আসামে PNG CNG প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সিভিক অনুমোদন এখন থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত মূলত গ্যাসভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিলম্ব কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের এই নির্দেশে পৌরসভা ও স্থানীয় সংস্থাগুলিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি, পাইপলাইন বসানো বা CNG স্টেশন স্থাপনের মতো কাজে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আগে এই অনুমোদন পেতে বহুদিন সময় লাগত, যা প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করত।
দ্রুত অনুমোদনে গতি পাবে সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন
সরকারি নীতির এই পরিবর্তন সরাসরি সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্পগুলিকে প্রভাবিত করবে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশজুড়ে CGD নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উত্তর-পূর্ব ভারত।
‘দ্য আসাম ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে কাজের ক্ষেত্রে আর প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হবে না। এতে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
একজন সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, “সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় কাজের গতি বাড়বে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা আসবে।”
এছাড়া, ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যেই আসামের বিভিন্ন শহরে CGD লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এই নতুন নীতির ফলে সেই কাজ আরও দ্রুত এগোবে।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে জোর
PNG ও CNG ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হল এটি তুলনামূলকভাবে কম দূষণ সৃষ্টি করে। দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন ও পিটিআই-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, CNG ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়, যা শহরের বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক।
PNG ব্যবহারে গৃহস্থালি ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের উপর নির্ভরতা কমে এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরাঞ্চলে পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞের কথায়, “পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ঝোঁক বাড়ানো এখন সময়ের দাবি, এবং CGD প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে গ্যাসভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস অবকাঠামো আসাম ও বারাক উপত্যকার সম্ভাবনা
আসামে PNG CNG প্রকল্পের সম্প্রসারণ শুধু বড় শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং ধীরে ধীরে অন্যান্য জেলা ও উপ-শহর এলাকাতেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে বারাক উপত্যকার জেলাগুলি—হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ ও কাছাড়—এই উন্নয়ন থেকে উপকৃত হতে পারে।
লালা টাউন এবং আশেপাশের এলাকায় যদি ভবিষ্যতে CNG স্টেশন স্থাপন হয়, তাহলে স্থানীয় পরিবহন খরচ কমবে এবং দূষণও কমবে। একই সঙ্গে PNG সংযোগ চালু হলে গৃহস্থালির জন্য রান্নার গ্যাস ব্যবস্থাও সহজ হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের মতে, গ্যাস অবকাঠামো উন্নত হলে ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে।
কেন্দ্র–রাজ্য সমন্বয়ে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
যদিও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবকাঠামো নির্মাণ, জমি সংক্রান্ত সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সমন্বিত উদ্যোগে এই সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করা সম্ভব।”
পরিশেষে বলা যায়, আসামে PNG CNG প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার অনুমোদন ব্যবস্থা একটি বড় পদক্ষেপ, যা রাজ্যের জ্বালানি খাতকে নতুন দিশা দিতে পারে। এর ফলে পরিবেশ রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন নজর থাকবে এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায় এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এর সুবিধা কতটা পৌঁছায়।