হাইলাকান্দি কেন্দ্রে ঐতিহাসিক জয়ের পর বিধায়ক নির্বাচিত ডক্টর মিলন দাস প্রথমবারের মতো রামনাথপুরে পা রাখতেই সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মিলন দাস রামনাথপুর সংবর্ধনায় জনজোয়ারে ভেসেছেন হাজার হাজার উত্সাহী সমর্থক ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে। ৪ মে ২০২৬ ভোট গণনা শেষে ডক্টর মিলন দাস মোট ১,১৯,৫৯১ ভোট পেয়ে কংগ্রেসের রাহুল রয়কে ৫৫,৮১৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন — এটি হাইলাকান্দির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি রেকর্ড জয়। সেই বিজয়ের আনন্দ নিয়েই তিনি যখন নিজ এলাকা রামনাথপুরে এসে পৌঁছান, তখন জনজোয়ার তাঁকে কার্যত ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
রামনাথপুরে বিধায়কের প্রথম পদার্পণ — উৎসবের ঢেউ
মিলন দাস রামনাথপুর সংবর্ধনার দৃশ্যটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত জনউৎসাহের প্রকাশ। বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর হাইলাকান্দি শহর থেকে রামনাথপুরে আসার পথে রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। ফুলের মালা, গামছা পরিয়ে ও মিষ্টি মুখ করিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় নবনির্বাচিত বিধায়ককে। এই উচ্ছ্বাসের পেছনে রয়েছে পাঁচ বছরের অপেক্ষা। ২০২১ সালে মিলন দাস এই একই হাইলাকান্দি কেন্দ্র থেকে লড়াই করে AIUDF প্রার্থী জাকির হোসেন লস্করের কাছে ২৩,৭৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই পরাজয়ের পরও তিনি মাঠ ছাড়েননি — এলাকার মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করে গেছেন। তাই এবারের জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, এটি পাঁচ বছরের অধ্যবসায়ের পুরস্কার — রামনাথপুরের মানুষ সেটা গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
ছাত্রনেতা থেকে বিধায়ক — এক অনুপ্রেরণাদায়ী যাত্রা
মিলন দাস রামনাথপুর সংবর্ধনায় যে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল, তার একটি বড় কারণ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের ধরনটাই আলাদা। তিনি অসম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি হাইলাকান্দির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিচিত ছিলেন। পরে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে তিনি শিক্ষিত তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। Gen Z রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তাঁর নাম উঠে আসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
২০২৬ সালে BJP প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার রাতেই হাজার হাজার সমর্থক লক্ষীনগর বাইপাস থেকে বিশাল বাইক র্যালি করেছিলেন। সেই উৎসাহ শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের চেয়ে ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধান — এটি কোনো সাধারণ জয় নয়। এটি একটি জনমতের প্রকাশ।
লালা ও হাইলাকান্দির প্রত্যাশা — উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এখন পরীক্ষায়
হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে লালা শহর ও রামনাথপুর অন্তর্ভুক্ত — তাই মিলন দাস রামনাথপুর সংবর্ধনার এই ঘটনাটি লালাবাজার ডটকমের পাঠকদের কাছে সরাসরি প্রাসঙ্গিক। হাইলাকান্দি জেলায় দীর্ঘদিনের অবকাঠামো ঘাটতি, স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব, সড়ক সমস্যা এবং কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। প্রচারকালে ডক্টর মিলন দাস হাইলাকান্দির আনাচে কানাচে — দলাই চা বাগান থেকে শুরু করে দূরের গ্রাম পর্যন্ত — প্রতিটি প্রান্তে প্রচার করেছিলেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে হাইলাকান্দি আসন “উপহার” দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা।
রামনাথপুরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটি ছিল একটি এলাকার মানুষের তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে প্রত্যাশার বার্তা দেওয়ার মুহূর্ত। ১,১৯,৫৯১ জন ভোটার যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার ভার এখন ডক্টর মিলন দাসের কাঁধে। নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভায় হাইলাকান্দির কণ্ঠস্বর কতটা জোরালো হয়, লালা শহর ও রামনাথপুরের মানুষ সেদিকেই চোখ রেখেছেন।