Read today's news --> ⚡️Click here 

মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ে কংগ্রেস-TMC-DMK-SP-কে দায়ী করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে কড়া হুঁশিয়ারি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৮ এপ্রিল শনিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, DMK এবং সমাজবাদী পার্টিকে সরাসরি দায়ী করলেন মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ের জন্য। মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বললেন, বিরোধী দলগুলো “সংবিধানের বিরুদ্ধে অপরাধী” এবং “দেশের নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধী।” এই ভাষণ এসেছে মাত্র একদিন পর — যেদিন লোকসভায় সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল মাত্র ২৯৮টি ভোট পেয়ে প্রয়োজনীয় ৩৫২ ভোটের লক্ষ্য স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়। এটি ২০১৪ সালে মোদি সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ১২ বছরে সংসদে সরকারের প্রথম আইনি পরাজয়।

লোকসভায় কী ঘটেছিল ১৭ এপ্রিল

মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে ভাষণের আগের দিন সংসদে যা ঘটেছিল তা ছিল ঐতিহাসিক। কেন্দ্রীয় সরকার একসাথে তিনটি বিল উপস্থাপন করেছিল — সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তিনটি বিল “অবিচ্ছেদ্যভাবে পরস্পর সংযুক্ত।” সংবিধান সংশোধনী বিল পরাজিত হওয়ার পর সরকার বাকি দুটি বিলের ভোটাভুটিতে না গিয়ে সেগুলো প্রত্যাহার করে নেয়।

মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন আইনের বাস্তবায়ন ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করা এবং লোকসভার আসনসংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করা। কিন্তু বিরোধী দলগুলো এই বিলে লুকানো Delimitation এজেন্ডার বিরোধিতা করে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো আশঙ্কা করেছিল, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হলে কম জনসংখ্যাবৃদ্ধি পাওয়া তামিলনাড়ু, কেরল ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব হারাবে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “তারা সংবিধান ভাঙতে নারীদের নাম ব্যবহার করেছে।”

মোদির তীব্র পাল্টা: ‘ভ্রূণহত্যা’ থেকে ‘পরিণতি’হুঁশিয়ারি

মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়কে কেন্দ্র করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা অত্যন্ত কড়া এবং আক্রমণাত্মক। তিনি বলেন, “কংগ্রেস ও তার মিত্ররা এই সৎ প্রচেষ্টার ভ্রূণহত্যা করেছে — সারা দেশের সামনে সংসদের ভেতরে। তারা ভ্রূণহত্যা করেছে। কংগ্রেস, TMC, সমাজবাদী পার্টি এবং DMK-র মতো দলগুলো এই ভ্রূণহত্যার দোষী।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিল পরাজিত হওয়ার পর যখন বিরোধী সংসদ সদস্যরা মেজ চাপড়ে উল্লাস প্রকাশ করছিলেন, সেটি দেখে তাঁর অত্যন্ত কষ্ট হয়েছে l

তিনি জানান, এই বিল পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি দেশের সমস্ত মা ও বোনদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছেন। তবে একইসাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিরোধীরা তাদের এই ভুলের পরিণতি ভোগ করবে।” BJP ও NDA জোটের শরিক দলগুলো ইতিমধ্যে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেন, “নারী শক্তির এই অপমান এখানেই শেষ হবে না — এটি দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।”

আসাম বরাক উপত্যকার দৃষ্টিকোণ: মহিলা প্রতিনিধিত্বের বাস্তবতা

মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, সেটি আসামের বরাক উপত্যকা এবং হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনের মানুষের কাছেও প্রাসঙ্গিক। আসামের বিধানসভায় মহিলা বিধায়কদের সংখ্যা এখনও নগণ্য — মোট ১২৬টি আসনের মধ্যে মহিলা প্রতিনিধিত্ব ১০ শতাংশেরও কম। বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা — হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জ থেকে নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে মহিলাদের উপস্থিতি ঐতিহাসিকভাবেই কম। এই পরিপ্রেক্ষিতে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু হলে বরাক উপত্যকার মহিলাদের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের নতুন দরজা খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

লালা টাউন ও হাইলাকান্দির BJP সমর্থক মহলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মোদির এই আক্রমণ ব্যাপক প্রতিধ্বনি তুলেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও TMC-কে সরাসরি নিশানা করে এই সংরক্ষণ বিতর্ককে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে BJP-র প্রচার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছেন। মমতা ব্যানার্জির TMC যে বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে — সেই তথ্য BJP বাংলা ভোটে মহিলা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপর কী: বিরোধীদের যুক্তি এবং আগামী রাজনীতি

বিরোধীরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে — Times of India জানিয়েছে, বিরোধী জোটের মতে এই পরাজয় মহিলা সংরক্ষণের নয়, বরং সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরাজয়। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বাড্রা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মহিলা সংরক্ষণকে ইচ্ছাকৃতভাবে Delimitation-এর সাথে জুড়ে দিয়েছেন। দক্ষিণের নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২৩ সালেই পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন আইন বর্তমান ৫৪৩টি আসনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব — তার জন্য আসনসংখ্যা বাড়ানোর দরকার নেই।

মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল বিতর্ক এখন কেবল সংসদীয় রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে এসে দেশের মহিলা ভোটারদের মনে গভীর প্রশ্ন তৈরি করছে — কে সত্যিকারের নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে? আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন এবং দেশজুড়ে BJP-র প্রচার অভিযানে এই বিষয়টি কতটা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে, সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত — ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ ইস্যু ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠতে চলেছে।

মোদি মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ে কংগ্রেস-TMC-DMK-SP-কে দায়ী করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে কড়া হুঁশিয়ারি
Scroll to top