনাথ রাথ হত্যা — শুভেন্দু অধিকারীর PA-কে গুলি, মধ্যমগ্রামে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্ত শুরু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের মাত্র দুই দিন পর, ৬ মে ২০২৬ বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলিতে নিহত হলেন BJP নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাথ। চন্দ্রনাথ রাথ হত্যার এই ঘটনা নির্বাচন-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার উদ্বেগকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথের গাড়ি অনুসরণ করে এবং গাড়ি ধীর গতিতে এলে পাশ থেকে গুলি চালায় — ৪টি গুলির মধ্যে ৩টিই লক্ষ্যভেদ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিস্তারিত — রেকি থেকে গুলি পর্যন্ত

চন্দ্রনাথ রাথ হত্যার পরিকল্পনা যে আগে থেকেই করা হয়েছিল, তার ইঙ্গিত একাধিক সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে হত্যার কয়েকদিন আগে থেকেই চন্দ্রনাথের গতিবিধি নজর রাখা হচ্ছিল এবং রেকি করা হয়েছিল। দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ি অনুসরণ করে, পথ আটকে দেয় এবং তারপর একদম কাছ থেকে গুলি চালায়। গাড়ির বাঁ-পাশের সামনের জানালায় বুলেটের ছিদ্র স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। গাড়িতে চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা চালক বুদ্ধদেবও আহত হয়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।

হত্যার পর রাজ্যের পুলিশের পাশাপাশি CID-এর একটি দল ঘটনাস্থলে তদন্তে নামে। West Bengal DGP সিদ্ধনাথ গুপ্তা  “গাড়ির নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করা হয়েছিল। আমরা গাড়িটি আটক করেছি এবং ঘটনাস্থল থেকে ফাঁকা কার্তুজ ও জ্যান্ত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক CCTV ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।” চন্দ্রনাথ রাথ হত্যার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে বলে জানা গেছে।

শুভেন্দুর অভিযোগ, CBI তদন্তের দাবি এবং BJP-প্রতিক্রিয়া

চন্দ্রনাথ রাথ হত্যার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে “পরিকল্পিত খুন” ও “ব্যক্তিগত ক্ষতি” হিসেবে বর্ণনা করে BJP কর্মীদের শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। “চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়েছে কারণ আমি ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়েছি।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

BJP নেতা নিখিল প্রসুন  বলেছেন, “এই ঘটনা TMC-র বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা হিংসার সংস্কৃতির প্রতিফলন। এটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত হওয়া দরকার। হত্যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।” শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী CBI তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। TMC অবশ্য এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে BJP নিজেই এই উত্তেজনা তৈরি করছে।

নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা — পশ্চিমবঙ্গ থেকে অসম পর্যন্ত উদ্বেগ

চন্দ্রনাথ রাথ হত্যার ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।  ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে BJP ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে ১৫ বছরের TMC শাসনের অবসান ঘটানোর পর থেকেই রাজ্যে বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটছে। একটি BJP কর্মী ও একটি TMC কর্মী ইতিমধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানা গেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িতদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি অসম ও বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক, কারণ এই দুই রাজ্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভাষিক ও পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত গভীর। হাইলাকান্দি ও লালার বহু মানুষের আত্মীয়-পরিজন পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করেন। নির্বাচনের পরপরই যে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তা শুধু পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নয় — বরাক উপত্যকার বাংলাভাষী মানুষকেও উদ্বিগ্ন করছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও CID ইতিমধ্যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানিতে আরও তথ্য প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। BJP CBI তদন্তের দাবি অব্যাহত রেখেছে। চন্দ্রনাথ রাথ হত্যার এই মামলা পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার প্রথম পরীক্ষাও বলা যায় — এবং সেই পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

চন্দ্রনাথ রাথ হত্যা — শুভেন্দু অধিকারীর PA-কে গুলি, মধ্যমগ্রামে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্ত শুরু
Scroll to top