Read today's news --> ⚡️Click here 

হাইলাকান্দি লক্ষীনগরে নমিতা দাস নিখোঁজ — পাঁচ বছরের শিশুসহ সন্ধান নেই, থানায় অভিযোগ

হাইলাকান্দি জেলার লক্ষীনগর গ্রামে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। নমিতা দাস নামের এক মহিলা তাঁর পাঁচ বছরের ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে পড়েছেন। হাইলাকান্দি লক্ষীনগরে নমিতা দাস নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। স্বামী অলক দাস জানিয়েছেন, যেদিন ঘটনাটি ঘটে সেদিন সকাল প্রায় ১১টার দিকে স্ত্রী ফোন করে জানান তিনি বাজারে যাচ্ছেন — কিন্তু তারপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, মা ও সন্তানের আর কোনো হদিস নেই।

শেষ যোগাযোগ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাক্রম

অলক দাস পরিবারের পক্ষে জানান, ঘটনার দিন তিনি কাজের কারণে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সকাল ১১টার দিকে নমিতা তাঁকে ফোনে জানান যে তিনি বাজারে যাচ্ছেন। সেটাই ছিল শেষ কথোপকথন। কিছুক্ষণ পর অলক দাস আবার ফোন করার চেষ্টা করলে দেখা যায় ফোনটি বন্ধ। বারবার চেষ্টার পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে এসে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। নমিতা এবং তাঁর পাঁচ বছরের ছোট ছেলে — দু’জনেই বাড়িতে নেই। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং পরিচিত স্থানগুলোয় খোঁজ নিয়েও কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। এরপর অলক দাস স্থানীয় থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন।

ঘরে একা আট বছরের ছেলে — মায়ের জন্য অপেক্ষা

এই পরিবারের আরও একটি সন্তান রয়েছে — আট বছরের একটি ছেলে, যে এই মুহূর্তে ঘরে আছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বারবার মাকে খুঁজছে, কেন মা ফিরছে না তা বুঝতে পারছে না। একটি ছোট শিশুর দৃষ্টিতে মায়ের এই হঠাৎ অনুপস্থিতি কতটা কষ্টের, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরিবারের আবেদন — হাইলাকান্দি লক্ষীনগরে নমিতা দাস নিখোঁজের বিষয়টি যাঁরা এই প্রতিবেদন পড়ছেন, তাঁরা যেন আশেপাশে কোনো তথ্য জানলে পরিবার বা পুলিশকে অবিলম্বে জানান। একটি মায়ের ফিরে আসা মানে শুধু স্বামীর স্বস্তি নয় — এটি দুটি শিশুর জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা।

হাইলাকান্দিতে নিখোঁজ মামলা পুলিশের ভূমিকা

হাইলাকান্দি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে নিখোঁজের ঘটনা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে, তবে মা ও শিশু একসঙ্গে নিখোঁজের ঘটনাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় নিখোঁজের ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় General Diary (GD) বা Missing Person Complaint দায়ের করার বিধান রয়েছে। এর পর পুলিশ স্থানীয় স্তরে তদন্ত শুরু করে এবং প্রয়োজনে জেলা পুলিশ সুপার ও CID-এর সহযোগিতা নেওয়া হয়। অলক দাস ইতিমধ্যে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছেন। পরিবার আশা রাখছে, পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করবে এবং নমিতা ও তাঁর শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

বরাক উপত্যকার মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে মনে করিয়ে দিয়ে আসছে, নিখোঁজ মামলায় — বিশেষত মহিলা ও শিশুদের ক্ষেত্রে — দ্রুত ও সক্রিয় পুলিশি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ৪৮ ঘণ্টা যেকোনো নিখোঁজ তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — এই সময়ের মধ্যে যত বেশি তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ততটাই বেশি।

প্রতিবেশীদের কাছে আকুল আবেদন — তথ্য জানলে জানান

লক্ষীনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পরিবারের আবেদন — যদি কেউ নমিতা দাসকে বা তাঁর পাঁচ বছরের শিশুকে কোথাও দেখে থাকেন, বা কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য জানেন, তবে অনুগ্রহ করে স্থানীয় থানায় বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবরটি ছড়িয়ে দেওয়াও একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে — কারণ অনেক সময় পরিচিত মানুষের শেয়ার করা পোস্টই নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। লালাবাজার ডট কম এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

নমিতা দাস ও তাঁর শিশু যত দ্রুত সম্ভব ঘরে ফিরে আসুন — এটাই এই মুহূর্তে পরিবারের একমাত্র প্রার্থনা। ঘরে থাকা আট বছরের ছেলেটি যেন তার মাকে ফিরে পায়, পাঁচ বছরের শিশুটি যেন নিরাপদে থাকে — এই আশায় গোটা লক্ষীনগর গ্রামবাসী অপেক্ষায় আছেন। পুলিশ তদন্ত কতটা দ্রুত এগোয় এবং কোনো নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকে নজর রাখছে লালাবাজার।

হাইলাকান্দি লক্ষীনগরে নমিতা দাস নিখোঁজ — পাঁচ বছরের শিশুসহ সন্ধান নেই, থানায় অভিযোগ
Scroll to top