কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে কাছাড় জেলায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা হয়েছে। ৩১ মে ২০২৬ তারিখে প্রায় ৫০টি দোকান ও বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে যার পরিমাণ ৫,৮০০ টাকা। এই অঞ্চলে তামাক প্রয়োগ কমিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ স্থানে বিক্রির অভিযোগে ১৪ জন ব্যবসায়ীকে ৫,৮০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও খেলার মাঠের ১০০ মিটার বাইরে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘন করলে ৫,৮০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস প্রতিবছর ৩১ মে পালিত হয়। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি। এই দিনে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হয় এবং তামাক ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাছাড় জেলায় এই দিনে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সূত্র অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৫০টি চেকপোস্টে তামাক বিক্রি যাচাই করা হয়েছে। ১৪টি দোকান থেকে তামাক নিষিদ্ধ স্থানে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এই ব্যবসায়ীরা জানত না যে স্কুলের ১০০ মিটার বাইরে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ। এখন তাদের ৫,৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান আরও বাড়ানো হবে।
তামাকের ক্ষতি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা
তামাক ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের সম্ভাবনা বাড়ে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ভারতে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। আসামে এই সংখ্যা আরও বেশি। এই কারণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করা হয়েছে।
তামাক মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, খেলার মাঠ এবং সরকারি অফিসে তামাক ব্যবহার নিষিদ্ধ। তামাক প্যাকেটে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম মানা না হলে জরিমানা করা হয়। কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণে এই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।
বরাক উপত্যকা ও লালা টাউনের প্রেক্ষাপট
বরাক উপত্যকার জেলাগুলিতে (শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি ) তামাক নিয়ন্ত্রণ কাজ চলছে। লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলায়ও এই অভিযান প্রসারিত হবে। স্থানীয়রা মনে করেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য উন্নত হবে।
হাইলাকান্দি জেলার পঞ্চায়েত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তামাক মুক্ত কর্মসূচি চালু করেছে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াচ্ছেন। লালা বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও তামাক নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করছেন। কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণ অভিযান বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় চিকিৎসকরা বলেছেন, “তামাক ব্যবহার কমলে রোগের হার কমবে। এটি মানুষের জীবন বাঁচাবে।” হাইলাকান্দি জেলার হাসপাতালে তামাকজনিত রোগীর সংখ্যা কমানোর চেষ্টা চলছে। তামাক নিয়ন্ত্রণে মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও সচেতনতা
জেলা প্রশাসন তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও অভিযান চালাবে। প্রতি সপ্তাহে চেকপোস্টে তামাক বিক্রি যাচাই করা হবে। তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ স্থানে বিক্রি করলে ৫,৮০০ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। এই নিয়ম কঠোর করা হবে।
সচেতনতা কর্মসূচিও বাড়ানো হবে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে বক্তৃতা দেওয়া হবে। তামাক ছাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে। কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণে এই পরিকল্পনা জনসাধারণের জন্য সুবিধাজনক।
তামাক নির্মূল করা একটি বড় লক্ষ্য। কাছাড় তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসে এই অভিযান শুরু হয়েছে। বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দি জেলায়ও এই কাজ প্রসারিত হবে। মানুষের স্বাস্থ্য উন্নত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি।