
জনপ্রিয় অসমীয়া শিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুরহস্যের তদন্তে গঠিত ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে (fast-track court) বুধবার টানা তৃতীয় দিনের জন্য শুনানি সম্পন্ন হলো। এই গোটা মামলাটিকে রাজ্য সরকার “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার” দিয়ে দেখছে বলে এদিন ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অসমের অ্যাডভোকেট জেনারেল (Advocate General) দেবজিৎ শইকীয়া।
আদালতে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শইকীয়া জানান, মামলাটি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে রয়েছে এবং ‘পয়েন্ট অফ ডিসচার্জ’ বা আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না, মূলত সেই বিষয়েই এখন সওয়াল-জবাব চলছে। জিয়াউল কামারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ প্রসিকিউশন দল অত্যন্ত পদ্ধতিগতভাবে এই মামলাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে। এদিন ডিরেক্টর অফ প্রসিকিউশন মাখন ফুকন এবং তিনি নিজে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আদালতে উপস্থিত থেকে গোটা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেছেন বলে জানান শইকীয়া। তাঁর কথায়, “তদন্তে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই আমরা নজরদারি চালাচ্ছি। প্রসিকিউশন দল অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা ডিফেন্সের সমস্ত যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ নথিবদ্ধ করছে। ডিফেন্সের সওয়াল শেষ হলেই আমরা তার পাল্টা যুক্তি পেশ করব।”
মামলাটি বিচারাধীন হওয়ায় এর বেশি কিছু বলতে রাজি না হলেও, প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া চার্জশিটের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছেন শইকীয়া। তিনি জানান যে পুলিশ ইতিমধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী চার্জশিট দাখিল করেছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এই ডিসচার্জ শুনানি শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলার সাথে পেট্রোল পাম্প বা জল প্রকল্পের মতো অন্যান্য বাণিজ্যিক দুর্নীতির অভিযোগ জুড়তে চাওয়ার চেষ্টাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “বর্তমান মামলাটি শুধুমাত্র জুবিনের মৃত্যু খুন কি না, তা নির্ধারণের ওপরই নির্ভরশীল। এর সাথে কোনো বাণিজ্যিক অভিযোগের সম্পর্ক নেই।”
অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও জানান, মামলাটি কতটা ব্যাপক ও জটিল তা বোঝাতে প্রতিদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত টানা শুনানি চলছে। বিশেষ সরকারি আইনজীবীকে নিজেদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত করতে অন্তত আরও চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে। এই পর্যায়ে একাধিক সাক্ষীর বয়ানের পাশাপাশি বিভিন্ন বৈদ্যুতিন প্রমাণ, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং আইনি দিকগুলিও আদালতের সামনে তুলে ধরতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। গত ৩০ মার্চ থেকে প্রবল জনদাবি ও কড়া পাহারার মাঝে জুবিন গর্গের মৃত্যু মামলার এই ফাস্ট-ট্র্যাক শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনেই প্রসিকিউশনের দাখিল করা চার্জশিটটি গ্রহণ করে আদালত এই ডিসচার্জ শুনানি শুরু করেছিল।