Read today's news --> ⚡️Click here 

হিমন্ত বিশ্বশর্মা পাসপোর্ট বিতর্কে BJP-Congress সংঘাত: রাহুল গান্ধীর ‘দুর্নীতিগ্রস্ত CM’ মন্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণ

আসামের রাজনীতি ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ২০২৬ একটি তীব্র বাকযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। BJP এবং Congress-এর মধ্যে হিমন্ত বিশ্বশর্মা পাসপোর্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে — যখন Congress নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যম X-এ আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত CM’ বলে আখ্যা দিলেন, তখন BJP মুখপাত্র শেহজাদ পূনাওয়ালা তীব্র পাল্টা আক্রমণে নামলেন। এই রাজনৈতিক বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে Congress নেতা পবন খেরার সেই বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলন, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে CM হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট রাখেন এবং বিদেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে যা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

পবন খেরার অভিযোগ পুলিশি তৎপরতা

৫ এপ্রিল ২০২৬, Congress-এর AICC মিডিয়া ও পাবলিসিটি বিভাগের চেয়ারপার্সন পবন খেরা দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন যে রিনিকি ভূয়াঁ শর্মার কাছে তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে — UAE, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়ার। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে আমেরিকার Wyoming রাজ্যে একটি কোম্পানিতে CM শর্মা, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রের নাম নথিভুক্ত রয়েছে এবং সেই কোম্পানির মোট বাজেট ৩,৪৬৭ কোটি মার্কিন ডলার বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা একটি FIR দায়ের করেন এবং ৭ এপ্রিল আসাম পুলিশ ও দিল্লি পুলিশের যৌথ দল পবন খেরার দিল্লির বাসভবনে পৌঁছায়।

খেরা অবশ্য এর মধ্যে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে ১০ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের অগ্রিম জামিন পেয়েছেন। এই জামিনের বিরুদ্ধে আসাম সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। খেরা এর পরেও দাবি করেছেন যে আরও প্রমাণ সামনে আসবে এবং তিনি তদন্তের দাবি থেকে পিছু হটবেন না। CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা নিজে অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, দেখানো পাসপোর্টে জন্মস্থান, বানান এবং অন্যান্য তথ্যে ভুল রয়েছে — তাঁর স্ত্রীর নামে কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নেই।

রাহুল গান্ধীর আক্রমণ ও BJP-পাল্টা: ‘ভুয়ো নথি, পাকিস্তানি সংযোগ’

১৩ এপ্রিল ২০২৬, রাহুল গান্ধী X-এ পোস্ট করেন: “আসামের বর্তমান CM দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি আইনের মুখ থেকে বাঁচতে পারবেন না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের হেনস্থা করতে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার সংবিধানবিরোধী। উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার। স্বচ্ছতা, ক্ষমতার জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনই আমাদের সাংবিধানিক মূল্যবোধের ভিত্তি। Congress পার্টি পবন খেরার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ভয় পাব না।”

রাহুল গান্ধীর এই পোস্টের পর BJP মুখপাত্র শেহজাদ পূনাওয়ালা X-এ একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে কঠোর পাল্টা দেন। তিনি দাবি করেন যে খেরার ব্যবহার করা নথিগুলো ‘ভুয়ো’ এবং ‘স্পনসর করা’। তাঁর ভাষায়, পাসপোর্টগুলো আসলে ভিসা থেকে ডিজিটালি পরিবর্তন করা হয়েছে। পূনাওয়ালা আরও দাবি করেন যে এই ভুয়ো নথি সরাসরি ইসলামাবাদ, পাকিস্তান থেকে এসেছে এবং এই পুরো বিষয়টি রাহুল গান্ধীর দ্বারা ‘স্পনসর’ করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। CM হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এর আগে দাবি করেছিলেন যে পাকিস্তানি মিডিয়া চ্যানেলগুলো আসাম বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে অন্তত ১১টি শো প্রচার করেছে।

পূনাওয়ালা পাল্টা কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দিকে রাহুল গান্ধীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, এবং সমগ্র বিতর্ককে ‘বাইরের শক্তির দ্বারা পরিচালিত রাজনৈতিক হিট জব’ বলে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে রিনিকি ভূয়াঁ শর্মা নিজে অভিযোগগুলোকে ‘AI-generated ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে নাকচ করেছেন।

বিধানসভা ভোটের পটভূমি হাইলাকান্দি-বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা

এই পুরো বিতর্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পটভূমিতে ঘটেছে। ৯ এপ্রিল ২০২৬ আসাম বিধানসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস যখন এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ এনেছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই BJP তাকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছে। রাহুল গান্ধী এমনকি প্রয়াত শিল্পী জুবিন গার্গের নাম উল্লেখ করে এই বিতর্ককে ‘ঐক্য বনাম বিভাজনের লড়াই’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের রাজনৈতিক পরিবেশেও এই জাতীয় বিতর্কের প্রতিধ্বনি পড়ে। বরাক উপত্যকায় BJP এবং Congress উভয়ই সক্রিয়, এবং এই অঞ্চলের ভোটারদের একটি বড় অংশ বাংলাভাষী সম্প্রদায়ের — যারা আসামের জাতীয় রাজনীতির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখেন। CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে মনোযোগ দিয়েছেন, এবং এই বিতর্ক তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে কতটা প্রভাবিত করে — সেটি এই অঞ্চলের ভোটারদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

আইনি ও রাজনৈতিক — উভয় দিক থেকেই এই বিতর্ক এখনও চলমান। সুপ্রিম কোর্টে আসাম সরকারের আবেদনের পরিণতি, পবন খেরার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার গতিপথ এবং কংগ্রেসের দাবিমতো আরও ‘প্রমাণ’ সামনে আসে কি না — এই প্রতিটি বিষয়ের উপর নির্ভর করছে এই রাজনৈতিক বিবাদের পরবর্তী অধ্যায়। একটি বিষয় স্পষ্ট: আসামের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক আবহ এই পাসপোর্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, এবং উভয় দলই জনমতকে নিজের দিকে টানতে তাদের পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করেছে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা পাসপোর্ট বিতর্কে BJP-Congress সংঘাত: রাহুল গান্ধীর ‘দুর্নীতিগ্রস্ত CM’ মন্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণ
Scroll to top