Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম শিশুদের সুরক্ষা নির্দেশিকায় স্কুলের ছবি ও আপডেট নিষেধ

আসাম রাজ্য পুলিশ শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ২৫ মে ২০২৬ তারিখে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের ছবি, ভিডিও বা লাইভ আপডেট সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করবেন না এবং রিয়েল টাইম আপডেট পাঠানো সীমিত রাখা হবে। রাজ্য পুলিশ স্কুলগুলিতে শিশুদের পক্ষে “no real time or live updates, live streaming of any sort shall not be allowed” এই নীতিটি বাস্তবায়নের পক্ষে সুপারিশ করেছেন।

এই নির্দেশিকা আসলে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় একটি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “শিশুদের ছবি, লোকেশন বা ক্রিয়াকলাপের বিবরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করা হলে অপরাধীদের কাছে তা সহজ লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।” ভারতে শিশু সুরক্ষা আইনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অনলাইন অপরাধের অংশ হিসেবে প্রতি বছর হাজার হাজার কেস নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল ডেটার ব্যবহারও একটি উদ্বেগজনক অংশ। এই প্রেক্ষাপটে আসাম শিশুদের সুরক্ষা নির্দেশিকা অত্যন্ত সময়োচিত।

স্কুলে ছবি আপডেট নিয়ন্ত্রণের কারণ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সাধারণত অনুষ্ঠান, পরীক্ষা, খেলার মাঠ বা শ্রেণীকক্ষের ঘটনা সরাসরি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করেন, যা পরিবারের কাছে তৎক্ষণাৎ তথ্য দেয়। কিন্তু এই অভ্যন্তর ব্যবহার গুপ্ত থাকলেও ইন্টারনেটে তা বাইরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। রাজ্য পুলিশ স্পষ্ট করেছে, যে কোনো রকম রিয়েল টাইম আপডেট, লাইভ স্ট্রিমিং বা ছাত্রদের ছবি পোস্ট করা নিষিদ্ধ হবে, যতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়।

এই সিদ্ধান্তের পিছনে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট (digital footprint) ও পার্সোনাল ডেটার সুরক্ষার প্রশ্ন জড়িত। অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আসামে শিশু সুরক্ষার প্রেক্ষাপটে স্কুল ও অভিভাবকগণ যাতে কোনো অনিয়ন্ত্রিত ডেটা লিক না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই নির্দেশিকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশ্নের মুখে ফেললেও শিশুদের সুরক্ষা অগ্রাধিকার দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয় স্কুল অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

গৌহাটি ও অন্যান্য জেলা কেন্দ্রের কয়েকটি বেসরকারি স্কুল ইতোমধ্যে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নীতি পরিবর্তন করেছে। একটি স্কুলপ্রধান বলেন, “আমরা ছাত্রদের কার্যকলাপ ফটো ও ভিডিও তুলে রাখি, কিন্তু তা কেবল আন্তঃস্কুলীয় নথি হিসেবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন শুধু সাধারণ ছবি বা লোগো ব্যবহার করা হবে, যেখানে ছাত্রদের মুখ বা নাম স্পষ্ট হবে না।”

অভিভাবকগণ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন এতে তাঁদের ছোট সন্তানের দৈনন্দিন কার্যকলাপে আপডেট দেখতে বাধা পড়বে, অন্যদিকে অনেকে মনে করেন শিশুদের ব্যক্তিগত ডেটা আইনি নিরাপত্তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত নয়। একজন মহিলা অভিভাবক বলেন, “যদি আমার ছেলে বা মেয়ের ছবি কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তবে এই নির্দেশিকা পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য।”

বারাক উপত্যকা, হাইলাকান্দি লালা টাউনের প্রভাব

এই নির্দেশিকা শুধু গৌহাটি বা বড় শহরের জন্যই নয়; বারাক উপত্যকা, বিশেষ করে হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ ও কাছাড় জেলার স্কুলগুলিও ভবিষ্যতে এই নীতি মেনে চলতে বাধ্য হবে। বারাক উপত্যকায় অনেক স্কুল যেমন হাইলাকান্দি মহকুমা হাইস্কুল থেকে বিভিন্ন ইউপি স্কুল, তারা অনুষ্ঠানের ছবি পরিবারের কাছে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করেন। এই নীতি চালু হলে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কমিউনিকেশন স্টাইল পালটে যাবে।

লালা টাউনের একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, “আমাদের যেমন বার্ষিকোৎসব, খেলাধুলা বা পরীক্ষার ফলাফল লঞ্চ করা হয়, সেগুলিতে যদি কোনো ছাত্রের নাম বা ছবি রাখতে না পারি, তবে আমরা শুধু সাংগঠনিক ছবি বা স্কুল বিল্ডিং থেকে শট ব্যবহার করব। এতে স্থানীয় সংবাদের প্রতিক্রিয়া কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু শিশুদের সুরক্ষা বেড়ে যাবে।” এই স্থানীয় প্রতিক্রিয়া দেখায় যে আসামে শিশুদের সুরক্ষা নির্দেশিকা তাতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সূচনাতে এসেছে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ

পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে এই নির্দেশিকা কেবল সুপারিশ নয়, পরবর্তীতে একে স্কুল লাইসেন্সিং বা রেগুলেটরি গাইডলাইনের সঙ্গে লিঙ্ক করতে পারে। রাজ্য শিক্ষা বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি করছেন, যেখানে ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষা, সোশ্যাল মিডিয়া নীতি ও শিশু সুরক্ষা একসঙ্গে রাখা হবে। এই গাইডলাইন স্কুল অভিভাবক সমিতি, শিক্ষক ও পুলিশ কর্মীদের নিয়ে প্রশিক্ষণেরমাধ্যমে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আসাম শিশুদের সুরক্ষা নির্দেশিকা সামগ্রিকভাবে একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে অভিভাবকরা হয়তো কিছুটা সীমিত আপডেট পাবেন, কিন্তু তাঁদের সন্তানদের প্রাইভেসি রক্ষা করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের নীতি জাতীয় স্তরে বিচারের বিষয়ও হতে পারে, যেখানে ডিজিটাল যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুলিশের ভূমিকা কীভাবে মিলিত হয়, তা আরও পরিষ্কার হবে।

আসাম শিশুদের সুরক্ষা নির্দেশিকায় স্কুলের ছবি ও আপডেট নিষেধ
Scroll to top