Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম দারিদ্র্য হ্রাসে পাঁচ বছরের লক্ষ্য, BPL ৩ শতাংশের নিচে নামানোর টার্গেট

আসাম দারিদ্র্য হ্রাসকে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২৯ মে ২০২৬ বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যের BPL জনসংখ্যা ৩ শতাংশের নিচে নামানোর চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে রাজ্যে BPL জনসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশের কাছাকাছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘোষণা রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসামের অর্থনীতি ও কল্যাণমূলক কাঠামো গত কয়েক বছরে বদলেছে এবং আগামী দিনে সেই গতিকে আরও ত্বরান্বিত করা হবে। আসাম দারিদ্র্য হ্রাস-এর কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, রাজ্যে BPL হার এখন প্রায় ১৭ শতাংশ এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা IANS-এর বরাতে এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পেছনে সাম্প্রতিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সাফল্যের কথাও উঠে আসে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকার জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং আয়ের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন বোঝাতে চাইছে যে, দারিদ্র্য কমানোকে এখন কেবল নীতি-ঘোষণা নয়, বাস্তব প্রশাসনিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া হবে।

দারিদ্র্য কমার সরকারি দাবি

সরকারি যুক্তি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে আসামে বহু মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী এনআইটিআই আয়োগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ২০১৩-১৪ সালে আসামের poverty headcount ratio ছিল ৩৬.৯৭ শতাংশ, যা ২০২২-২৩ সালে নেমে ১৪.৪৭ শতাংশে এসেছে। একই তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

ওই হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০.৩৬ লাখ মানুষ multidimensional poverty থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে সরকার দাবি করে। তবে নতুন ঘোষণায় BPL হারকে আরও কমিয়ে ৩ শতাংশের নিচে নামানোর যে লক্ষ্য বলা হয়েছে, তা আগের পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ফলে এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নজর এখন এই প্রশ্নে—সরকার কি এই লক্ষ্যকে বর্তমান পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের রূপরেখা দেবে, নাকি এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির স্তরেই থাকবে।

অরুণোদয় খাদ্যসুরক্ষা

অরুণোদয় প্রকল্প-কে রাজ্যের দারিদ্র্যবিরোধী নীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, প্রায় ৪০ লাখ পরিবারে DBT-এর মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যেখানে যোগ্য নারী সদস্যকে প্রতি মাসে ১,২৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। সরকার এই প্রকল্পকে নারী-নির্ভর পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারের একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরছে।

আসামের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ বিভাগীয় নথিতেও দেখা যায়, NFSA-র অধীনে রাজ্যে কোটি কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার কাঠামোয় যুক্ত। সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, NFSA’13-এর আওতায় রাজ্যে প্রায় ২.৫২ কোটি মানুষ কভারড, আর ৩.০ টাকা কেজি দরে চালসহ নানা সহায়তা দেওয়া হয়। এইসব প্রকল্পই আসাম দারিদ্র্য হ্রাসের মূল অবকাঠামো হিসেবে কাজ করছে বলে সরকার দাবি করে।

বারাক উপত্যকায় এর প্রভাব

এই নীতিগত লক্ষ্যের প্রভাব সরাসরি শিলচর, কাচার, হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মতো এলাকাতেও পড়বে। আসাম দারিদ্র্য হ্রাস যদি সত্যিই কার্যকর পথে এগোয়, তবে তা গ্রামীণ পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অসংগঠিত শ্রমিক এবং নারী-নির্ভর পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি আনতে পারে। বিশেষ করে বরাক উপত্যকায় যেখানে আয়ের বৈষম্য, চাকরির সুযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন নিয়মিত আলোচনায় থাকে, সেখানে এই ধরনের ঘোষণা রাজনৈতিক নয়, বাস্তব উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবেও দেখা হবে।

লালা টাউনের বহু পরিবার খাদ্যসাহায্য, রেশন সুবিধা, অরুণোদয় বা অন্যান্য সরকারি কল্যাণ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে BPL হার কমানোর লক্ষ্য স্থানীয়দের কাছে শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং নিজেদের জীবিকা ও সরকারি সুবিধা-প্রাপ্তির ভবিষ্যৎ প্রশ্ন। স্থানীয় প্রশাসন যদি এই লক্ষ্যের সঙ্গে গ্রাউন্ড-লেভেল তথ্য যাচাই, নতুন তালিকাভুক্তি ও প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করার কাজ জুড়ে দেয়, তবে এই পরিকল্পনার বাস্তব প্রভাব বেশি হবে।

লক্ষ্য পূরণ কতটা সহজ

তবে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ নয়। রাজ্যের BPL তালিকা, NFSA কভারেজ, অরুণোদয় উপভোক্তা বাছাই, আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো—সবকিছু একসঙ্গে এগোতে হবে। শুধু সরকারি সহায়তা নয়, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করাও জরুরি। কৃষি, গ্রামীণ উদ্যোগ, ছোট শিল্প, এবং দক্ষতা-ভিত্তিক কর্মসংস্থান বাড়ানো না গেলে দারিদ্র্যসীমা কমানোর লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা একদিকে সরকারের উন্নয়ন-অর্জনের দাবি তুলে ধরছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সাফল্যের পরিমাপের নতুন মানদণ্ডও তৈরি করছে। আসন্ন বছরগুলোতে রাজ্য সরকার যদি BPL জনসংখ্যা সত্যিই দ্রুত কমাতে পারে, তাহলে সেটি প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে। আর না পারলে, এই প্রতিশ্রুতি পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসতে পারে।

আসাম দারিদ্র্য হ্রাসে পাঁচ বছরের লক্ষ্য, BPL ৩ শতাংশের নিচে নামানোর টার্গেট
Scroll to top