Read today's news --> ⚡️Click here 

কৌশিক রাই কৃষ্ণেন্দু পাল দপ্তর ঘোষণা: বারাক পেল হিমন্ত ২.০-এ দ্বৈত প্রতিনিধিত্ব

আসামের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন। ৮ জুন ২০২৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘোষণা করেন এবং বারাক উপত্যকার দুই বিধায়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন। লখিপুরের বিধায়ক কৌশিক রাইকে দেওয়া হয়েছে খাদ্য, গণবণ্টন ও ভোক্তা বিষয়ক এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক দপ্তর। অন্যদিকে পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল পেয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পার্বত্য অঞ্চল এবং সর্বাধিক প্রতীক্ষিত বারাক ভ্যালি উন্নয়ন দপ্তর। কৌশিক রাই কৃষ্ণেন্দু পাল দপ্তর বণ্টনের এই সিদ্ধান্ত বারাক উপত্যকায় স্বাগত জানানো হচ্ছে, কারণ একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এলাকার দুই প্রতিনিধির হাতে এল ।

নতুন দপ্তর বণ্টন: কে কী পেলেন

৫ জুন গুয়াহাটির জ্যোতি-বিষ্ণু আন্তর্জাতিক অডিটোরিয়ামে বারোজন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার তিন দিন পর ৮ জুন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দপ্তর বণ্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন । কৌশিক রাইকে এবার আবাসন ও নগর বিষয়ক দপ্তর দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর আগের মেয়াদের দায়িত্বের চেয়ে আলাদা। কৃষ্ণেন্দু পাল পেলেন বারাক ভ্যালি উন্নয়ন দপ্তর, যেটি ২০২৪ সালে নতুন করে তৈরি হয়েছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও পার্বত্য অঞ্চলের মতো কার্যকর দপ্তরও তাঁর পোর্টফোলিওতে এল ।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “আজ আমরা মাননীয় মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করব, যাতে আমরা একসঙ্গে আসামের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ শুরু করতে পারি” । কৌশিক রাই কৃষ্ণেন্দু পাল দপ্তর বণ্টন নিয়ে ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বারাক উপত্যকার রাজনৈতিক মহলে এটি “দ্বৈত প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায়” হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে ।

বারাক ভ্যালি উন্নয়ন দপ্তর কৃষ্ণেন্দু পালের হাতে

বারাক ভ্যালি উন্নয়ন দপ্তর তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, কেন্দ্রীয় সরকারের DONER মন্ত্রকের আদলে। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামো তৈরি করা। আগের মেয়াদে দপ্তরটি কৌশিক রাইয়ের হাতে ছিল। এবার সেটি কৃষ্ণেন্দু পালের হাতে গেল, যা দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে ।

কৃষ্ণেন্দু পাল তাঁর আগের মেয়াদে বারাক নদীর উপর ছয়টি সেতু এবং লংগাই নদীর উপর চারটি সেতু অনুমোদনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। একটি এক্সপ্রেসওয়ের বিষয়েও আলোচনা চলছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এখন বারাক ভ্যালি উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়ে সেই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারক করার সরাসরি ক্ষমতা তাঁর হাতে এল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর পেলে পানীয় জল, নিকাশি ও গ্রামীণ পরিকাঠামোর কাজেও বাড়তি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে ।

অভিভাবক জেলা: হাইলাকান্দিতে কৌশিক রাই

দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ১৬ জন মন্ত্রীকে ‘অভিভাবক জেলা’ (Guardian District) বরাদ্দ দিয়েছেন, যাতে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। বারাক উপত্যকার তিনটি জেলা ভাগ করা হয়েছে দুই মন্ত্রীর মধ্যে—কৌশিক রাই পাচ্ছেন শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি, আর কৃষ্ণেন্দু পালের হাতে থাকছে কাছাড় এবং ডিমা হাসাও ।

এই সিদ্ধান্তটি লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক। কৌশিক রাই হাইলাকান্দির অভিভাবক মন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের নজরদারি করবেন, জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে মাঠে নজর রাখবেন। লালা টাউনের মতো এলাকায়, যেখানে সড়ক সংযোগ, বাজার পরিকাঠামো ও সরকারি পরিষেবার সুযোগ এখনও অপর্যাপ্ত, এই প্রত্যক্ষ মন্ত্রিত্বের দায়বদ্ধতা বাস্তব পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে ।

প্রত্যাশা বাস্তবতা

কৌশিক রাই কৃষ্ণেন্দু পাল দপ্তর বণ্টনকে কেন্দ্র করে বারাক উপত্যকার মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি বাস্তব কাজের প্রশ্নও সামনে আসছে। আগের মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর গুয়াহাটি থেকে বারাক উপত্যকায় ফেরার সময় দু’জনকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। কয়েকশো দলীয় কর্মী ও সমর্থক তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন । এবার নতুন দপ্তর নিয়ে প্রত্যাশার পারদ আরও উঁচুতে।

কৌশিক রাই সেই সময় বলেছিলেন, “বারাক উপত্যকার উন্নয়ন বহু বছর পিছিয়ে পড়েছিল। অর্থবহ আলোচনা ও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সমৃদ্ধির একটি রোডম্যাপ তৈরি করব” । এবার দপ্তর বদলের পরেও সেই প্রতিশ্রুতির মূল্যায়ন হবে কাজের মানদণ্ডে। হাইলাকান্দির বাসিন্দারা এখন দেখতে চান, ঘোষণা মাঠে কতটা রূপ নেয়। হিমন্ত ২.০ মন্ত্রিসভায় বারাক উপত্যকার দুই প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং কৌশিক রাই কৃষ্ণেন্দু পাল দপ্তর বণ্টনের এই নতুন বিন্যাস রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ইতিবাচক সংযোজন। ২০১৬ সালে BJP ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম বারাক উপত্যকা থেকে একসঙ্গে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী পদ পেলেন এবং হাইলাকান্দিসহ তিনটি জেলার সরাসরি তদারকিতে তাঁদের যুক্ত করা হল । আগামী মাসগুলোতে তাঁদের কাজের অগ্রগতিই বলবে, এই প্রশাসনিক বিশ্বাসের বিনিময়ে উপত্যকার মানুষ কতটা প্রতিদান পাচ্ছেন।

কৌশিক রাই কৃষ্ণেন্দু পাল দপ্তর ঘোষণা: বারাক পেল হিমন্ত ২.০-এ দ্বৈত প্রতিনিধিত্ব
Scroll to top