অসমের শ্রীভূমি জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল পুলিশ। শ্রীভূমিতে ইয়াবা উদ্ধার করে প্রায় ২.৪ কোটি টাকার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) ভোররাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এই তথ্য প্রকাশ করে জানান, শ্রীভূমি পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, “এই চালানটি অবৈধ পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এটি যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারত।”
কীভাবে শ্রীভূমিতে ইয়াবা উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সন্দেহভাজন গতিবিধির উপর নজর রেখে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় একটি যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালালে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। এই মাদকগুলি অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে এর চাহিদা বাড়ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
একজন পুলিশ আধিকারিক জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের পাচারচক্রের উপর নজর রাখছিলাম। এই অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে।” ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সরবরাহ চক্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অসমে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার
গত কয়েক বছরে অসম সরকার মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার জানিয়েছেন যে, রাজ্যকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযান শুধু মাদক জব্দেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো পাচার চক্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বরাক ভ্যালি ও হাইলাকান্দির প্রেক্ষাপট
শ্রীভূমি জেলার এই ঘটনা বরাক ভ্যালি অঞ্চলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। হাইলাকান্দি ও লালা টাউনসহ আশপাশের এলাকাগুলিতে মাদক পাচারের সম্ভাব্য রুট নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
লালার এক শিক্ষক জানান, “মাদক সমস্যাটি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সচেতনতা ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়।” প্রশাসনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই পাচারচক্রের বিস্তার এবং এর পেছনে থাকা মূল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, “অসম জুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” প্রশাসনের মতে, এই ধরনের অভিযান মাদক পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শ্রীভূমিতে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে, মাদকবিরোধী লড়াই এখনও চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং সমাজের সচেতনতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।