গুৱাহাটীতে গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটেশন এবং নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। ১৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই পর্যালোচনায় নগরাঞ্চলের চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয় এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, শহরের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য গুৱাহাটী গড়ে তোলা।
গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্পে কী বদল চাইছে সরকার
এই পর্যালোচনার মূল বিষয় ছিল শহরের জলাবদ্ধতা, নালা-নর্দমার সমস্যা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প-এর আওতায় যে কাজগুলো চলছে, সেগুলিকে আরও দ্রুত, জবাবদিহিমূলক এবং ফলাফলভিত্তিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট, সরকার শুধু নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে নয়, বরং পুরোনো সমস্যার বাস্তব সমাধান চায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে গুৱাহাটীর বহু নিচু এলাকা যেভাবে জলমগ্ন হয়, তা নাগরিক জীবনে বড় চাপ তৈরি করে।
পর্যালোচনায় স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ পরিচ্ছন্নতা এবং নিকাশিই শহুরে জীবনের ভিত্তি। ময়লা অপসারণ, নালা পরিষ্কার, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ—এই চারটি দিককে একসঙ্গে এগোতে বলা হয়েছে। শহর উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাধিক দপ্তরের সমন্বয় না থাকলে সমস্যা থেকে যায়, সেই বাস্তবতা সরকারও বুঝতে পারছে। তাই গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প শুধু প্রকৌশলগত কাজ নয়, প্রশাসনিক সমন্বয়েরও পরীক্ষা।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও স্যানিটেশনের সমান্তরাল চাপ
গুৱাহাটী শুধু রাজধানী শহর নয়, বরং আসামের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রও। তাই এখানে সামান্য ব্যর্থতাও রাজ্যের বৃহৎ চিত্রে প্রভাব ফেলে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণকেই নগর উন্নয়নের কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। এর মানে হলো—ড্রেনেজ লাইনের উন্নয়ন, জলপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ রক্ষা, অবৈধ দখল কমানো এবং নালা পরিষ্কারের কাজকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে আনা। গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প-এর সঙ্গে এই কাজগুলির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
স্যানিটেশনের দিক থেকেও শহরে সমস্যা দীর্ঘদিনের। জনঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, জঞ্জাল সংগ্রহ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর পর্যালোচনার একটি বড় ইঙ্গিত হলো, শহরকে কেবল বড় রাস্তা বা ভবন দিয়ে উন্নত করা যাবে না; পরিষ্কার, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশও সমান জরুরি। এই কারণেই গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প-এর সঙ্গে স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গুৱাহাটীর অভিজ্ঞতা আসামকে কী শেখায়
গুৱাহাটীতে যে সমস্যাগুলি দেখা যায়, তা আসামের অন্য শহর ও জেলাকেন্দ্রগুলির জন্যও শিক্ষা। সিলচর, ডিব্রুগড়, যোরহাট বা বরাক উপত্যকার নগরাঞ্চলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানিনিষ্কাশন নিয়ে একই ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনের মতো তুলনামূলক ছোট শহরেও মৌসুমি বৃষ্টি, নালা পরিষ্কার, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ থাকে। গুৱাহাটীর গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প-এর অভিজ্ঞতা যদি কার্যকর হয়, তাহলে তা ছোট শহরগুলির জন্যও দিকনির্দেশনা হতে পারে।
লালার মানুষের কাছে এই গল্পের তাৎপর্য অনেক। কারণ নগর উন্নয়নের বড় বড় সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জেলার রাস্তাঘাট, নিকাশি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের মানে গিয়ে প্রভাব ফেলে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানো, নালা পরিষ্কার রাখা এবং আবর্জনা ব্যবস্থাকে কার্যকর করা শুধু গুৱাহাটীর নয়, সমগ্র আসামের উন্নয়ন মডেলের অংশ হওয়া উচিত। তাই গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প-কে শুধু রাজধানীর প্রকল্প হিসেবে নয়, রাজ্যজুড়ে নাগরিক পরিষেবা উন্নয়নের একটি পরীক্ষামূলক মানদণ্ড হিসেবেও দেখা যায়।
সামনে কী দেখার আছে
এই পর্যালোচনা বৈঠকের পরে এখন নজর থাকবে বাস্তব কাজের গতির দিকে। রাজ্য সরকার যদি সময়মতো প্রকল্প সম্পন্ন করতে পারে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে পারে, তাহলে গুৱাহাটীর নাগরিক জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, কাগজে-কলমে পরিকল্পনা থাকলেও মাঠে কাজ না হলে জলাবদ্ধতা ও স্যানিটেশনের পুরোনো সমস্যা আবারও ফিরে আসবে।
গুৱাহাটী নগর উন্নয়ন প্রকল্প তাই এখন একাধিক প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে। শহরের মানুষের জন্য এর মানে দৈনন্দিন স্বস্তি, আর রাজ্যের জন্য এর মানে প্রশাসনিক সক্ষমতার পরীক্ষা। আগামী কয়েক মাসে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি কতটা হয়, সেটাই বলবে এই পর্যালোচনার ফল কতটা টেকসই হলো।