Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলং বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত — মেঘালয়ের CM বললেন উত্তর-পূর্বের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ

শিলং বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় অনুমোদন পাওয়া গেছে — এই ঘোষণা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্রের পর মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা এই প্রকল্পকে “গেম চেঞ্জার” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন যে এটি মেঘালয় তথা গোটা উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের বিমান সংযোগকে আমূল পরিবর্তন করবে। শিলং থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উমরই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণই এই প্রকল্পের কেন্দ্রে রয়েছে — যা দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশার বিষয় ছিল।

রানওয়ে সম্প্রসারণ কেন জরুরি ছিল?

শিলং বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বহু বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। উমরই বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ে তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এখানে কেবল ছোট আকারের বিমান — যেমন ATR-৭২ বা Q400 — অবতরণ করতে পারে। বড় জেট বিমান, যেমন এয়ারবাস A320 বা বোয়িং 737 সিরিজ, এখানে অবতরণ করতে পারে না। ফলে শিলংয়ে সরাসরি দিল্লি, মুম্বই বা কলকাতার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিমান সংযোগ গড়ে ওঠেনি। বেশিরভাগ যাত্রীকে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয় এবং সেখান থেকে সড়কপথে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা যাত্রা করে শিলং পৌঁছাতে হয়। রানওয়ে সম্প্রসারিত হলে এই দীর্ঘ ভূমিপথের যাত্রা এড়ানো সম্ভব হবে এবং পর্যটন, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সবই আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

মেঘালয়ের CM কনরাড সাংমা কেন্দ্রীয় অনুমোদনের বিষয়টি ঘোষণা করে বলেছেন যে এই প্রকল্প দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে উমরই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ মেঘালয়ের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং শিলংকে উত্তর-পূর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং Airport Authority of India (AAI)-এর এই অনুমোদন প্রকল্পের পথ সুগম করেছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের বিমান সংযোগ কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্প

শিলং বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ কেন্দ্রীয় সরকারের “উড়ান” (UDAN) প্রকল্পের সঙ্গেও সরাসরি সংযুক্ত। UDAN বা Regional Connectivity Scheme-এর লক্ষ্য হলো ভারতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শহরগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিমান সংযোগের আওতায় আনা। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো — অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা ও সিকিম — সবসময়ই উন্নত বিমান সংযোগের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। পার্বত্য ভূপ্রকৃতি ও সীমিত সড়ক অবকাঠামোর কারণে এই অঞ্চলে বিমান পরিষেবা কেবল সুবিধার বিষয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।

উত্তর-পূর্বে বিমান পরিষেবা উন্নয়নে কেন্দ্র ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল সম্প্রসারিত হয়েছে। আগরতলা, ইম্ফল ও দিব্রুগড়ের বিমানবন্দর উন্নত হয়েছে। শিলংয়ের উমরই বিমানবন্দর এই তালিকায় সর্বশেষ — এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — সংযোজন। কারণ শিলং মেঘালয়ের রাজধানী এবং উত্তর-পূর্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। বছরে লক্ষ লক্ষ পর্যটক শিলং ও চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ করেন — এবং একটি উন্নত বিমানবন্দর সেই পর্যটকদের আরও সহজে টানতে পারবে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির সঙ্গে সংযোগ

শিলং বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ কেন্দ্রীয় অনুমোদনের এই সংবাদ বরাক উপত্যকার পাঠকদের জন্যও প্রাসঙ্গিক। হাইলাকান্দি জেলা ও লালা শহর থেকে যাঁরা বিমানে ভ্রমণ করতে চান, তাঁদের বর্তমানে সিলচর বা গুয়াহাটির বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়। সিলচরের কুম্ভীরগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কিছু ফ্লাইট পাওয়া যায়, তবে সংযোগ সীমিত। গুয়াহাটি থেকে সরাসরি ফ্লাইট বেশি থাকলেও হাইলাকান্দি থেকে গুয়াহাটি যেতেই প্রায় পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লাগে।

শিলংয়ের উমরই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে ভবিষ্যতে শিলং থেকে কলকাতা, দিল্লি বা মুম্বইয়ের সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যেতে পারে। শিলং বরাক উপত্যকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিকটবর্তী — হাইলাকান্দি থেকে শিলং সড়কপথে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ। ফলে ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকার মানুষও উমরই বিমানবন্দর ব্যবহার করে আরও সহজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাতে পারবেন। পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সুযোগ লালা শহর ও হাইলাকান্দির মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

উমরই বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষিত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় অনুমোদন পাওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকটি দূর করেছে। এখন প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণ কাজের পর্যায়গুলো নির্ধারিত হবে। মেঘালয় সরকার ও AAI মিলে এই প্রকল্পটি কত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারে তার উপর নির্ভর করবে উত্তর-পূর্বের বিমান সংযোগের ভবিষ্যৎ। CM কনরাড সাংমার “গেম চেঞ্জার” মন্তব্য কেবল একটি কূটনৈতিক প্রশংসা নয় — এটি মেঘালয় ও তার প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর লক্ষ লক্ষ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার একটি প্রকৃত সমাপ্তির সংকেত।

শিলং বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত — মেঘালয়ের CM বললেন উত্তর-পূর্বের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ
Scroll to top