Read today's news --> ⚡️Click here 

পাঁচ রাজ্য বিধানসভা ভোটগণনা ৪ মে — ৮২৪ আসনে ১৭.৪ কোটি ভোটারের রায় কাল প্রকাশ পাবে

ভারতের পাঁচটি বিধানসভা নির্বাচনের গণনা একযোগে ৪ মে সকাল ৮টায় শুরু হবে। অসম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি — এই পাঁচটি অঞ্চলে মোট ৮২৪টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ রাজ্য বিধানসভা ভোটগণনা ৪ মে-র এই মহাযজ্ঞে ১৭.৪ কোটিরও বেশি ভোটারের রায় প্রকাশিত হবে, যা ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

পাঁচ রাজ্যের আসন ভোটিং তারিখ — এক নজরে

ECI ঘোষিত নির্বাচন সূচি অনুযায়ী, পাঁচটি অঞ্চলের মধ্যে সর্বাধিক আসন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে — ২৯৪টি, যেখানে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট হয়েছে। তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনে ২৩ এপ্রিল একদফায় ভোট গ্রহণ হয়। কেরালায় ১৪০টি এবং অসমে ১২৬টি আসনে ৯ এপ্রিল একদফায় ভোট হয়েছে। পুদুচেরিতে ৩০টি আসনেও ৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সবকটি অঞ্চলের গণনা একযোগে ৪ মে নির্ধারিত হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার ১৫ মার্চ নতুন দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে এই সূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই নির্বাচনে ২০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেবেন। পাঁচ রাজ্য বিধানসভা ভোটগণনা ৪ মে সফলভাবে সম্পন্ন করতে ECI ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে — প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে CCTV নজরদারি, QR কোড-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পাঁচ রাজ্যের মূল রাজনৈতিক লড়াই

প্রতিটি রাজ্যেই এবার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্তালিন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছেন এবং নতুন মুখ হিসেবে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। কেরালায় বামফ্রন্ট ও UDF-এর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী লড়াই, এবং অসমে BJP-নেতৃত্বাধীন NDA তৃতীয় মেয়াদের সন্ধানে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে মোকাবিলা করছে।

মোট ভোটার সংখ্যার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে — পশ্চিমবঙ্গে ৬.৪৪ কোটি, তামিলনাড়ুতে ৫.৬৭ কোটি, কেরালায় ২.৭০ কোটি, অসমে প্রায় ২.২৫ কোটি (চূড়ান্ত গণনায় ২,৫০,৫৪,৪৬৩) এবং পুদুচেরিতে ৯.৪৪ লক্ষ ভোটার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর রায় ৪ মে সন্ধ্যার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর CEO-রা জানিয়েছেন।

অসম হাইলাকান্দি — স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা

পাঁচ রাজ্যের মধ্যে অসমের ফলাফল হাইলাকান্দি ও লালা শহরের বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। অসমে ১২৬টি আসনে ৮৫.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটারদের অংশগ্রহণের মধ্যে অন্যতম। হাইলাকান্দি জেলার তিনটি কেন্দ্র — হাইলাকান্দি, কটলিচেরা ও আলগাপুর — এর ফলাফল ৪ মে-র গণনায় প্রকাশিত হবে। কোন দল অসমে সরকার গঠন করে তার উপর নির্ভর করবে বরাক উপত্যকার উন্নয়ন বরাদ্দ, নদীবাঁধ সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের ভবিষ্যৎ।

পাঁচ রাজ্যেরই বিধানসভার মেয়াদ ২০২৬ সালের মে-জুন মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মেয়াদ ৭ মে, তামিলনাড়ুর ১০ মে, অসমের ২০ মে, কেরালার ২৩ মে এবং পুদুচেরির ১৫ জুন। সেই কারণেই ECI পাঁচটি অঞ্চলের ফলাফল একই দিনে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে নতুন সরকার গঠনে কোনো আইনি জটিলতা না হয়।

৪ মে-র সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনা প্রক্রিয়া ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। পাঁচ রাজ্য বিধানসভা ভোটগণনা ৪ মে-র ফলাফলের দিকে শুধু এই রাজ্যগুলোর মানুষ নয়, গোটা দেশের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। কোন দল কোন রাজ্যে ক্ষমতায় আসে, তার প্রভাব ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় রাজনৈতিক মঞ্চেও অনুভূত হবে।

পাঁচ রাজ্য বিধানসভা ভোটগণনা ৪ মে — ৮২৪ আসনে ১৭.৪ কোটি ভোটারের রায় কাল প্রকাশ পাবে
Scroll to top