Read today's news --> Click here

নিরাপত্তা উদ্বেগ: মায়ানমারের বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিতে অসমকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বিদেশি ভাড়াটেরা, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারে চাঞ্চল্যকর তথ্য

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে ব্যবহার করে মায়ানমারের (Myanmar) বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বিদেশি ভাড়াটেরা বা মার্সেনারিরা (mercenaries)। সম্প্রতি মায়ানমারে বিদ্রোহীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ফেরার পথে এক মার্কিন নাগরিক এবং ছয়জন ইউক্রেনীয়র গ্রেপ্তারের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডের মতো সংরক্ষিত রাজ্যগুলিতে বিদেশিদের প্রবেশে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন থাকায়, কড়া নজরদারি এড়াতে এই বিদেশি ভাড়াটেরা অসমকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে ।

নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নব্বইয়ের দশকে অসম সহ উত্তর-পূর্বের প্রায় সমস্ত রাজ্যই সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শুধুমাত্র চিন সংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশেই বিদেশিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতির নিয়ম বলবৎ রাখা হয় । কিন্তু ২০২৪ সালে আইজল বিমানবন্দরে (Aizawl airport) এক ব্রিটিশ নাগরিকের ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র মেলার পর মিজোরাম এবং নাগাল্যান্ডকেও ফের সংরক্ষিত এলাকার আওতায় আনা হয়। সেই ব্রিটিশ নাগরিককে জেরা করেই প্রথম জানা গিয়েছিল যে বিদেশি ভাড়াটেরা মায়ানমারে যাতায়াত করছে ।

সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ভারত হয়ে মায়ানমারে বিদেশি ভাড়াটেদের যাতায়াত এখনও অব্যাহত রয়েছে । তদন্তে জানা গেছে, এই বিদেশিরা সরাসরি মিজোরামে না গিয়ে প্রথমে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Lokapriya Gopinath Bordoloi International Airport) নামেন, কারণ অসমে আসার জন্য বিদেশিদের কোনো বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এরপর গুয়াহাটি থেকে গাড়ি ভাড়া করে তাঁরা মিজোরামে পৌঁছন এবং অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্তের সুযোগ নিয়ে মায়ানমারে প্রবেশ করেন । বিশেষ অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে আইন ভাঙার অপরাধেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।

জেরায় ধৃতেরা স্বীকার করেছে যে, মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী, বিশেষত কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মি বা কিয়া (KIA)-র ক্যাডারদের ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিতেই তারা সেখানে গিয়েছিল। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, বিদেশি শক্তিগুলি যে মায়ানমারের বিদ্রোহীদের সাহায্য করছে তা দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল, কিন্তু তারা যে এই কাজের জন্য ভারতের মাটিকে ব্যবহার করছে তা এতদিন অজানা ছিল । এক আধিকারিক জানান, “তারা মায়ানমারে কী করেছে তা ভারতের চিন্তার বিষয় নয়। তবে ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ হল, উত্তর-পূর্ব ভারতকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা এবং বৈধ অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে দেশের আইন লঙ্ঘন করা ।”

নিরাপত্তা উদ্বেগ: মায়ানমারের বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিতে অসমকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বিদেশি ভাড়াটেরা, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারে চাঞ্চল্যকর তথ্য
Scroll to top