Read today's news --> ⚡️Click here 

হিমন্ত বিশ্বশর্মার TMC সমালোচনা: পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের শাসন দুর্বৃত্তনির্ভর ছিল, দাবি আসাম CM-এর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় সরাসরি নেমে পড়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রাজ্যের বাইরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে BJP-র হয়ে প্রচার করতে গিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-কে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মার TMC সমালোচনায় তিনি দাবি করেন যে পশ্চিমবঙ্গে TMC-র ১৫ বছরের শাসনকাল মূলত দুর্বৃত্ত ও অপরাধী উপাদানের উপর নির্ভরশীল ছিল।  রাজ্যটির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে BJP ক্ষমতায় আসতে মরিয়া।

হিমন্তের প্রচার বক্তৃতা: TMC-কে কী অভিযোগে আক্রমণ করলেন

আসামের CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী সভায় বলেন যে TMC প্রায় দেড় দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে এবং এই শাসনের ভিত্তি ছিল দুর্বৃত্ত ও অপরাধীদের প্রশ্রয়। তাঁর ভাষায়, রাজ্যের মানুষ এতদিন ধরে যে শাসন দেখে এসেছেন তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং নির্বাচনী হিংসা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরিতে এই দুর্বৃত্তরাজ সরাসরি দায়ী।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার TMC সমালোচনা এই প্রথম নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে BJP-র জাতীয় প্রচার কমিটির একজন সক্রিয় মুখপাত্র হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। আসামে নিজে দুই মেয়াদে CM থাকার অভিজ্ঞতা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মুখ হিসেবে তাঁর পরিচিতি তাঁকে BJP-র কাছে মূল্যবান প্রচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বাংলাভাষী পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন এই নেতার উপস্থিতি BJP কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: BJP-TMC দ্বন্দ্বের পটভূমি

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন TMC ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে TMC। সেই থেকে টানা তিন দফায় পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে BJP ব্যাপক শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছিল কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন।

হিমন্তের বক্তব্যে যে “দুর্বৃত্তরাজ”-এর অভিযোগ উঠে এসেছে, তা BJP-র দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় প্রচার বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। BJP বারবার দাবি করে আসছে যে পশ্চিমবঙ্গে TMC শাসনামলে বিরোধী দলের কর্মীরা রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছেন, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার একাধিক ঘটনা জাতীয় আলোচনায় এসেছে। TMC অবশ্য এই অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে এবং পাল্টা দাবি করেছে যে BJP কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

হিমন্তের TMC সমালোচনা আসামের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা

আসামের CM পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে গেলে তা স্বাভাবিকভাবেই আসামের রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা ২০২৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনের (৯ এপ্রিল ভোট, ৪ মে গণনা) পরপরই পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে নামলেন — যা দেখায় যে BJP-র জাতীয় নির্বাচনী কৌশলে তিনি কতটা কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন। আসামে BJP-র ভালো ফলের প্রত্যাশায় এবং নিজের নেতৃত্বের ক্ষমতা দেখাতে পশ্চিমবঙ্গের মঞ্চ ব্যবহার করা রাজনৈতিকভাবে কার্যকর কৌশল।

বরাক উপত্যকার দৃষ্টিকোণ থেকে এই রাজনৈতিক উন্নয়নটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জের বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও মানসিকভাবে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পশ্চিমবঙ্গে TMC বা BJP-র ভাগ্য কী হবে — তা বরাক উপত্যকার মানুষেরা সরাসরি আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করেন। লালা টাউনের বাসিন্দারাও এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিচ্ছিন্ন নন, কারণ আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ঢেউ এই অঞ্চলের মানুষের মনমানসিকতায় প্রভাব ফেলে।

হিমন্তের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই আক্রমণাত্মক প্রচারশৈলী BJP-র একটি সুচিন্তিত নির্বাচনী কৌশলের অংশ। পশ্চিমবঙ্গে TMC-কে “দুর্বৃত্তনির্ভর” বলে চিহ্নিত করা এবং ১৫ বছরের শাসনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা — এই বার্তাটি BJP পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখানো ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। বিশেষত যেসব এলাকায় স্থানীয় মানুষ TMC নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় অসন্তুষ্ট, সেখানে এই ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু বিরোধী দলের সমালোচনায় নির্বাচনী সাফল্য নিশ্চিত হয় না। পশ্চিমবঙ্গে BJP-কে ইতিবাচক বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই সফর ও বক্তৃতা জাতীয় সংবাদমাধ্যমে BJP-র প্রচারকে দৃশ্যমান করেছে, কিন্তু চূড়ান্ত রায় দেবেন পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি ভোটার। হিমন্তের TMC সমালোচনা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা জানতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফলের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার TMC সমালোচনা: পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের শাসন দুর্বৃত্তনির্ভর ছিল, দাবি আসাম CM-এর
Scroll to top