Read today's news --> ⚡️Click here 

শর্মার পরিবারের কণ্ঠে গর্ব — স্ত্রী বললেন “মা কামাখ্যার আশীর্বাদ”, মেয়ে বললেন “তিনি এটার যোগ্য”

১২ মে ২০২৬। গুয়াহাটির খানাপাড়া ভেটেরিনারি কলেজ মাঠে যখন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বারের মতো আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চের সামনের সারিতে একটি পরিবার অশ্রুসিক্ত চোখে সেই মুহূর্তটি উপভোগ করছিল। হিমন্ত শর্মার পরিবার — মা মৃণালিনী দেবী, স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মা, মেয়ে সুকন্যা শর্মা এবং ছেলে নন্দিল বিশ্ব শর্মা — সকলেই সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন। শপথের পরপরই পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের সামনে যে আবেগ ও কৃতজ্ঞতার কথা জানালেন, তা ছিল অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী।

রিনিকির কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা — “মা কামাখ্যার আশীর্বাদ আর আসামের মানুষের বিশ্বাস”

শপথ অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের সামনে হিমন্ত শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মা বললেন — “এটা মা কামাখ্যার আশীর্বাদ এবং আসামের মানুষের আশীর্বাদ। তাঁরা উন্নয়ন ও জনকল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস রাখেন এবং হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাজে আস্থা রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন — “এটি একটি অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত।” রিনিকির এই প্রতিক্রিয়া ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি দেশের পাসপোর্ট রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন — যা নিয়ে সে সময় বিতর্ক হয়েছিল। Asianet News-এর প্রতিবেদনেও রিনিকির আনন্দিত মুখের কথা উল্লেখ আছে।

রিনিকি ভূঞা শর্মার সঙ্গে হিমন্তের পরিচয় ও সম্পর্কের ইতিহাস নিজেই এক অনুপ্রেরণার গল্প। তাঁদের প্রথম পরিচয়ের সময় হিমন্তের বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর এবং রিনিকির ১৭। তখনই তরুণ হিমন্ত রিনিকিকে বলেছিলেন — “তোমার মাকে বলো, আমি একদিন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হব।” সেই স্বপ্ন এখন দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তব হলো।

সুকন্যার গর্ব — “বাবা সবসময় পরিবারের জন্যও সময় বের করেন”

শপথ অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থেকে মেয়ে সুকন্যা শর্মা সাংবাদিকদের বললেন — “আমি আজকে এখানে থাকতে পেরে অসম্ভব খুশি। দ্বিতীয়বার বাবাকে শপথ নিতে দেখে সত্যিই আনন্দ হচ্ছে। যাঁরা বাবাকে ভোট দিয়েছেন তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।” বাবার কাজের প্রশংসা করে তিনি আরও বললেন — “বাবা সবসময় পরিশ্রম করেন, মানুষের উন্নয়ন চান এবং সবার জন্য সেরাটা চান। এটাই আমরা সবসময় দেখেছি — এবং তিনি এর সবটাই প্রাপ্য।” সুকন্যা আরও জানিয়েছেন, ব্যস্ততার মধ্যেও হিমন্ত শর্মা পরিবারের জন্য সময় বের করেন — ছোট একটি ড্রাইভ হোক বা বাড়িতে একসঙ্গে সময় কাটানো, পারিবারিক সম্পর্ক তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নন্দিলের শুভেচ্ছা — “বাবা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, আশা করি চলতে থাকবে”

হিমন্ত শর্মার ছেলে নন্দিল বিশ্ব শর্মাও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের বললেন — “আমি তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আশা করি তিনি রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।” নন্দিলের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু আন্তরিক মন্তব্য পরিবারের সম্মিলিত আস্থার কথাই জানিয়ে দেয়।

হিমন্ত শর্মার বৃদ্ধা মা মৃণালিনী দেবী হুইলচেয়ারে করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছিলেন। ছেলের দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৃশ্য নিজের চোখে দেখার এই মুহূর্তটি একজন মায়ের জন্য কতটা আবেগের, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

একটি পরিবারের গল্প, একটি রাজ্যের আস্থার প্রতিফলন হিমন্ত শর্মার পরিবারের এই প্রতিক্রিয়াগুলি শুধু ব্যক্তিগত আনন্দের প্রকাশ নয় — এগুলো একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মানবিক মাত্রাকে তুলে ধরে। কলেজের ছাত্রাবস্থায় যে স্বপ্ন দেখেছিলেন হিমন্ত, পাঁচ দশক পেরিয়ে সেই স্বপ্ন এখন দ্বিতীয় মেয়াদে বাস্তব — এবং সেই যাত্রায় পরিবার ছিল প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে। আসামের বরাক উপত্যকা থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত যেসব মানুষ এই নেতাকে দ্বিতীয়বার রায় দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি পরিবারের কৃতজ্ঞতার এই প্রকাশ সেই সম্পর্কের গভীরতাকে স্পষ্ট করে তোলে। রিনিকির কথায় “জনগণের আশীর্বাদ” — এই কথাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি রাজ্যের মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসের সারাংশ।

শর্মার পরিবারের কণ্ঠে গর্ব — স্ত্রী বললেন “মা কামাখ্যার আশীর্বাদ”, মেয়ে বললেন “তিনি এটার যোগ্য”
Scroll to top