Read today's news --> ⚡️Click here 

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল অভিনন্দন: অকৃতকার্যদের বললেন “হতাশ হয়ো না”

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আজ ২৮ এপ্রিল উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল ২০২৬ প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যম একটি পোস্টের মাধ্যমে সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং অকৃতকার্যদের উৎসাহ দিয়েছেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল অভিনন্দন বার্তায় তিনি পরিষ্কার করেছেন যে এই ফলাফল কোনো শেষ গন্তব্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর যাত্রার শুরু মাত্র। ৩.৩ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর সামগ্রিক পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৮১.৫৪ শতাংশ।

CM-এর অভিনন্দন বার্তা: পরিশ্রম গুরুজনের আশীর্বাদকে কৃতিত্ব

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লিখেছেন, “এই বছর HS পরীক্ষায় উজ্জ্বলভাবে উত্তীর্ণ আমার সব তরুণ বন্ধুদের অভিনন্দন। তোমাদের বাবা-মা ও শিক্ষকদের আশীর্বাদ এবং তোমাদের নিজেদের কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতাই এই সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি।” এই মন্তব্যে CM শুধু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে নয়, পরিবার ও শিক্ষকের ভূমিকাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজ্যের সর্বোচ্চ নির্বাহীর এই স্বীকৃতি অসমের শিক্ষক ও অভিভাবক সমাজের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

তিনি আরও বলেছেন যে ভারত ও অসম উভয়েই তরুণ প্রজন্মের জন্য একাধিক ক্ষেত্রে বিশাল সুযোগ রয়েছে। এই পরীক্ষার ফলাফলকে তিনি “stepping stone” বা পরবর্তী পদক্ষেপের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল অভিনন্দনের ভাষায় কোনো রাজনৈতিক রং নেই — বরং একজন অভিভাবকের মতো আন্তরিক স্বরে তিনি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কথা বলেছেন।

অকৃতকার্যদের প্রতি CM-এর বিশেষ বার্তা

শুধু পাশ করা শিক্ষার্থীদের নয়, যারা এবার প্রত্যাশামতো ফলাফল করতে পারেননি তাদের জন্যও আলাদাভাবে বার্তা দিয়েছেন CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি লিখেছেন, “হতাশ হয়ো না। ফলাফলটা ভালো করে ভেবে দেখো, ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও এবং পরের বার এটি জয় করো। সবার প্রতি আমার আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা রইল।” এই বার্তাটি মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর অনেক কিশোর-কিশোরী গভীর হতাশায় ডুবে যায়, এমনকি চরম পদক্ষেপও নেন। রাজ্যের প্রধান নির্বাহী সরাসরি তাদের উদ্দেশে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ায় সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

এবারের ফলাফলে সামগ্রিক পাশের হার ৮১.৫৪% হওয়ার অর্থ প্রায় ১৮-১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাননি। এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মনে সাহস জোগানোর জন্য CM-এর এই বার্তা প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। কম্পার্টমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ থাকার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের জানা দরকার — যারা সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন তারা কম্পার্টমেন্ট পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

ASSEB-এর কঠোর পদক্ষেপ: ৪৯টি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল অভিনন্দন বার্তার পাশাপাশি আজ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এসেছে শিক্ষা মহলে। ASSEB এবার ৪৯টি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করেছে এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আরও কঠোর নিয়মকানুন চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুধু উৎসাহ নয়, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এর আগেও CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন অসমের শিক্ষা খাত উন্নয়নে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তিনি সারা রাজ্যে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের অগ্রগতির কথা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। এছাড়া বানিকান্ত কাকতি মেধা পুরস্কার প্রকল্পের আওতায় উচ্চমাধ্যমিকে শীর্ষ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরও উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রণোদনা দেয়। এবারের ফলাফল ঘোষণার আগে একটি ভুয়া নোটিশ ভাইরাল হওয়ার পর স্বয়ং CM সামাজিক মাধ্যমে ২৮ এপ্রিলের তারিখ নিশ্চিত করে বিভ্রান্তি দূর করেছিলেন।

হাইলাকান্দি লালার শিক্ষার্থীদের জন্য CM-এর বার্তার প্রাসঙ্গিকতা

CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল অভিনন্দন ও উৎসাহমূলক বার্তা হাইলাকান্দি জেলার লালা শহর ও বরাক উপত্যকার শিক্ষার্থীদের জন্যও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বরাক উপত্যকার এই অঞ্চলে সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি এবং অনেক পরিবার আর্থিকভাবে চাপে থাকায় সন্তানের পরীক্ষার ফলাফলের প্রতি তাদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ অনেক বেশি থাকে। যে শিক্ষার্থীরা এবার প্রত্যাশামতো ফলাফল পাননি, তাদের জন্য CM-এর বার্তা একটি সত্যিকারের মানসিক সহায়তা হতে পারে।

লালা শহর ও হাইলাকান্দির যেসব শিক্ষার্থী এবার পাশ করেছেন, তাদের সামনে এখন স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ খুলে গেছে। গুয়াহাটি, শিলচর ও ঢাকুয়াখানায় একাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার সময় এসেছে। অন্যদিকে, যারা অকৃতকার্য হয়েছেন তাদের জন্য পুনর্মূল্যায়ন ও কম্পার্টমেন্ট পরীক্ষার পথ উন্মুক্ত — হতাশ না হয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানোই হবে সঠিক পদক্ষেপ।

CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আজকের এই বার্তা অসমের শিক্ষা প্রশাসনের দুটি দিক স্পষ্ট করেছে। এক — সফলদের কৃতিত্ব দেওয়া এবং আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগানো। দুই — ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ কথা হিসেবে না দেখে পুনরায় চেষ্টার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতা তৈরি করা। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রশাসনিক কঠোরতা ও মানবিক উৎসাহ — দুটোরই যে প্রয়োজন, আজকের দিনে সেই বার্তাটি রাজ্যের সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছে পৌঁছে গেছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উচ্চমাধ্যমিক ফলাফল অভিনন্দন: অকৃতকার্যদের বললেন “হতাশ হয়ো না”
Scroll to top