আসামে আধার বন্ধ ১৮ বছর উপরে বয়সের ব্যক্তিদের জন্য বলে ঘোষণা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শনিবার আসাম ক্যাবিনেটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের আধার এনরোলমেন্ট সাধারণভাবে চলবে, কিন্তু ১৮ বছর উপরে বয়সী যাদের আধার কার্ড নেই, তাদের এখন বিশেষ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পার হতে হবে। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের আধার কার্ড পাওয়া রোধ করা এবং আধার প্রকল্পে কৃত্রিম নিবন্ধন বন্ধ করা ।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “আসাম ক্যাবিনেট আজ সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের আধার কার্ড সাধারণ এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে না। শুধু ST, SC এবং চা বাগান কর্মীরা ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত ব্যতিক্রম পাবে।” তিনি আরও জানান, “যদি অন্য কোনো বর্ণের ব্যক্তি আধার কার্ড পাননি, তবে তারা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আবেদন করতে পারেন” ।
আসামে আধার ১৮ বছর উপরে নিয়ম কেন কড়া
অসম সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে আধার প্রকল্পে কৃত্রিম নিবন্ধনের বড় সংখ্যা দেখা গেছে, বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে। CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগেই বলেছিলেন যে অসমের ১০০% আধার saturation পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু SC, ST এবং চা বাগান সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি মাত্র ৯৬% ।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে আরও একটি যুক্তি আছে—কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে আধার নিবন্ধনের “স্যাচুরেশন” পূর্ণ না হওয়ায় এই ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “SC, ST এবং চা বাগান সম্প্রদায়ের থেকে left-out individuals এর আধার এনরোলমেন্ট এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে” ।
এই সিদ্ধান্ত অসম সরকারের অবৈধ অভিবাসীদের আধার ডকুমেন্ট fraudulent means দিয়ে পাওয়া রোধে এবং identity verification-এর উপর scrutiny বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ ।
Deputy Commissioner আধার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
আসামে আধার ১৮ বছর উপরে নীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো Deputy Commissioner ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
- ১৮ বছর উপরে বয়সী যাদের আধার কার্ড নেই, তাদের আবেদন এখন Special Verification Route-এ যাবে
- সংশ্লিষ্ট Deputy Commissioner রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবেন
- রাজ্য সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আধার কার্ড দেওয়া হবে কি না
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “Deputy Commissioner level-এ ১৮ বছর উপরে বয়সী নাগরিকদের আধার কার্ড আর দেওয়া হবে না। আমরা আধার এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ায় ফাঁকফোকর বন্ধ করতে চাই” ।
একবার এই সময়সীমা শেষ হলে, ১৮ বছর উপরে বয়সী ব্যক্তিদের আধার কার্ড শুধু ‘rarest of rare cases’-এ দেওয়া হবে, এবং শুধু Deputy Commissioners পুলিশ ও Foreigners’ Tribunals-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন ।
ব্যতিক্রম: SC, ST ও চা বাগান সম্প্রদায়
আসামে আধার ১৮ বছর উপরে নীতিতে তিনটি সম্প্রদায়ের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে:
- Scheduled Castes (SC)
- Scheduled Tribes (ST)
- চা বাগান সম্প্রদায় (Tea Garden Communities)
এই ব্যতিক্রম ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে এই সম্প্রদায়গুলোর ১৮ বছর উপরে বয়সী ব্যক্তিদেরও আধার কার্ড দেওয়া হবে না” ।
চা বাগান সম্প্রদায়ের মানুষ ইতিহাসগতভাবে অসমের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের মধ্যে আধার নিবন্ধন এখনো ৯৬%-এ সীমাবদ্ধ থাকায় এই ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
বরাক উপত্যকা ও লালা টাউনের জন্য প্রভাব
আসামে আধার ১৮ বছর উপরে নিয়ম কড়া নীতির প্রভাব বরাক উপত্যকায়ও পড়বে। হাইলাকান্দি, কাছাড়, করিমগঞ্জ—এই তিন জেলায় আধার কার্ডের প্রয়োজনীয়তা নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা, সরকারি সুবিধা, ব্যাংকিং এবং শিক্ষার জন্য অপরিহার্য। লালা টাউনের মানুষের জন্যও আধার কার্ড স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা সহায়তা এবং সরকারি কাজের প্রাথমিক শর্ত।
বরাক উপত্যকার চা বাগান সম্প্রদায়ের মানুষ এই নীতির ব্যতিক্রম পাবেন এবং তাদের জন্য ২০২৭ মার্চ পর্যন্ত আধার নিবন্ধন চলবে। কিন্তু অন্যান্য সম্প্রদায়ের ১৮ বছর উপরে বয়সী ব্যক্তিদের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আধার আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
এই নীতি প্রয়োগের পর পরিবহনকর্মী, ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা—যাদের আধার কার্ড নেই—তারা সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই স্থানীয় মানুষের জন্য এই সময়সীমার মধ্যে আধার আবেদন করা এখনই জরুরি।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও প্রভাব
আসামে আধার ১৮ বছর উপরে নীতি এখন থেকে কার্যকর এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর SC, ST ও চা বাগান সম্প্রদায়ের বাইরের ব্যক্তিদের শেষ সুযোগ। অসম সরকার first-time applicants যাদের ১৮ বছর বা বেশি বয়স, তাদের বিনামূল্যে আধার কার্ড দেওয়া সীমিত করেছে ।
অসমের এই নীতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। যদি এই নীতি সফল হয়, অন্য রাজ্যও অবৈধ অভিবাসন রোধে আধার নিবন্ধনে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। আসামের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে Deputy Commissioner ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সমগ্র পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে সম্পূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।