PMAY 2.0 আসাম বাড়ি অনুমোদনের সংখ্যায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৬ জুন সামাজিক মাধ্যম X-এ জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দ্বিতীয় সংস্করণ অর্থাৎ PMAY 2.0-এর আওতায় আসামে নতুন করে আরও ১৬,৮১০টি বাড়ি অনুমোদন পেয়েছে। ২৯ মে ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্য ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে ২২০.১২ কোটি টাকা পেয়েছে এবং আরও ২৭,৫৪৪টি বাড়ি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই প্রকল্প আসামের অগণিত পরিবারের জীবন বদলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এই নতুন অনুমোদন আসামের হাজারো পরিবারকে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” এই ঘোষণা রাজ্যের বহু আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
PMAY 2.0 আসাম বাড়ি অনুমোদন: প্রকল্পের পরিধি ও অগ্রগতি
PMAY 2.0 অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা আরবান ২.০ কার্যকর হয়েছে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে। PMAY-Urban-এর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১২৫.৩১ লক্ষ বাড়ি মঞ্জুর হয়েছে, তার মধ্যে ৯৮.১ লক্ষ বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আসামের ক্ষেত্রে PMAY-U এবং PMAY-U 2.0 মিলিয়ে রাজ্যে ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬২৬টি বাড়ি মঞ্জুর হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬৬৬টি বাড়ি সম্পন্ন হয়ে সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ আসামে পঞ্চায়েত ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী রঞ্জিত কুমার দাস ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে PMAY-Gramin প্রকল্পে আসামে ১৭.২০ লক্ষ বাড়ির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে মোট ২৯ লক্ষ বাড়ি মঞ্জুর হয়েছে, যার মধ্যে ২১.৫০ লক্ষ বাড়ি ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৫তম অর্থ কমিশনের আওতায় পঞ্চায়েত ও পল্লী উন্নয়ন দফতর ২০২১ সাল থেকে মোট ৫,৫৪৯ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে। এই বিশাল বিনিয়োগ আসামের গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দিচ্ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে।
আসাম গৃহনির্মাণ প্রকল্প সুবিধাভোগী: কীভাবে পাওয়া যায় সুবিধা?
PMAY 2.0 আসাম বাড়ি অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং সুবিধার কাঠামো বোঝা জরুরি। কেন্দ্রীয় সরকারের PMAY-G প্রকল্পে সুবিধাভোগী প্রতি ঘরের জন্য মোট ১.৩০ লক্ষ টাকা সহায়তা পান, যা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে DBT পদ্ধতিতে পাঠানো হয়। PMAY-Urban 2.0-এর আওতায় BLC (Beneficiary-Led Construction) পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নিজে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং কিস্তিতে অর্থ পান।
বরাক ভ্যালি অঞ্চলে PMAY-এর বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্য। বরাক ভ্যালিতে এই প্রকল্পে প্রথম কিস্তি হিসেবে ৮০,০০০ টাকা এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৯০,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাংকে পাঠানো হয়। হাইলাকান্দি জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় বহু পরিবার পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে এবং নতুন অনুমোদনের তালিকায় জেলার নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালা টাউন-সহ হাইলাকান্দি জেলার গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় PMAY-এর সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। যে সমস্ত পরিবার এখনও পাকা বাড়ির জন্য আবেদন করেননি, তাদের জন্য এই নতুন অনুমোদন চক্র একটি বড় সুযোগ। ব্লক অফিস বা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করে এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া সম্ভব।
PMAY ও নারীর ক্ষমতায়ন: আসামের বিশেষ উদ্যোগ
PMAY 2.0 আসাম বাড়ি অনুমোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই প্রকল্পে নারীর নামে বাড়ির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী রঞ্জিত কুমার দাস জানিয়েছেন, এই নীতির ফলে গ্রামীণ নারীদের সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং পরিবারে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
আসাম সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ৪০ লক্ষ মহিলাকে ‘লখপতি দিদি’ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। PMAY-এর বাড়ি এই নারীদের আর্থিক নিরাপত্তার একটি মূল স্তম্ভ। রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত ৮.০৫ লক্ষ মহিলা — যার মধ্যে বৃদ্ধা ও বিধবারাও রয়েছেন — তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শিতায় আসামের লক্ষ লক্ষ পরিবার আজ পাকা বাড়িতে বাস করছে। এই প্রকল্প শুধু ইট-পাথরের ঘর নয়, এটি পরিবারের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতীক।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অনুভূতির সাথে মিলে যায়।
নতুন ১৬,৮১০টি বাড়ির অনুমোদন এবং আরও ২৭,৫৪৪টি বাড়ি অনুমোদনের পথে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে যে আসামে PMAY 2.0-এর বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে চলছে। জুলাই মাসে বাজেট অধিবেশনে যখন পূর্ণ বরাদ্দ অনুমোদন হবে, তখন এই প্রকল্পের গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। হাইলাকান্দি জেলার যে পরিবারগুলো এখনও তালিকায় নেই, তাদের এখনই স্থানীয় ব্লক কার্যালয়ে যোগাযোগ করা উচিত — কারণ প্রতিটি নতুন অনুমোদন চক্রই কারো জীবন বদলে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে আসে।