১২ মে ২০২৬ মঙ্গলবার সকালে গুয়াহাটির খানাপাড়া ভেটেরিনারি কলেজ মাঠে যখন হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন নিরাপত্তা বাহিনী মঞ্চের প্রবেশপথেই একটি উদ্বেগজনক ঘটনার মুখোমুখি হয়। শপথ অনুষ্ঠানে জীবন্ত কার্তুজসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয় — এবং এই ঘটনাটি ঘটে রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের শপথ পরিচালনার ঠিক কয়েক মিনিট আগে। সুরক্ষা তল্লাশিতে কার্তুজ ধরা পড়ার এই ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং উচ্চপর্যায়ের এই রাজকীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।
কীভাবে ধরা পড়লেন ওই ব্যক্তি — প্রবেশদ্বারেই তল্লাশিতে উদ্ধার
PTI-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে খানাপাড়া ভেটেরিনারি কলেজ মাঠের প্রবেশপথে রুটিন নিরাপত্তা তল্লাশির সময় আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে কয়েক রাউন্ড জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান — “তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাকে বাসিষ্ঠা থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান — “কার্তুজ উদ্ধারের পরিস্থিতি এবং এতে কোনো নিরাপত্তা হুমকি ছিল কিনা তা নির্ধারণ করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।” এই ঘটনার পরও সামগ্রিক শপথ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সম্পন্ন হয়।
ওই ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেওয়ার পরে অনুষ্ঠান স্থলে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং বহুস্তরীয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা যে সফলভাবে কাজ করেছে, এই ঘটনা তার প্রমাণ।
কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ছিল গোটা খানাপাড়া
শপথ অনুষ্ঠানের আগেই মুখ্যসচিব রবি কোটার নির্দেশে গুয়াহাটি জুড়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নজরে রাখছিল। সমগ্র ভেটেরিনারি কলেজ মাঠ এলাকায় ব্যারিকেড, নিরাপত্তা চৌকি এবং মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছিল। কারণ এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, মার্কিন দূত সার্জিও গর সহ ৪০টিরও বেশি NDA-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এক লক্ষেরও বেশি মানুষের ভিড় প্রত্যাশিত ছিল বলে জানিয়েছে — এতবড় সমাবেশে নিরাপত্তা তল্লাশির গুরুত্ব তাই ছিল অপরিসীম।
তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো — ওই ব্যক্তি জেনেশুনে কার্তুজ নিয়ে এসেছিলেন, নাকি অসাবধানতাবশত? পুলিশ এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। নিরাপত্তা বাহিনী এটিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের উচ্চপ্রোফাইল অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীরাও অস্ত্র বা কার্তুজ সঙ্গে রাখতে পারেন না — এটি সর্বজনবিদিত নিয়ম। তবে ব্যক্তির পরিচয় এবং তার উপস্থিতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। বাসিষ্ঠা থানায় তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পাবে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সচেতনতার বার্তা — আসাম থেকে সারা দেশে
এই ঘটনা আসামের নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতার প্রমাণ দিলেও, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বড় অনুষ্ঠানগুলিতে আরও কঠোর তল্লাশি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। হাইলাকান্দি ও লালার মতো জেলা শহরেও যেখানে ছোট-বড় সরকারি অনুষ্ঠান হয়, সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশির গুরুত্ব এই ঘটনা নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিল। বরাক উপত্যকায় বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ ও সরকারি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় — এবং এসব ক্ষেত্রে প্রবেশপথে কার্যকর মেটাল ডিটেক্টর ও তল্লাশি নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব।
এই ঘটনার পর বাসিষ্ঠা থানার তদন্তে কী বেরোয় সেটাই এখন সবার দৃষ্টি। ওই ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর অনুষ্ঠানে আসার কারণ এবং কার্তুজ বহনের উদ্দেশ্য — এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেলে স্পষ্ট হবে এটি ছিল নিছক অসাবধানতা, নাকি পরিকল্পিত কিছু। আসামের পুলিশ প্রশাসন সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।