লালার আয়নাখাল বাজার এলাকায় আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আবার সীমানা নির্ধারণের কাজ হবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে অসম মালা প্রকল্পের অধীনে সড়ক সম্প্রসারণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়। স্থানীয় পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন লালা রাজস্ব চক্র আধিকারিক, লোকনির্মাণ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এবং পাটোয়ারী। পরিদর্শনের পর নেওয়া এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, প্রশাসন এখন কাজের বাধা দূর করে বাস্তব অগ্রগতিতে জোর দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ড. মিলন দাস, বিধায়ক হাইলাকান্দি-র ভূমিকাও সামনে এসেছে, কারণ তিনিই স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও সিদ্ধান্ত
আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটি, সীমানা ও অবকাঠামোগত অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাদের উপস্থিতিতে এলাকা পরিদর্শন শেষে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী মঙ্গলবার আবার সীমানা নির্ধারণ করা হবে। এর উদ্দেশ্য, রাস্তার প্রকৃত সীমারেখা চিহ্নিত করে যাতে কাজের পথে আর বাধা না থাকে। ড. মিলন দাস, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অসুবিধার কথা উল্লেখ করে মাঠপর্যায়ের এই পরিদর্শনকে জরুরি বলে দেখিয়েছেন।
এ ধরনের সীমানা নির্ধারণ প্রকল্পের প্রাথমিক কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ অনেক সময় কাগজে যত সহজ দেখায়, বাস্তবে তত সহজ হয় না। খাসজমি, ব্যক্তিগত দখল, ড্রেনেজের অবস্থান এবং আগের মাপজোক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তাই মঙ্গলবারের পুনঃপর্যবেক্ষণকে প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হচ্ছে। ড.মিলন দাস, বিধায়ক হাইলাকান্দি-র বক্তব্যে উন্নয়নকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা স্পষ্ট।
খাসজমি উদ্ধার ও ড্রেনেজ পরিকল্পনা
পরিদর্শনের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত হলো, সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলে থাকলে তা উদ্ধার করা হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাস্তার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রে এই ড্রেনেজ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নিকাশি দুর্বল হলে রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ষার সময়ে জল জমে গেলে নতুন রাস্তার আয়ুও কমে যেতে পারে। তাই রাস্তার সঙ্গে জলনিষ্কাশন ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ড. মিলন দাস, বিধায়ক হাইলাকান্দি-র উদ্যোগে নেওয়া এই পরিদর্শন দেখাচ্ছে যে, প্রশাসন শুধুমাত্র রাস্তা চওড়া করার কথা ভাবছে না, বরং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ যদি ড্রেনেজ-সহ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু যান চলাচলই নয়, আশপাশের দোকানপাট ও বাজারব্যবস্থাও উপকৃত হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, অবৈধ দখল সরানো গেলে প্রকল্পের অগ্রগতি আর থামবে না।
অসম মালা প্রকল্পে এলাকার প্রত্যাশা
অসম মালা প্রকল্পের আওতায় এই সড়কটি হাইলাকান্দি জেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগপথ হিসেবে ধরা হচ্ছে। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ শেষ হলে আয়নাখাল বাজারে যানজট কমবে, পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহনও সুবিধাজনক হবে। বাজারকেন্দ্রিক এলাকার জন্য এমন সড়ক উন্নয়ন কেবল যোগাযোগের প্রশ্ন নয়, অর্থনৈতিক প্রবাহেরও প্রশ্ন। ছোট ব্যবসা, পরিবহনকারী এবং ক্রেতা—সবাই এ ধরনের উন্নয়নের সুফল পান।
ড. মিলন দাস, স্থানীয় উন্নয়নকে কার্যকর করতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর মতে, সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ হলে মানুষের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ তাই একটি সাধারণ অবকাঠামো প্রকল্পের চেয়েও বেশি কিছু; এটি বাজারের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
স্থানীয় সহযোগিতার প্রয়োজন
এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে স্থানীয় মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা ফলপ্রসূ করতে হলে জমি, সীমানা ও নিকাশি নিয়ে সবাইকে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। দখলমুক্তকরণ বা পুনঃমাপজোকের সময়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে প্রকল্পে দেরি হতে পারে। তাই প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হওয়া জরুরি।
ড. মিলন দাস, বিধায়ক হাইলাকান্দি এই কাজকে উন্নয়নের যাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সহযোগিতা চেয়েছেন। আয়নাখাল বাজারের মানুষও আশা করছেন, মঙ্গলবারের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হলে প্রকল্পটি আর থেমে থাকবে না। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ সফলভাবে শেষ হলে এটি লালার আরও অনেক এলাকার জন্য মডেল হতে পারে।
সামনে কী দেখার
আগামী মঙ্গলবারের সীমানা নির্ধারণের দিকেই এখন সবার নজর থাকবে। আয়নাখাল বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ-এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে খাসজমি উদ্ধার, ড্রেনেজ নির্মাণ এবং রাস্তাবিস্তারের কাজ দ্রুত এগোতে পারে। ড. মিলন দাস,র তদারকি এবং দপ্তরগুলির সমন্বয় এই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। লালার উন্নয়নযাত্রায় এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, যদি মাঠের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়।