Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলচরে রেল ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার, বিল ছাড়তে ২০ হাজার ঘুষের অভিযোগ

শিলচরে রেল ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা CBI। শনিবার (১৪ জুন, ২০২৬) Northeast Frontier Railway (NFR)-এর Carriage and Wagon (C&W) বিভাগের একজন Senior Section Engineer (SSE)-কে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা হয়েছে বলে CBI জানিয়েছে। অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারের নাম কুন্তল চক্রবর্তী, যিনি শিলচরে কর্মরত ছিলেন । একজন ঠিকাদারের প্রায় ২০ লাখ টাকার বকেয়া বিল ছাড়িয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ওই বিলের ১% অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ।

ঘটনার সূত্রপাত বিলটি ছাড়িয়ে নেওয়া নিয়ে। ওই ঠিকাদার শুক্রবার কুন্তল চক্রবর্তীর কাছে তাঁর বকেয়া বিল প্রসেস করার অনুরোধ নিয়ে যান। সেই সময় ইঞ্জিনিয়ার বিলের অনুমোদনের বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। ঠিকাদার সঙ্গে সঙ্গে CBI-তে অভিযোগ দেন। CBI অভিযোগটি যাচাই করে এবং পরদিন শনিবার ঘুষের টাকা হাতে নেওয়ার সময় অভিযুক্তকে ধরে ফেলে । রবিবার তাঁকে গুয়াহাটির আদালতে পেশ করা হয় ।

কীভাবে সফল হল CBI-এর ট্র্যাপ অভিযান

CBI-এর এই ধরনের অভিযানকে “ট্র্যাপ কেস” বলা হয়—যেখানে সংস্থাটি প্রথমে অভিযোগকারীর অভিযোগ যাচাই করে, তারপর পরিকল্পিতভাবে ঘুষ দেওয়ার মুহূর্তে অভিযুক্তকে রেড-হ্যান্ড ধরে ফেলে। এ ক্ষেত্রেও CBI ঠিক একই পদ্ধতিতে অভিযানটি পরিচালনা করেছে। ঘুষের টাকা গ্রহণের সময় সংস্থার কর্মীরা ওই জায়গায় উপস্থিত ছিলেন এবং সেই মুহূর্তেই ইঞ্জিনিয়ারকে আটক করা হয় ।

CBI-এর এই অ্যাকশনটি বিচ্ছিন্ন নয়। সংস্থাটি সম্প্রতি NFR বিভাগে ঘুষ ও দুর্নীতির একাধিক মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। এই গ্রেফতার NFR-সংক্রান্ত দুর্নীতি-বিরোধী চলমান প্রচেষ্টারই অংশ । C&W বিভাগের এই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা NFR-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর দুর্নীতি মামলার পরিপ্রেক্ষিতেও গুরুত্বপূর্ণ ।

NF Railway-দুর্নীতির পুরনো ইতিহাস

শিলচরে রেল ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতারের এই ঘটনা প্রথম নয়। NFR বিভাগে গত কয়েক বছরে CBI বেশ কয়েকটি বড় দুর্নীতির মামলায় অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে CBI শিলচরে কর্মরত SSE সন্তোষ কুমার এবং তাঁর উপরিতন কর্মকর্তা Deputy Chief Engineer রামপালকে একটি ২ কোটি টাকার ঘুষ মামলায় গ্রেফতার করেছিল । পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই কর্মকর্তার আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টসহ মোট প্রায় ৯৯.২৭ লাখ টাকার ঘুষ ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নেওয়া হয়েছিল ।

পরবর্তী তদন্তে দেখা গেছে, ওই মামলাটি আরও বড় একটি দুর্নীতি চক্রের অংশ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে CBI সেই তদন্ত প্রসারিত করে ২০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে নতুন FIR দায়ের করে, যার মধ্যে ঠিকাদার সংস্থা ভারতিয়া ইনফ্রা প্রজেক্টস লিমিটেড-ও ছিল । ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আবার NFR-এর আরেকজন প্রাক্তন সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী পনব কুমার বাইশ্যার বিরুদ্ধে প্রায় ১.১৪ কোটি টাকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়—তিনিও শিলচরেই কর্মরত ছিলেন ।

এই সব মামলার ধারাবাহিকতা দেখায়, শিলচর বিভাগের NFR দফতরে দুর্নীতির প্রশ্নটি CBI-এর নজরে বহুদিন ধরেই আছে। কুন্তল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এবারের মামলাটি সেই চলমান নজরদারিরই আরেকটি ফলাফল।

বরাক উপত্যকা লালা টাউনের জন্য প্রাসঙ্গিকতা

বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে শিলচরের NFR দফতর শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি সেতু, রাস্তা, রেলওয়ে সাইডিং, পণ্যবাহী ট্রেন এবং নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনসহ পুরো বরাক উপত্যকায় অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনেকটাই NFR এবং তার ঠিকাদারদের ওপর নির্ভরশীল। কোনো সরকারি ইঞ্জিনিয়ার যদি বিল ছাড়াতে ঘুষ দাবি করেন, তাহলে প্রকল্পের সময়মতো সম্পাদন থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের অর্থনৈতিক টিকে থাকা—সবকিছুতেই তার প্রভাব পড়ে।

ছোট ঠিকাদার ও সাপ্লায়াররাই এই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় শিকার। তাঁদের অনেকের পক্ষেই ঘুষ দেওয়া সম্ভব নয়, অথচ বিল আটকে থাকলে তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে CBI-এর সক্রিয় ভূমিকা এবং ঠিকাদারের অভিযোগ জানানোর সাহস—দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাচ্ছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা এখন নিরাপদ এবং ফলপ্রসূও হতে পারে।

মামলার পরবর্তী ধাপ কী

গ্রেফতারির পর কুন্তল চক্রবর্তীকে গুয়াহাটির বিশেষ CBI আদালতে হাজির করা হয়েছে । এই ধরনের ট্র্যাপ কেসে সাধারণত রিমান্ড নিয়ে আরও তদন্ত করা হয়, জড়িতদের আয়ের উৎস ও সম্পদ যাচাই করা হয় এবং প্রয়োজনে তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। NFR-এর আগের মামলাগুলোর নজির দেখলে বোঝা যায়, এই প্রাথমিক গ্রেফতার একটি বড় তদন্তের শুরু হতে পারে।

CBI-এর NF Railway বিভাগে চলমান নজরদারি, শিলচরে রেল ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতারের একাধিক ঘটনা এবং ঠিকাদারদের অভিযোগ জানানোর প্রবণতা বাড়া—এসব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাপনা এই অঞ্চলে আগের চেয়ে সক্রিয় হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ঠিকাদার ও সাধারণ নাগরিক—দুপক্ষের কাছেই স্বচ্ছ প্রশাসনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা যায়।

শিলচরে রেল ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার, বিল ছাড়তে ২০ হাজার ঘুষের অভিযোগ
Scroll to top