Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় FYUG ফলাফল বিতর্কে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা, ৭০-এ শূন্য পাওয়ার অভিযোগ

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় FYUG ফলাফল বিতর্ক ঘিরে বরাক উপত্যকার শিক্ষাঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচরের সদ্য প্রকাশিত FYUG অড সেমেস্টার পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার ফলাফল ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অনেকে মাত্র শূন্য থেকে ১০-১৫ নম্বর পেয়েছেন, অথচ তাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁদের উত্তরপত্র অনেক ভালো ছিল।

এই বিতর্কে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কাছাড়সহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ফলাফলের স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেছেন যে ৬০ নম্বরের উপরে পাওয়ার যোগ্য উত্তর লিখলেও তাঁরা মাত্র ১০-১৫ পেয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৭০ নম্বরের পরীক্ষায় শূন্য পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবেই হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পুনর্মূল্যায়নের দাবি

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় FYUG ফলাফল বিতর্ক দ্রুত একটি সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, “সম্প্রতি আসাম বিশ্ববিদ্যালয় শিলচর অড সেমেস্টারের ফলাফল প্রকাশ করেছে, এবং যা দেখা গেল তা মূল্যায়ন নয় — এটা আমাদের ভবিষ্যতের সঙ্গে তামাশা।” শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন, স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছেন।

এই ফলাফল নিয়ে সমস্যা শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ নয়। BBA, BCA, BVoc IT ও কমার্স বিভাগের ফলাফল ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, তবে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ফলাফল তখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলাফল প্রকাশে এই দীর্ঘ বিলম্বও শিক্ষার্থীদের হতাশার একটি বড় কারণ। পরীক্ষা নভেম্বর ২০২৫-এ হয়েছে, অথচ ফলাফল পেতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লেগেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিলেন।

FYUG ব্যবস্থা মূল্যায়নে স্বচ্ছতার প্রশ্ন

নতুন শিক্ষানীতি (NEP 2020) কার্যকর হওয়ার পর চার বছর মেয়াদী FYUG (Four-Year Undergraduate) কোর্স চালু হয়েছে দেশজুড়ে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ২০২৩ সাল থেকে এই কাঠামোয় পড়াশোনা শুরু হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় মূল্যায়ন পদ্ধতি, গ্রেডিং কাঠামো এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই শুরু থেকে জটিলতা দেখা গেছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিতর্ক সেই বৃহত্তর সমস্যারই একটি প্রকাশ কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ফলাফলের কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আসেনি। কে কীভাবে মূল্যায়ন করলেন, কোন মানদণ্ডে নম্বর দেওয়া হলো — এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অজানা থাকায় শিক্ষার্থীরা আরও বেশি হতাশ হয়ে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।

বরাক উপত্যকা কাছাড়ের শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রভাব

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় FYUG ফলাফল বিতর্ক বরাক উপত্যকার হাজার হাজার পরিবারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি জেলার বহু শিক্ষার্থী আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়াশোনা করেন। লালা টাউনসহ হাইলাকান্দি জেলার ছেলেমেয়েরাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। একটি ভুল বা অযৌক্তিক ফলাফল কেবল একজন শিক্ষার্থীর গ্রেড কার্ডেই প্রভাব ফেলে না — তাঁর বৃত্তি, চাকরির আবেদন, উচ্চশিক্ষার ভর্তি সুযোগ — সবকিছু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কাছাড় জেলার শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সরব হয়েছেন বলে জানা গেছে। বরাক উপত্যকার অভিভাবকরাও শঙ্কিত, কারণ তাঁদের সন্তানরা কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং এখন হতাশাজনক ফলাফলের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সামনে কী করণীয়

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় FYUG ফলাফল বিতর্কে শিক্ষার্থীদের দাবি স্পষ্ট — তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) ও রাজ্য উচ্চশিক্ষা বিভাগের কাছেও বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কিছু শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে NEP বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা একটি জরুরি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা সেই সমস্যার দিকে একটি সরাসরি আলো ফেলছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কতটা দ্রুত সাড়া দেয় এবং যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় — সেটাই এখন সবার নজরে।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয় FYUG ফলাফল বিতর্কে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা, ৭০-এ শূন্য পাওয়ার অভিযোগ
Scroll to top