Read today's news --> ⚡️Click here 

বিশ্ব বই দিবসে আসাম CM হিমন্তের আহ্বান: প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন

প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস পালিত হয়, আর এই বিশেষ দিনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সারা রাজ্যের মানুষকে পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম তিনি বলেন, বই পড়ার অভ্যাসই একটি চিন্তাশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ গড়ার মূল চাবিকাঠি। বিশ্ব বই দিবসে তাঁর এই বার্তা শুধু প্রতীকী নয় — এটি আসাম সরকারের একটি সুচিন্তিত দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত, যার সুফল বরাক উপত্যকার পাঠকদের কাছেও পৌঁছাচ্ছে।

CM হিমন্তের বার্তা: বই মনন চরিত্র গঠনের নিঃশব্দ শক্তি

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর বিশ্ব বই দিবসের পোস্টে বলেন, “বইয়ের নিঃশব্দ শক্তি মনকে গড়ে, দিগন্তকে প্রসারিত করে এবং চরিত্রকে শক্তিশালী করে — এই কথাটি আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাঠ্যাভ্যাস শুধু ব্যক্তির বিকাশে নয়, সমগ্র সমাজকে বৌদ্ধিকভাবে সমৃদ্ধ করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এই অভ্যাস গড়ে তুলে তা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি অনুরাগী করে তোলা হলে তাদের চিন্তন দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক বিচারবুদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসামের ‘বই পড়ার বছর’ ২,৫৯৭ পাঠাগার: কথার সঙ্গে কাজের মিল

এই বিশ্ব বই দিবসের আহ্বান আসলে একটি বৃহত্তর রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচির অংশ। আসামের রাজ্য মন্ত্রিসভা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২০২৫ সালকে ‘বই পড়ার বছর’ হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘Year of Reading’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং একটি বিস্তারিত কার্যক্রম প্রকাশ করেন।

তিনি Asombarta-কে জানান, “আসামে একটি বৌদ্ধিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ২০২৪ সালেই আমরা রাজ্য জুড়ে ২,৫৯৭টি পাঠাগার নির্মাণের জন্য ২৫৯.৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।” এই সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্য — রাজ্যের প্রায় প্রতিটি পঞ্চায়েত বা গ্রামস্তরে একটি করে নতুন পাঠাগার তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে ডিসেম্বর ২০২৫-এ সরকার ৮১৮ জন তরুণ লেখককে Young Writers Award প্রদানের ঘোষণা দেয় — যা রাজ্যে সাহিত্যচর্চার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আরেকটি পদক্ষেপ।

বিশ্ব বই দিবসের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ভারতের অবদান

বিশ্ব বই দিবস (World Book and Copyright Day) UNESCO কর্তৃক স্বীকৃত একটি বৈশ্বিক উদযাপন। প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল তারিখে এটি পালিত হয় কারণ এই দিনটিতেই ১৬১৬ সালে সাহিত্যের দুই দিকপাল — উইলিয়াম শেক্সপিয়র এবং মিগুয়েল দ্য সার্ভান্তেস — এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন (যদিও ভিন্ন পঞ্জিকার কারণে দুজনের মৃত্যুর মধ্যে প্রকৃত ব্যবধান দশ দিন)। ২০২৬ সালের বিশ্ব বই দিবসে UNESCO রাবাত (মরক্কো)-কে বিশ্ব বই রাজধানী ঘোষণা করেছে।

ভারতে এই উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (NBT) ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করে। জানুয়ারি ২০২৬-এ নয়াদিল্লিতে ‘রিডিং ইন্ডিয়া সম্বাদ ২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনের জাতীয় নেতৃত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে NEP ২০২০ ও ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর আলোকে দেশের পাঠ ও পাঠাগার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পথরেখা তৈরি করা হয়। রাষ্ট্রীয় ই-পুস্তকালয় প্রকল্পে ২৩টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় ৬,০০০-এরও বেশি বই বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার পাঠকদের জন্য কী সুযোগ আসছে

বিশ্ব বই দিবসে আসামের পাঠ্যাভ্যাস উন্নয়ন কার্যক্রম হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনসহ বরাক উপত্যকার পাঠকদের জন্যও সরাসরি সুযোগ নিয়ে আসছে। আসাম সরকারের ২,৫৯৭টি পাঠাগার নির্মাণ কর্মসূচির অধীনে হাইলাকান্দি জেলার গ্রামীণ এলাকায়ও নতুন পাঠাগার গড়ে ওঠার কথা। এটি বরাক উপত্যকার বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য বাংলা সাহিত্য, আসামি সাহিত্য ও অনুবাদ সাহিত্যের সহজলভ্যতা বাড়াবে।

একইসঙ্গে, সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডিজিটাল যুগে মুদ্রিত বইয়ের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বরাক উপত্যকার স্কুল ও কলেজগুলোতে পাঠক্লাব গঠন, বার্ষিক বইমেলা আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কারভিত্তিক পাঠ কর্মসূচি চালু করলে রাজ্যের এই সামগ্রিক উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে সফল করা সম্ভব।

পাঠ্যাভ্যাস আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ

বিশ্ব বই দিবসে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই আহ্বান এবং আসাম সরকারের বহু কোটি টাকার পাঠাগার নির্মাণ ও Young Writers Award কর্মসূচি একসঙ্গে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে — বই ও পাঠ্যাভ্যাস এখন আসামের রাজ্য নীতির অগ্রাধিকারে। ২০২৫-কে ‘বই পড়ার বছর’ ঘোষণার পর এখন ২০২৬ সালেও বিশ্ব বই দিবসে এই গতি অব্যাহত রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ২,৫৯৭টি নতুন পাঠাগার কতটা দ্রুত চালু হবে এবং তরুণ লেখকদের পুরস্কার কর্মসূচি কীভাবে রাজ্যের সাহিত্য পরিবেশকে বদলে দেবে — তার উপরই নির্ভর করবে এই আন্দোলনের প্রকৃত সাফল্য।

বিশ্ব বই দিবসে আসাম CM হিমন্তের আহ্বান: প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
Scroll to top