Read today's news --> Click here

অসমে ভোটযুদ্ধ কংগ্রেস বনাম বিজেপির নয়, লড়াই ‘সৎ’ এবং ‘অসৎ’-এর মধ্যে: পবন খেরা

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অসমের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। আর তারই মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তীব্র আক্রমণ করলেন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান পবন খেরা। বুধবার গুয়াহাটির রাজীব ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অসমে আসল লড়াই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে নয়। বরং এই লড়াই কংগ্রেসের ‘সৎ ও সাহসী’ অংশের সঙ্গে ‘অসৎ ও কাপুরুষ’ অংশের, যারা এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ।

মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে খেরা একটি কাল্পনিক ‘লাই ডিটেক্টর’ বা মিথ্যা নির্ণায়ক যন্ত্রের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, “হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মিথ্যা বললে লাল আলো জ্বলে এবং সত্যি বললে সবুজ। কিন্তু গত দশ বছরে একবারও সবুজ আলো জ্বলেনি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রাজনৈতিক গুরু মানার পর মুখ্যমন্ত্রী আদৌ কখনও সত্য কথা বলেছেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি । তাঁর অভিযোগ, বিগত এক দশক ধরে মুখ্যমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন ।

রাজ্যের শাসনভার নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরেছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। তিনি জানান, ছ’টি সম্প্রদায়কে উপজাতির মর্যাদা দেওয়া বা কর্মসংস্থান তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। খুব সামান্য সংখ্যক মানুষেরই আজ সুরক্ষিত চাকরি রয়েছে এবং চা-বাগান শ্রমিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও অধরাই রয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন । অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরকারের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে খেরা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ইউপিএ (UPA) আমলে দশ বছরে প্রায় ৮৮,৭৯২ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, যেখানে এনডিএ (NDA) সরকার প্রায় পাঁচ বছরে মাত্র ২,৫৬৬ জনকে ফেরত পাঠাতে পেরেছে ।

রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থারও এক করুণ চিত্র তুলে ধরেন পবন খেরা। তাঁর দাবি, অসমে বর্তমানে ৯৭ শতাংশ সার্জেন এবং ৯৪ শতাংশ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে, যা সরকারের উন্নয়নের দাবির আসল চেহারা ফাঁস করে দেয়। পাশাপাশি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আমলে হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন । শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির দিকে আঙুল তুলে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাথে যোগসাজশের যে অভিযোগ বিজেপি তুলেছে, তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে খেরা বলেন, প্রমাণ থাকলে সরকার যেন তদন্ত করে পদক্ষেপ নেয় । জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন যে, ন্যায়বিচার চাওয়া কোনো রাজনীতি নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব ।

বিজেপি সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) এবং পরিচয়ের রাজনীতির মতো বিষয়গুলিকে সামনে আনছে বলে খেরা অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, এর ফলে কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার মতো প্রকৃত সমস্যাগুলি আড়ালে চলে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও একহাত নিয়ে খেরা বলেন, “ভোটের সময়েই যদি জিনিসের দাম বাড়ে, তবে নির্বাচনের পর কী হবে, তা সহজেই অনুমেয় ।”

অসমে ভোটযুদ্ধ কংগ্রেস বনাম বিজেপির নয়, লড়াই ‘সৎ’ এবং ‘অসৎ’-এর মধ্যে: পবন খেরা
Scroll to top