Read today's news --> Click here

অসম নির্বাচন: দলবদলু নেতাদের টিকিটের ছড়াছড়ি বিজেপিতে, ক্ষোভে দল ছাড়লেন হাফলংয়ের মন্ত্রী সহ একাধিক আদি নেতা

আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যার ভোটগণনা হবে ৪ মে । নির্বাচনের আগে শাসক দল বিজেপির ৮৮ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ হতেই দলের অন্দরে ব্যাপক ক্ষোভ এবং বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়েছে । এই তালিকায় ১৯ জন বর্তমান বিধায়ককে (MLA) সরাসরি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীই হলেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা । দশকের পর দশক ধরে দলের সংগঠন মজবুত করা একনিষ্ঠ কর্মীদের বদলে সদ্য দলবদলুদের টিকিট দেওয়ায় আদি বিজেপি নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ।

সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নাটক তৈরি হয়েছে দিসপুর এবং হাফলং কেন্দ্রে। দিসপুরে ৩৫ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকা জয়ন্ত দাসকে সরিয়ে সদ্য মার্চ মাসে কংগ্রেস ছেড়ে আসা সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈকে টিকিট দেওয়া হয়েছে । এর প্রতিবাদে দল ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘টিকিট সিন্ডিকেট’ চালানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জয়ন্ত দাস এবং তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ার কথাও ঘোষণা করেছেন । একই কেন্দ্র থেকে ১৯৮৫ সাল থেকে রাজনীতিতে থাকা পাঁচবারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অতুল বোরাও টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, যাঁকে শান্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাঁর বাসভবনে ছুটে যান । অন্যদিকে হাফলং কেন্দ্রে ২০২১ সালে জয়ী আদিবাসী, খনি ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী নন্দিতা গার্লোসাকে বাদ দিয়ে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের (NCHAC) প্রধান দেবোলাল গার্লোসা-ঘনিষ্ঠ নবাগতা রূপালী লাংথাসাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি । টিকিট না পেয়ে গত রবিবার রাতেই দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন নন্দিতা এবং তাঁকে জায়গা করে দিতে নিজেদের ঘোষিত প্রার্থী সাধারণ সম্পাদক নির্মল লাংথাসাকে সরিয়ে নিয়েছে হাত শিবির ।

বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে অন্যান্য একাধিক কেন্দ্রেও। নতুন গুয়াহাটি কেন্দ্রে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যকে সরিয়ে সামাগুড়ির বর্তমান বিধায়ক দিপ্লু রঞ্জন শর্মাকে এবং গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্রে অগপ (AGP) নেতা রমেন্দ্র নারায়ণ কলিতার বদলে হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের বর্ষীয়ান নেতা বিজয় গুপ্তকে টিকিট দেওয়া হয়েছে । বরাক উপত্যকার ধলাই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাসও টিকিট না পেয়ে ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন । পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে উত্তর-পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্রকে তড়িঘড়ি বিক্ষুব্ধ নেতাদের বাড়িতে পাঠিয়ে শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈকে দুর্বল করে রাজ্যকে সম্পূর্ণভাবে ‘কংগ্রেস-মুক্ত’ করা । গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ অখিল রঞ্জন দত্তের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এখন আদর্শের চেয়েও ফলাফল-ভিত্তিক আগ্রাসী রাজনীতির ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন । অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডঃ বিকাশ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন যে, বিজেপি এবার সরকার গড়ার জন্য ৬৫টি আসনের বদলে একেবারে ১০০টি আসন জয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে । তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী আসলে উপজাতিদের জমি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন বলেই এই কৌশল নিয়েছেন । ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ কৌস্তুভ ডেকার মতে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর এই রদবদল ভোটারদের মানসিকতায় অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে ।

অসম নির্বাচন: দলবদলু নেতাদের টিকিটের ছড়াছড়ি বিজেপিতে, ক্ষোভে দল ছাড়লেন হাফলংয়ের মন্ত্রী সহ একাধিক আদি নেতা
Scroll to top