Read today's news --> ⚡️Click here 

বরাক উপত্যকায় বৃষ্টিপ্লাবনে জলমগ্ন গ্রাম, লালা টাউন সহ অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত

বরাক উপত্যকায় বৃষ্টিপ্লাবন স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত করেছে। ইন্ডিয়া টুডে নর্থইস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মে ২০২৬ তারিখে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বর্ষণ চলে, যার ফলে করিমগঞ্জ, কাছাড় ও হাইলাকান্দি জেলার বহু গ্রাম জলার্ণবে পরিণত হয়। বরাক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের রাস্তাঘাট ভাঙে, বাড়িষ্কলে জল ঢুকে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ফুটে ওঠে। লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার রাবুয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা এখন সম্পূর্ণভাবে বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, খাবার ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে।

বারাক উপত্যকায় বৃষ্টিপ্লাবনের তীব্রতা

এই ঘটনাটি বরাক উপত্যকায় অত্যন্ত বিরল নয়; ভারতের মানব বিকাশ পরিকল্পনা মন্ত্রকের ডেটা অনুযায়ী গত ১০ বছরে আরও তিনবার এই এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল। তবে এবার বৃষ্টিপ্লাবন বিশেষভাবে গুরুতর, কারণ নদী উপত্যকা থেকে লালা টাউন পর্যন্ত জল প্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের আনুমানিক ম্যাপ অনুসারে, এই অঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি পড়েছে, যা সাধারণ মাসিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জলনিকাশন নালাঘাটগুলি অধিকাংশই নিম্ন গভীরতার ও পুরাতন, যার কারণে প্রবল প্রবাহ সহ্য করতে পারে না।

বাড়ি ঘর রাস্তাঘাট ক্ষতি

স্থানীয় নাগরিক সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইলাকান্দি জেলার ১২টি গ্রামের আশেপাশের প্রায় ৫০০টি বাড়ি জলে ডুবে গেছে, ফলে প্রায় ৩,০০০ মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। লালা টাউনের এক বাসিন্দা রিজভান হুসেন বলেন, “আমাদের সব সম্পত্তি ভিজে যাচ্ছে, রাস্তা এতটাই ভেঙেছে যে জরুরি চিকিৎসায় যাওয়া অসম্ভব।” সরকারী সূত্র অনুযায়ী, করিমগঞ্জ থেকে হাইলাকান্দি যাওয়ার প্রধান সড়কের ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা ট্রাফিকের মধ্যে ৬ ঘণ্টার বিলম্ব তৈরি করেছে। লক্ষ করা যায়, স্থানীয় রাস্তাঘাটগুলি ড্রেনেজ ব্যবস্থাহীন, যার কারণে বৃষ্টিপাত শেষ হলেও জল কয়েক দিন ধরে থাকে।

স্থানীয়দের রোষ সরকারী প্রতিক্রিয়া

বৃষ্টিপ্লাবনের কারণে স্থানীয় সম্প্রদায় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রোষ প্রকাশ করছে। লালা টাউনের কম্যুনিটি লিডার শাহীন সিকান্দর বলেন, “যদি সরকার জল নিষ্কাশন নালাঘাটগুলি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করত, তবে এই ক্ষতি হত না।” ইন্ডিয়া টুডে নর্থইস্টের আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার রেসকিউ টিম ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে, কিন্তু ফিল্ড লেভেলে সেগুলো অপর্যাপ্ত। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিমল বড়ো জানান, “আমরা সর্বোচ্চ ২৫টি লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি, কিন্তু আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।”

ভবিষ্যত পরিকল্পনা ঝুঁকি কমানো

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইঙ্গিত দেয় যে আসামে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপ্লাবন বারবার ঘটতে পারে। জাতীয় পরিবেশ কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে, বারাক উপত্যকা উচ্চ ঝুঁকি এলাকা, যেখানে নদী উপত্যকা ঘন জনবসতি ও কৃষিজমিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে সরকার লালা টাউনে জলনিকাশন নালা গভীর করা, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও ত্রাণ কেন্দ্র গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক; তার মধ্যে ১০ বছরের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হওয়া দরকার। তারা আশা করেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আর এই ধরনের প্লাবন না হয়ে যায় এবং তাদের জীবিকা রক্ষা পায়।

বরাক উপত্যকায় বৃষ্টিপ্লাবনে জলমগ্ন গ্রাম, লালা টাউন সহ অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত
Scroll to top