Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলচর সাংবাদিক রাজু দাস আক্রান্ত, বরাকবাণী অফিসে ভাঙচুর

শিলচরের দ্বিতীয় লিংক রোডের ১১ নম্বর লেনে অবস্থিত বরাকবাণী কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক রাজু দাস (২৫) আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অচেনা একদল দুষ্কৃতী অফিসে ঢুকে রাজু দাসের ওপর আক্রমণ চালায় এবং কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর করে। ঘটনায় শিলচর ও পুরো বরাক উপত্যকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

বরাকবাণী কার্যালয়ে হামলা কীভাবে হলো

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা হঠাৎ করেই বরাকবাণী অফিসে প্রবেশ করে তাণ্ডব শুরু করে। ওই সময় সাংবাদিক রাজু দাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে মারধর করা হয় এবং অফিসের মধ্যে থাকা কিছু সামগ্রী ও নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, হামলার ধরন ছিল পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিলচরের মতো শহরের মধ্যেও যদি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্থানীয় গণমাধ্যমের কাজের পরিবেশকে অশান্ত করে তুলেছে।

রাজু দাসের নামেই এফআইআর

ঘটনার পর রাজু দাসের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অবৈধ প্রবেশ, খুনের চেষ্টা, লুটপাট এবং ভাঙচুরের ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটির পেছনে আরও কয়েকজনের যোগ থাকতে পারে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। এই তদন্তের মাধ্যমে হামলার কারণ ও সম্পৃক্তদের পরিচয় পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

শিলচরে সাংবাদিক রাজু দাসের ওপর হামলার ঘটনায় সহকর্মী সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, মাঠে কাজ করা সংবাদকর্মীরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সত্য খবর সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠবে। বরাক উপত্যকার সাংবাদিক সমাজ বহুদিন ধরেই নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মতে, এ ধরনের হামলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। রাজু দাসের মতো তরুণ সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ তাই শুধু ব্যক্তিগত আঘাত নয়, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজকে সতর্ক করে দেওয়ার মতো ঘটনা। প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিলচরের দ্বিতীয় লিংক রোডে উত্তেজনা

ঘটনাস্থল ছিল শিলচরের দ্বিতীয় লিংক রোডের ১১ নম্বর লেন। এই এলাকার মধ্যে বরাকবাণী কার্যালয় অবস্থিত হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং বহু মানুষ অফিসের সামনে ভিড় করেন।

এই লোকেশনকে কেন্দ্র করে পুলিশ এখন তদন্ত আরও গভীরভাবে চালাচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফোনকলের রেকর্ডও যাচাই করা হতে পারে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি

রাজু দাসের চিকিৎসা, পুলিশের তদন্ত এবং আটককৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ—এই তিনটি বিষয় এখন কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিকভাবে এটি একটি গুরুতর সহিংস ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বরাক উপত্যকার সাংবাদিক সমাজ এখন এ ঘটনার পরিণতির দিকে নজর রাখছে। শিলচরের এই হামলা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গেও যুক্ত। রাজু দাসের ওপর হামলার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তিই এখন সবার প্রত্যাশা।

শিলচর সাংবাদিক রাজু দাস আক্রান্ত, বরাকবাণী অফিসে ভাঙচুর
Scroll to top