Read today's news --> ⚡️Click here 

কেমিস্ট ধর্মঘট অসমে বিভাজন, অনলাইন ওষুধ ইস্যুতে মতভেদ

দেশজুড়ে ডাকা কেমিস্ট ধর্মঘট অসমে একমুখী চিত্র তৈরি করতে পারেনি। বরং কেমিস্ট ধর্মঘট অসম জুড়ে ফার্মেসি মালিকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন সামনে এসেছে। বুধবার (২০ মে ২০২৬) রাজ্যের বিভিন্ন অংশে কিছু ওষুধের দোকান ধর্মঘটে সামিল হলেও, বহু ফার্মেসি স্বাভাবিকভাবে খোলা ছিল। অনলাইন ওষুধ বিক্রির নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হলেও, সব ব্যবসায়ী এতে একমত নন।

অসম ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন ফার্মেসি সংগঠন এই ধর্মঘট নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। কিছু সংগঠন ধর্মঘটকে সমর্থন করলেও, অন্যরা রোগীদের স্বার্থে দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—কোথাও দোকান বন্ধ, কোথাও আবার পরিষেবা স্বাভাবিক।

অনলাইন ওষুধ বিক্রি ইস্যুতে বিরোধ

এই কেমিস্ট ধর্মঘট অসম মূলত অনলাইন ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ। অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD) দাবি করেছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি যথাযথ নিয়ম না মেনে ওষুধ বিক্রি করছে, যা রোগীদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সংগঠনের এক প্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “অনলাইন বিক্রিতে প্রেসক্রিপশন যাচাই সব সময় সঠিকভাবে হয় না, ফলে অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে।” এই বক্তব্যকে সমর্থন করে কয়েকটি স্থানীয় ফার্মেসি সংগঠনও ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে।

অন্যদিকে, দ্য হিন্দু ও পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, কিছু ব্যবসায়ী মনে করেন এই ধরনের ধর্মঘট দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। তাদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য নতুন ব্যবসায়িক কৌশল প্রয়োজন, সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। ফলে তারা ধর্মঘট থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেমিস্ট ধর্মঘট অসমে বিভক্ত অবস্থান

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই বিভাজন আরও স্পষ্ট। গুৱাহাটী, ডিব্রুগড় বা শিলচরের মতো শহরে বহু দোকান খোলা থাকলেও, কিছু এলাকায় ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। অসম ট্রিবিউনের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু সংগঠন ধর্মঘটকে “আংশিক সফল” বললেও, সম্পূর্ণ বন্ধের চিত্র দেখা যায়নি।

এক ফার্মেসি মালিক বলেন, “আমরা ধর্মঘটের উদ্দেশ্য বুঝি, কিন্তু রোগীদের সমস্যায় ফেলতে পারি না।” আবার অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, “অনলাইন বিক্রি নিয়ন্ত্রণ না হলে ভবিষ্যতে ছোট দোকান টিকবে না, তাই প্রতিবাদ জরুরি।”

এই দ্বৈত অবস্থানের ফলে প্রশাসনের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে যাতে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং আতঙ্ক না ছড়ায়।

বারাক ভ্যালি লালা টাউনে প্রভাব

হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনসহ বারাক ভ্যালির এলাকাগুলিতেও কেমিস্ট ধর্মঘট অসম-এর মিশ্র প্রভাব দেখা গেছে। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ ফার্মেসি খোলা থাকলেও, কিছু দোকান সীমিত পরিষেবা দিয়েছে।

লালার এক স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতা জানান, “আমরা পুরোপুরি বন্ধ রাখিনি, তবে কিছু সরবরাহ কমেছে। রোগীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেটা দেখছি।” সাধারণ মানুষও পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকেই সংগ্রহ করছেন।

হাইলাকান্দি স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, “সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।” এই আশ্বাস স্থানীয়দের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

ভবিষ্যতের দিক সম্ভাব্য সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমিস্ট ধর্মঘট অসম এবং দেশজুড়ে এই আন্দোলন একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন ওষুধ ব্যবসার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ই-ফার্মেসি নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া নীতি তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ রয়েছে। তবে তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের বিরোধ চলতে পারে।

আগামী দিনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে, এই বিভাজন আরও প্রকট হতে পারে এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই ব্যবসায়ী, প্রশাসন এবং নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কেমিস্ট ধর্মঘট অসমে বিভাজন, অনলাইন ওষুধ ইস্যুতে মতভেদ
Scroll to top