Read today's news --> ⚡️Click here 

সোনা রুপা আমদানি শুল্ক ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% — দেশে সোনার দাম এক ধাক্কায় বাড়ল ₹৯,২০৬

ভারত সরকার ১৩ মে ২০২৬ তারিখে একটি বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনা রুপা আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে এক লাফে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন শুল্ক কাঠামোয় ১০ শতাংশ মৌলিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ Agriculture Infrastructure and Development Cess (AIDC) যোগ করে মোট কার্যকর শুল্ক ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই ঘোষণার পরেই দেশীয় বাজারে সোনার দামে তীব্র উলম্ফন দেখা গেছে — MCX-এ সোনার দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ₹৯,২০৬ বা ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,৬২,৬৪৮-এ পৌঁছে গেছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত — রেকর্ড আমদানি রুপির চাপ

Bloomberg ও CNBC-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শুল্ক বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ভারতের ক্রমবর্ধমান আমদানি বিল এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের উপর চাপ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সোনার আমদানি ২৪.১ শতাংশ বেড়ে ৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, আর রুপার আমদানি অবিশ্বাস্য ১৪৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২.১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। মোট পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে — আগের বছরের ২৮০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে রুপির উপরে চাপ তৈরি হয়েছে — সোনা ও রুপার আমদানি সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। RBI-এর তথ্যে দেখা গেছে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৭.৭৯৪ বিলিয়ন ডলার কমে ৬৯০.৬৯৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মোদির আবেদন থেকে শুল্ক বৃদ্ধি — ঘটনাক্রম

এই সিদ্ধান্তের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে। সেই আবেদনের মাত্র দুদিন পরেই অর্থ মন্ত্রণালয় শুল্ক বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পশ্চিম এশিয়ার (মধ্যপ্রাচ্য) সংকটের কারণে ভারতের আমদানি বিল ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে — এর উপর সোনা ও রুপার রেকর্ড আমদানি চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র দু’বছর আগে — ২০২৪ সালের জুলাই মাসে — কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সোনার আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল চোরাচালান কমানো। Reuters-এর জানুয়ারির প্রতিবেদনে জানা যায়, কিছু শিল্পমহল তখন থেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে পরিস্থিতি বদলে গেলে শুল্ক আবার ১৫ শতাংশে ফিরতে পারে। সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তব হলো।

সোনার দামে প্রভাব — ক্রেতাদের জন্য কী বার্তা

শুল্ক বৃদ্ধির খবর বাজারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই MCX-এ সোনার ফিউচার প্রাইস ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,৬২,৬৪৮-এ পৌঁছে যায়। রুপার দামও একই সময়ে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি কেজিতে ₹২,৯৫,৮০৫-এ উঠেছে। নতুন শুল্ক হার ১৩ মে ২০২৬ থেকেই কার্যকর হয়েছে এবং এটি সোনা, রুপা, প্ল্যাটিনাম, গহনা ও মূল্যবান ধাতু-সংক্রান্ত শিল্প আমদানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। UAE থেকে নির্ধারিত কোটায় আমদানি করা সোনার ক্ষেত্রেও এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হবে বলে  নিশ্চিত করেছে।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার ক্রেতাদের জন্য প্রভাব

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি হাইলাকান্দি সহ বরাক উপত্যকার সোনার বাজারেও পড়বে। লালা, হাইলাকান্দি, শিলচর ও আশেপাশের এলাকায় বিবাহ মৌসুমে সোনার গহনার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এখন সোনার দাম আরও বাড়ায় বিয়ের পরিকল্পনাকারী পরিবারগুলোকে বাজেট পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও নতুন স্টক কেনার সময় বাড়তি শুল্কের প্রভাব মূল্যে যোগ করতে বাধ্য হবেন। যাঁরা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে চাইছিলেন, তাঁরা এই মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভবিষ্যতে এই শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকরভাবে আমদানি কমাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে মতভেদ আছে। India Bullion & Jewellers Association (IBJA)-এর সচিব সুরেন্দ্র মেহতা বলেছেন — “শুল্ক বাড়লে চোরাচালানও বাড়বে।” গত এক দশকে ভারতে বারবার দেখা গেছে, উচ্চ শুল্ক আমদানি কমায় না বরং অবৈধ পথে সোনার প্রবেশ বাড়িয়ে দেয়। সরকার এই বিষয়টি কীভাবে সামলায় এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব কেমন হয়, সেদিকে নজর রাখছে সারা দেশের ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।

সোনা রুপা আমদানি শুল্ক ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% — দেশে সোনার দাম এক ধাক্কায় বাড়ল ₹৯,২০৬
Scroll to top