অসম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই Congress দল BPF-কে জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল — এই অভিযোগ এখন নিজেই স্বীকার করলেন BPF প্রধান হাগ্রামা মহিলারি। হাগ্রামা Congress BPF যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যকে সঠিক বলে জানালেন। হাগ্রামা মহিলারি বলেছেন যে ফলাফলের দিনের আগেই Congress-এর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং জোট গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে BPF সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে NDA-র সঙ্গে তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থানেই অবিচল থেকেছে।
ফলাফলের আগে Congress-এর BPF-কে সংযোগ — কী ঘটেছিল?
হিমন্ত বিশ্বশর্মা প্রথমে দাবি করেছিলেন যে ফলাফলের দিনের আগেই Congress-পন্থী লোকজন BPF নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। অনেকে সেই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও এবার হাগ্রামা মহিলারি নিজেই সেই বক্তব্যকে সমর্থন করলেন। এটি রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ — কারণ হাগ্রামা মহিলারি সরাসরি Congress-এর পদক্ষেপের কথা নিজে থেকে নিশ্চিত করলেন, যা Congress-এর জন্য বিব্রতকর। NDTV-কে দেওয়া একটি পূর্বতন সাক্ষাৎকারে হাগ্রামা স্পষ্ট বলেছিলেন: “অসমে কংগ্রেসের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল ছিল না, তাই আমরা BJP-র সঙ্গে জোট বেঁধেছিলাম।” Congress-এর এই শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে বিরোধী শিবির নিজেরাও বুঝতে পেরেছিল তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে নেই এবং BPF-এর ১০টি (সম্ভাব্য) আসন তাদের জন্য মূল্যবান হতে পারত।
হাগ্রামা Congress BPF যোগাযোগের এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — এটি ২০২৬-এর অসম রাজনীতির একটি বড় ছবি উন্মোচন করে। BPF-এর ১০টি আসনের জয় এবং তাদের BTR অঞ্চলে একক প্রভাব — এই দুটি মিলিয়ে হাগ্রামাকে সত্যিকার অর্থেই “কিংমেকার” হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাগ্রামা নিজেই বলেছিলেন, “মানুষ আমাকে কিংমেকার হিসেবে দেখেছে এবং এবারেও তা সত্য হবে।” ফলে Congress-এর সেই যোগাযোগের চেষ্টা ছিল আসলে হাগ্রামার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলার একটি শেষ চেষ্টা।
হাগ্রামা-হিমন্ত সম্পর্ক ও BPF-NDA জোটের ইতিহাস
হাগ্রামা মহিলারি ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমশ মজবুত হয়েছে। হিমন্ত নিজেই বলেছেন: “হাগ্রামা মহিলারির সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে কিছু কারণে একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আমি CM হওয়ার প্রায় তিন মাস পর আমরা আবার মিলিত হই এবং সেটা সমাধান করি।” আর হাগ্রামা তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন: “BPF সবসময় BTC-র স্বার্থে কাজ করে। BTC-কে সমৃদ্ধ করতে হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা এখন NDA-তে আছি।”
২০২৫ সালের BTC নির্বাচনের ফলাফলও এই সম্পর্কের পটভূমি তৈরি করেছে l ৪০-আসনের BTC নির্বাচনে BPF ২৮টি আসন জিতে BJP-UPPL জোটকে হটিয়ে দেয়। BJP মাত্র ৫টি আসন পায় এবং Congress একটিও জেততে পারেনি। কিন্তু হিমন্ত সেই পরাজয়কে ইতিবাচক ভাষায় উপস্থাপন করে BPF-কে NDA-র অংশ বলে দাবি করেন এবং হাগ্রামাকে অভিনন্দন জানান। এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণেই ২০২৬ বিধানসভায় BJP-BPF জোট সফলভাবে কার্যকর হয়েছে — যেখানে BPF-কে BTR-এর ১১টি আসন দেওয়া হয় এবং BJP রাখে ৪টি।
অসম ও বরাক উপত্যকায় এই রাজনৈতিক গতিশীলতার প্রভাব
হাগ্রামা Congress BPF যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং BPF-এর NDA-র সঙ্গে অবিচল থাকার সিদ্ধান্ত অসমের বৃহত্তর রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। হাইলাকান্দি জেলা ও লালা শহরের রাজনৈতিক পরিবেশেও এই প্রতিধ্বনি অনুভূত হচ্ছে। বরাক উপত্যকায় Congress ঐতিহাসিকভাবে সংখ্যালঘু ও বাংলাভাষী ভোটারদের মধ্যে প্রভাবশালী। কিন্তু BTR অঞ্চলে BPF-কে জোটে পাওয়ার ব্যর্থতা এবং সামগ্রিকভাবে Congress-এর দুর্বল ফলাফল দলের রাজ্যজুড়ে কৌশলের প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
BTR-এর ১৫টি আসন অসমের বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক হিসেবে কাজ করে এবং হাগ্রামা সেই ব্লকটিকে NDA-র পক্ষে নিয়ে যেতে সফল হয়েছেন। লালা শহর ও হাইলাকান্দির মানুষ কাছের জেলাগুলোর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত — তাই BTR-এর ক্ষমতার সমীকরণ বরাক উপত্যকায়ও প্রভাব ফেলে, বিশেষত রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দে।
এই ঘটনাপ্রবাহ অসমের বিরোধী রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। Congress শেষ মুহূর্তে BPF-কে কাছে টানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই ব্যর্থতার কথা এখন প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধীদের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে কীভাবে সংশোধন হবে এবং BPF সত্যিকার অর্থে NDA-র স্থায়ী অংশ হিসেবে থাকবে কিনা — এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অসমের আগামী রাজনীতি নির্ধারণ করবে। হাগ্রামা মহিলারির স্বীকারোক্তি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে — BJP-BPF জোট কেবল একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়, এটি উভয় পক্ষের পারস্পরিক আস্থার ফসল।