আসামে গার্ডিয়ান মন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি ১৬ জন মন্ত্রীর কাছে আসামের বিভিন্ন জেলার গার্ডিয়ান দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানান। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমন্বয় জোরদার করা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা। হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী কৌশিক রায়কে, যা লালা টাউনসহ হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
গার্ডিয়ান মন্ত্রী ব্যবস্থা কী এবং কীভাবে কাজ করে
গার্ডিয়ান মন্ত্রী ব্যবস্থা আসামে প্রথম চালু হয়েছিল ২০২১ সালে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে প্রথম সরকার গঠনের পরপরই। পূর্বের ‘ইন-চার্জ মন্ত্রী’ ব্যবস্থার তুলনায় এই পদ্ধতিতে মন্ত্রীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি গার্ডিয়ান মন্ত্রীকে মাসে অন্তত একবার নিজের জেলায় যেতে হয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যাবতীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করতে হয় ।
ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গার্ডিয়ান মন্ত্রীরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিলে একটি ‘ভিশন ডকুমেন্ট’ তৈরি করবেন, পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে বের করবেন। এছাড়া দুর্যোগের সময়, যেমন বন্যা বা ঝড়ের পরিস্থিতিতে তাদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা X পোস্টে লিখেছেন, “এই বণ্টন ঘোষণা করতে পেরে আমি খুশি। আমি আশা রাখি, মন্ত্রীরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং আসামের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে যাত্রা আরও ত্বরান্বিত করবেন।”
কোন মন্ত্রী পেলেন কোন জেলার দায়িত্ব
PTI ও ইন্ডিয়া টুডে নর্থ-ইস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ জন মন্ত্রীর মধ্যে জেলা বণ্টন নিম্নরূপ: রামেশ্বর তেলিকে দেওয়া হয়েছে তিনসুকিয়া ও জোড়হাট, অতুল বোরাকে কামরূপ (মেট্রো) ও ধেমাজি। চরণ বোরো পেয়েছেন কোকরাঝাড়, বাক্সা ও চিরাং, অজন্তা নেওগ পেয়েছেন মরিগাঁও ও কামরূপ। অশ্বিনী রায় শর্কার পেয়েছেন বঙাইগাঁও ও বরপেটা, অশোক সিংঘালকে দেওয়া হয়েছে দরং ও ধুবড়ি। বিমল বোরা পেয়েছেন শিবসাগর ও চরাইদেও, বিশ্বজিৎ দৈমারী পেয়েছেন নলবাড়ি ও শোণিতপুর।
জয়ন্ত মল্লবরুয়া পেয়েছেন তামুলপুর ও গোয়ালপাড়া, কৌশিক রায়কে দেওয়া হয়েছে শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি, কেশব মহন্তকে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর ও উত্তর লখিমপুর, এবং কৃষ্ণেন্দু পালকে দেওয়া হয়েছে ডিমা হাসাও ও কাছাড়। নীলিমা দেবী পেয়েছেন বাজালি ও উদালগুড়ি, পীযূষ হাজরিকাকে দেওয়া হয়েছে নগাঁও, হোজাই, কার্বি আংলং ও পশ্চিম কার্বি আংলং। রনজ পেগু পেয়েছেন বিশ্বনাথ ও গোলাঘাট, এবং সুশান্ত বরগোহাঁই পেয়েছেন মাজুলি ও ডিব্রুগড় ।
হাইলাকান্দি জেলায় প্রভাব: লালা টাউনের প্রেক্ষাপট
আসামে গার্ডিয়ান মন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণায় হাইলাকান্দি জেলাবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। মন্ত্রী কৌশিক রায় সম্প্রতি শিলচরে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে বরাক উপত্যকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি কাছাড়, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে ।
লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের জন্য এই নিয়োগ নতুন প্রত্যাশার দুয়ার খুলে দিয়েছে। গার্ডিয়ান মন্ত্রীর সরাসরি পর্যবেক্ষণের ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও গতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ এই অঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও মন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ৫ জুন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরপরই জানিয়েছিলেন যে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত গার্ডিয়ান মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে মন্ত্রীরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারেন ।
ভবিষ্যৎ কর্তব্য ও প্রত্যাশা
গার্ডিয়ান মন্ত্রী ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি মন্ত্রীকে নিয়মিত জেলা সফর করতে হবে এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে। পাশাপাশি জনগণের অভিযোগ নিষ্পত্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জেলার সম্পদ-ভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরিও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থা রাজ্য সরকারকে জেলাস্তরে আরও জবাবদিহিমূলক করে তোলে এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে এই ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে মন্ত্রীরা কতটা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন তার উপর।
হাইলাকান্দি জেলার মানুষ এখন প্রত্যাশায় রয়েছেন যে গার্ডিয়ান মন্ত্রী কৌশিক রায়ের সক্রিয় নজরদারিতে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-ঘাটতি কাটানো সম্ভব হবে। লালা টাউনসহ গোটা জেলায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা বিস্তার এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই নিয়োগ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।