
৩৯ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার অসম সফরে এসে রাজ্যের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে জোরদার আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। বুধবার শিবসাগর জেলার ঐতিহাসিক শহর নাজিরায় বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়ার সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করে মহিলাদের জোরপূর্বক বিজেপির রাজনৈতিক সভাগুলিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জনসভায় না গেলে সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন।
এদিন ডিব্রুগড়ের মোহনবাড়ি বিমানবন্দরে নেমে সোজা নাজিরায় পৌঁছন প্রিয়াঙ্কা। সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার যে কোনও কর্মসূচিতেই রাজ্যের মহিলাদের যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “প্রতিটি বাড়ির মহিলারাই আজ চরম সমস্যায় রয়েছেন। তাঁরা কি বাড়ির দৈনন্দিন কাজ সামলাবেন, নাকি রোজগারের জন্য চা-বাগানে যাবেন, নাকি জনসভায় যোগ দেবেন? সরকারি প্রকল্প এভাবে চলতে পারে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই জনকল্যাণমূলক সুবিধাগুলি আসলে জনসাধারণের টাকার অধিকার এবং কোনও শর্ত ছাড়াই তা পাওয়ার স্বাধীনতা মানুষের রয়েছে। এটি সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব কোনও সম্পত্তি নয়।
মহিলাদের পাশাপাশি চা-বাগান শ্রমিক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের বঞ্চনার ইস্যুও এদিনের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল প্রিয়াঙ্কার। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপি আগে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার সামান্যই বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে, গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও একাধিক আদিবাসী ও উপজাতি সম্প্রদায়কে ‘তফসিলি উপজাতি’ বা এসটি (ST) মর্যাদা দিতে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর মতে, প্রতিটি নির্বাচনে এই একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সরকারের কোনো সদিচ্ছাই নেই।
কেন্দ্রের মোদী সরকারকেও এদিন জোড়া ফলায় বিদ্ধ করেন প্রিয়াঙ্কা। নির্বাচন মিটলেই দেশে পেট্রোলের দাম ফের বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি, বিজেপির বহুল চর্চিত ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-কে ‘ডাবল দাসত্ব’-এর তকমা দেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী এখন আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং অসমের নেতৃত্বও অন্ধের মতো সেই একই দাসত্বের পথ অনুসরণ করছে। পরিশেষে, জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গর্গের স্বপ্নের এক দুর্নীতিমুক্ত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুযোগে ভরা নতুন অসম গড়তে সাধারণ মানুষকে ভয়ের রাজনীতি দূরে সরিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।