প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ১৯তম রোজগার মেলা নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ৫১,০০০-এরও বেশি নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সকাল ১১টায় এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী, এবং দেশের ৪৭টি জায়গায় একসঙ্গে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রেলওয়ে, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, আর্থিক পরিষেবা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এটি রোজগার মেলা নিয়োগপত্র কর্মসূচির ১৯তম দফা। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই অনুষ্ঠানে নতুন নিযুক্তদের সম্বোধন করেন এবং কর্মসংস্থান প্রসারকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হিসেবে বর্ণনা করেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সরকারি কাজের সুযোগকে দ্রুততর করার লক্ষ্যে চালু রাখা হয়েছে।
৪৭ জায়গায় একযোগে মেলা, দেশের সব প্রান্তে সুযোগ
এই ১৯তম রোজগার মেলা নিয়োগপত্র অনুষ্ঠান দেশের ৪৭টি স্থানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন l নিয়োগকৃত প্রার্থীরা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এবং তারা কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রক ও বিভাগে যোগ দেবেন। UNI-র প্রতিবেদনেও নিশ্চিত হয়েছে যে জম্মু, কাশ্মীর, লাদাখসহ সমগ্র ভারতের স্থানগুলো এবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রেলওয়ে মন্ত্রক এবারও সর্বাধিক নিয়োগের উৎস হিসেবে ছিল। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে বিভিন্ন পদে নিয়োগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকে নিয়োগ, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ ও উচ্চশিক্ষা বিভাগেও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। UPSC, SSC এবং Railway Recruitment Board-এর মাধ্যমে নিয়োগের সংখ্যাও এই কর্মসূচিতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এ পর্যন্ত ১২ লাখ নিয়োগপত্র, একটি বড় মাইলফলক
রোজগার মেলা কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮টি মেলার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রোজগার মেলা নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি কর্মসূচির ব্যাপকতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ—মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সরকার লক্ষাধিক তরুণকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারি পদে নিযুক্ত করেছে।
১৮তম মেলায় (জানুয়ারি ২৪, ২০২৬) ৬১,০০০-এরও বেশি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ৪৫টি স্থানে অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই মেলায় উত্তর-পূর্বের দিমাপুরে অসম রাইফেলস ট্রেনিং সেন্টারে ৩৬৬ জন তরুণ নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল। পরবর্তী দুটি মেলার মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে বিরতি পড়েছিল, যা শেষ হওয়ার পরেই ১৯তম মেলার আয়োজন করা হয়।
উত্তর-পূর্ব ও বরাক উপত্যকার প্রতিফলন
রোজগার মেলা নিয়োগপত্র কর্মসূচিতে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো ধারাবাহিকভাবে অংশ নিয়ে আসছে। ১৮তম মেলায় দিমাপুরে অসম রাইফেলস-এর মাধ্যমে ৩৬৬ জন নিয়োগ পেয়েছিলেন, আর গত কয়েকটি মেলায় উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রার্থীরা একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে যোগ দিয়েছেন।
হাইলাকান্দি জেলা বা লালা টাউনের মতো এলাকার তরুণরাও এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। রেলওয়ে, স্বাস্থ্য, আর্থিক পরিষেবা এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগে নিয়োগ মানে শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, জেলা পর্যায়েও এই পদগুলো ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাই স্থানীয় তরুণদের জন্য SSC, UPSC এবং Railway Recruitment Board-এর মাধ্যমে আবেদনের প্রস্তুতি আরও জরুরি হয়ে পড়ছে। যারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই রোজগার মেলা নিয়োগপত্র কর্মসূচির আওতায় পরবর্তী মেলার ঘোষণায় নজর রাখা সমীচীন।
কর্মসংস্থান নীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ
রোজগার মেলা কর্মসূচি কেন্দ্রীয় সরকারের রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার একটি নীতিগত উদ্যোগ। এই মেলা মূলত সরকারি পদে শূন্যপদ পূরণের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু হয়েছিল, কারণ আগে নিয়োগ থেকে যোগদানের মধ্যে দীর্ঘ সময় লাগত। নিয়োগপত্র হাতে দেওয়ার মাধ্যমে যোগদানের প্রক্রিয়া সহজ ও প্রতীকীভাবে অনুপ্রেরণামূলক করা হয়।
এই কর্মসূচির বিশেষত্ব হলো এটি রাজ্য নির্বিশেষে সব অঞ্চলের প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে। আগামী দিনে ২০তম রোজগার মেলার পরিকল্পনাও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যতদিন না রিক্রুটমেন্ট পাইপলাইন পূর্ণ হয়, ততদিন এই রোজগার মেলানিয়োগপত্র কর্মসূচি চলতে থাকবে এবং দেশের লাখো তরুণের জন্য সরকারি কর্মসংস্থানের দরজা খোলা রাখবে।