Read today's news --> ⚡️Click here 

উধারবন্দে চা শ্রমিক বাস দুর্ঘটনায় বরসিঙ্গায় ৪০-এর বেশি আহত, তদন্তে পুলিশ

আসামের কাছাড় জেলার উধারবন্দে চা শ্রমিক বাস দুর্ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২২ জুন ২০২৬ বিকেলে উধারবন্দের বরসিঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। লার্জসিং চা এস্টেট থেকে পালোরবন্দের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস বরসিঙ্গার কাছে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে উধারবন্দ হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তাঁদের সহায়তায় আহত শ্রমিকদের একে একে বের করে আনা হয় এবং চিকিৎসার জন্য উধারবন্দ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইন্ডিয়া টুডে নর্থইস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্তাধীন রয়েছে এবং উধারবন্দ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বরসিঙ্গায় ঠিক কী ঘটেছিল

বিকেলবেলায় কাজ শেষ করে শ্রমিকরা লার্জসিং চা এস্টেট থেকে পালোরবন্দের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বরসিঙ্গা এলাকায় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল — চালকের ভুল, অতিরিক্ত গতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি সড়কের অবস্থা — এই বিষয়গুলো তদন্তে বের হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তা হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত আহতের সংখ্যা এবং তাঁদের পরিচয় এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারিভাবে সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি।

নর্থইস্ট লাইভের ভিডিও প্রতিবেদনেও ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৪০ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই যেভাবে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন, তা এই সংকটের মুহূর্তে মানবিক সংহতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

চা বাগান শ্রমিকদের পরিবহণ সংকট: পুরনো সমস্যা

উধারবন্দে চা শ্রমিক বাস দুর্ঘটনা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আসামজুড়ে চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিদিনের যাতায়াত অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো, রক্ষণাবেক্ষণহীন যানবাহনের উপর নির্ভরশীল। বাগান কর্তৃপক্ষের পরিবহণ না থাকলে অনেক শ্রমিক ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস বা ভ্যানে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করেন। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় থাকে।

২০২৩ সালে কাছাড়েরই বার্থাল-থাইলু চা বাগান এলাকায় একটি ওভারলোডেড ভ্যান উল্টে ৩১ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাসেও নাজিরায় এমনই একটি দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন চা শ্রমিক আহত হন, যাঁদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন বলে আসাম টাইমস জানিয়েছে। এই পুনরাবৃত্তিমূলক দুর্ঘটনাগুলো প্রশ্ন তুলছে— শ্রমিকদের পরিবহণ নিরাপত্তায় বাগান কর্তৃপক্ষ ও পরিবহণ বিভাগের দায়িত্ব কতটুকু পালিত হচ্ছে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির শ্রমিকদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা

কাছাড়ের এই উধারবন্দে চা শ্রমিক বাস দুর্ঘটনা বরাক উপত্যকার সব জেলার জন্যই উদ্বেগের বিষয়। হাইলাকান্দি জেলায়, বিশেষ করে লালা টাউন ও তার আশপাশের এলাকায় চা বাগান শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সংখ্যা কম নয়। প্রতিদিন ভোরে বাগানে গিয়ে সন্ধেয় ফেরার এই দীর্ঘ যাত্রা অনেক শ্রমিক পরিবারের জন্য নিত্যকার উদ্বেগের কারণ।

এই অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও শ্রমিক পরিবহণ ব্যবস্থার নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনও পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি বলে স্থানীয়দের মত। পালোরবন্দের মতো চা বাগান এলাকার সড়কগুলো মৌসুমি বৃষ্টিতে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুলিশি তদন্ত প্রশাসনের পদক্ষেপ

উধারবন্দ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চালকের বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না, গাড়িটির ফিটনেস ছিল কি না, এবং ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ছিলেন কি না — এসব বিষয় তদন্তে বের করার চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুতর আহতদের অবস্থার উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

এলাকায় এই ঘটনার পর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দাবি তুলছেন, শ্রমিকবাহী যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা ও ওভারলোডিং রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। চা বাগান কর্তৃপক্ষকেও শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবহণের দায়িত্ব নিতে হবে বলে অনেকে মত দিচ্ছেন।

এই দুর্ঘটনাটি কেবল একটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর নয়। এটি আসামের চা বলয়ে কর্মজীবী মানুষের প্রতিদিনের বিপদের একটি তীক্ষ্ণ অনুস্মারক। আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে — চা বাগানের শ্রমিকরা কি নিরাপদ পরিবহণ পাওয়ার অধিকার রাখেন না? সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় এখন প্রশাসন, বাগান কর্তৃপক্ষ ও পরিবহণ বিভাগ সবার।

উধারবন্দে চা শ্রমিক বাস দুর্ঘটনায় বরসিঙ্গায় ৪০-এর বেশি আহত, তদন্তে পুলিশ
Scroll to top