ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল আদমশুমারি Census 2027-এর হাউসলিস্টিং পর্বে আসাম রাজ্যের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে Press Information Bureau (PIB)। এই সময়সূচি অনুযায়ী, আসামে Census 2027 হাউসলিস্টিং কার্যক্রম শুরু হবে ১৭ আগস্ট ২০২৬ এবং চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত — মোট ৩০ দিন ধরে সারা রাজ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন গণনাকারীরা। এর আগে, ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ দিনের একটি self-enumeration উইন্ডো খোলা থাকবে, যেখানে নাগরিকরা নিজেরাই অনলাইনে তাদের তথ্য পূরণ করতে পারবেন। আসামের এই সময়সূচি সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে শেষ ধাপের একটি — যার পরেই কেবল মণিপুর রয়েছে।
কেন আসাম সবচেয়ে পরে? জাতীয় সময়সূচিতে আসামের অবস্থান
Census 2027-এর হাউসলিস্টিং পর্ব সারা ভারতে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে অন্ধমান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, গোয়া, কর্ণাটক, লক্ষদ্বীপ, মিজোরাম, ওডিশা এবং সিকিমে ১৬ এপ্রিল থেকে হাউসলিস্টিং শুরু হয়েছে। রাজ্যওয়ারি সময়সূচি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, কিন্তু আসামের ক্ষেত্রে PIB নিশ্চিত করেছে যে self-enumeration শুরু হবে ২ আগস্ট এবং field operations শুরু হবে ১৭ আগস্ট।
আসাম Census 2027 হাউসলিস্টিং-এর সময়সূচি তুলনামূলকভাবে পরে রাখার একটি কারণ হতে পারে রাজ্যের চলমান বিধানসভা নির্বাচন। ভারতের নির্বাচন কমিশন ও আদমশুমারি কর্তৃপক্ষ সাধারণত বড় নির্বাচনের সাথে আদমশুমারি কার্যক্রম সাংঘর্ষিক না রাখার নীতি মেনে চলে। আসামের বিধানসভা ভোট ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসে সম্পন্ন হচ্ছে, তাই আগস্টে হাউসলিস্টিং শুরু করা প্রশাসনিক দিক থেকে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।
Census 2027-এর নতুন বৈশিষ্ট্য: ডিজিটাল পদ্ধতি ও জাতিগণনা
Census 2027 ভারতের ষোলতম আদমশুমারি এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম — কিন্তু এটি প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এবার থেকে কাগজের ফর্ম ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে — গণনাকারীরা স্মার্টফোনভিত্তিক mobile app ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং real-time-এ তা কেন্দ্রীয় server-এ আপলোড হবে। এই app-টি অফিস অব দ্য রেজিস্ট্রার জেনারেল ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে।
Self-enumeration সুবিধাটি সম্পূর্ণ নতুন। এই পদ্ধতিতে একজন নাগরিক নিজেই অনলাইন পোর্টাল বা mobile app-এ গিয়ে তাঁর পরিবারের তথ্য পূরণ করতে পারবেন। একটি unique Self-Enumeration ID তৈরি হবে, যা পরে গণনাকারীর কাছে দেখাতে হবে। পুরো পোর্টাল ও app ১৬টি ভাষায় পাওয়া যাবে, যার মধ্যে বাংলা এবং অসমিয়াও থাকবে।
Census 2027-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন হল জাতিগণনা বা Caste Census। ২০২৫ সালের জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করে যে এবারের আদমশুমারিতে জাতি-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহও করা হবে — যা স্বাধীনতার পর এই প্রথম। আসামের CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, এই জাতিগণনা বিশেষত আসামের আদি মুসলিম সম্প্রদায়ের — যারা ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকা উভয়েই বসবাস করেন — জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে, কারণ এই গণনার মাধ্যমে তারা তাদের পৃথক সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার জন্য Census 2027-এর বিশেষ তাৎপর্য
আসাম Census 2027 হাউসলিস্টিং হাইলাকান্দি জেলা তথা লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ — এবং এর কারণ শুধু গণনা নয়, এর দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব। জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ, স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং ভবিষ্যতের Delimitation। বরাক উপত্যকার মতো একটি বহু-ভাষিক ও বহু-ধর্মীয় অঞ্চলে সঠিক জনগণনা নিশ্চিত করা তাই অত্যন্ত জরুরি।
বরাক উপত্যকায় আদি মুসলিম, বাঙালি হিন্দু, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, চা-বাগান শ্রমিক এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন। Caste Census-এর মাধ্যমে এই সম্প্রদায়গুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত হলে ভবিষ্যতে তাদের জন্য সংরক্ষণ, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তাছাড়া, হাইলাকান্দির মতো প্রত্যন্ত জেলায় self-enumeration সুবিধাটি একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে — কারণ এতে নাগরিকরা নিজেরাই তাদের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে পারবেন, গণনাকারীর উপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং তথ্যের নির্ভুলতা বাড়বে।
কী করবেন হাইলাকান্দির বাসিন্দারা: Self-Enumeration-এর ধাপ
আসাম Census 2027 হাউসলিস্টিং শুরুর আগে ২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে প্রতিটি পরিবারের কাছে অনুরোধ থাকবে যে তারা online self-enumeration সম্পন্ন করুন। এর জন্য যা করতে হবে:
প্রথমত, সরকারি census পোর্টালে (বা mobile app-এ) নিজের mobile number দিয়ে login করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য — নাম, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, ধর্ম, মাতৃভাষা ও জাতি — সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। তৃতীয়ত, তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি unique Self-Enumeration ID পাওয়া যাবে, যা গণনাকারীর কাছে দেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। ১৭ আগস্ট থেকে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি আসবেন এবং এই ID যাচাই করে তথ্য নিশ্চিত করবেন। যারা self-enumeration করতে পারবেন না, তাদের তথ্য গণনাকারীরাই সংগ্রহ করবেন।
২০২১ সালে COVID-19 মহামারির কারণে ভারতের সেই বছরের আদমশুমারি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর থেকে বারবার পিছিয়েছে। ফলে গত পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের কোনো হালনাগাদ জনগণনা হয়নি। এই দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৭-এর আদমশুমারি শুধু একটি সংখ্যার নিরীক্ষা নয় — এটি দেশের ভবিষ্যত পরিকল্পনার ভিত্তিপ্রস্তর। হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের প্রতিটি পরিবারের সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা তাই নিছক নাগরিক দায়িত্ব নয় — এটি তাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য।