Read today's news --> ⚡️Click here 

মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধ আলোচনা পুনরায় শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের পরে: উপমুখ্যমন্ত্রী ধার

মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধ নিরসনের আলোচনা আপাতত স্থগিত — অন্তত আসামে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত। ৯ এপ্রিল ২০২৬-এ আসামের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়ে গেছে এবং ৪ মে গণনার পর যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তার পরেই দুই রাজ্যের মধ্যে সীমান্ত আলোচনার পরবর্তী পর্ব শুরু হবে বলে মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াওভালাং ধার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। শিলংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ধার বলেন, আসামের তরফ থেকে আঞ্চলিক কমিটির নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, সেটি এখনও জানা যায়নি — কারণ সেই সরকারই এখনও গঠিত হয়নি। এই বক্তব্য মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসে আরেকটি প্রশাসনিক বিরতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উপমুখ্যমন্ত্রী ধারের বক্তব্য: আলোচনা চলমান, তবে সময়সীমা নেই

উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াওভালাং ধার সরাসরি বলেছেন: “অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আসামে নতুন সরকার গঠিত হলেই আমরা আলোচনা পুনরায় শুরু করব।” তিনি আরও জানান: “এই মুহূর্তে আমরা জানি না তাদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান কে হবেন, কারণ আসামে নতুন সরকার এখনও গঠিত হয়নি।” ২০২৮ সালের মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিরোধ মেটানো সম্ভব কিনা — এমন প্রশ্নের জবাবে ধার বলেন: “আমরা ক্রমাগত সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি, যদিও এটা সহজ প্রক্রিয়া নয়। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়, তবে যত দ্রুত সম্ভব মেটানোর চেষ্টা করব।”

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে মেঘালয় সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু আসামের নতুন সরকার গঠনের ও আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগের আগে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। আসামে ভোটগ্রহণ হয়েছে ৯ এপ্রিল, গণনা হবে ৪ মে এবং সরকার গঠন তার পরের কয়েক দিনের মধ্যে হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ১২৬ আসনের বিধানসভায় NDA জোট ৭৫টি আসনে জয়ী হওয়ার প্রেক্ষিতে হিমন্ত বিশ্বশর্মাই আবার CM হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধ: ৫০ বছরের পুরনো সমস্যা কোথায় দাঁড়িয়ে

মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধের শিকড় রয়েছে ১৯৭২ সালে, যখন আসাম থেকে মেঘালয় পৃথক রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই থেকে দুই রাজ্যের ৮৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানায় মোট ১২টি সেক্টরে বিরোধ চলে আসছে। Shankar IAS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১১ সালে মেঘালয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ১২টি বিতর্কিত এলাকা চিহ্নিত করে দাবি উত্থাপন করে।

২০২১–২২ সালে উভয় রাজ্য এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ সমাধানে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেয়। প্রথম পর্যায়ে ছয়টি বিতর্কিত সেক্টর নিয়ে আলোচনার জন্য তিনটি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়, প্রতিটি কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয় মন্ত্রীদের। ২০২২ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আসামের CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও মেঘালয়ের CM কনরাড সাংমা একটি MoU স্বাক্ষর করেন। সেই চুক্তিতে ছয়টি বিতর্কিত সেক্টরের প্রায় ৩৬.৭৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সমাধান হয় — যেখানে আসাম পায় ১৮.৫১ বর্গকিলোমিটার এবং মেঘালয় পায় ১৮.২৮ বর্গকিলোমিটার।

সেই চুক্তির পর উভয় রাজ্যের সীমানার প্রায় ৭০ শতাংশ বিরোধমুক্ত হয়েছে। ClearIAS-এর তথ্যমতে, প্রথম দফায় সমাধান হওয়া ছয়টি সেক্টর হলো তারাবাড়ি, গিজাং, হাহিম, বোক্লাপাড়া, খানাপাড়া-পিল্লাংকাটা এবং রাটাছেরা — যেগুলো আসামের কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো) ও কাছাড় জেলা এবং মেঘালয়ের ওয়েস্ট খাসি হিলস, রি-ভোই ও ইস্ট জয়ন্তিয়া হিলস জেলার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বাকি ছয়টি সেক্টরের বিরোধ এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

বাকি ছয় সেক্টর হিমন্তের অঙ্গীকার: অগ্রগতির চিত্র

প্রথম দফার সমাধানের পর বাকি ছয়টি বিতর্কিত সেক্টর নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। মার্চ ২০২৫-এ আসামের CM হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছিলেন যে Survey of India-র মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে এবং বাকি ছয়টির মধ্যে তিনটি শীঘ্রই সমাধান হতে পারে — তবে মেঘালয় নাকি সবগুলো একসঙ্গে মেটাতে চায়। এই মতপার্থক্যও আলোচনাকে জটিল করে রাখছে।

উপমুখ্যমন্ত্রী ধারের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে মেঘালয় একতরফাভাবে অগ্রসর হতে রাজি নয়। আসামের আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত হলে তবেই মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ও যৌথ আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারবে।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ: রাটাছেরা সেক্টর

মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধের বিষয়টি হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের কাছে শুধু দূরের রাজনৈতিক সমস্যা নয়। ২০২২ সালের চুক্তিতে সমাধান হওয়া ছয়টি সেক্টরের একটি — রাটাছেরা — আসামের কাছাড় জেলা ও মেঘালয়ের ইস্ট জয়ন্তিয়া হিলসের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। কাছাড় জেলাই হাইলাকান্দির পার্শ্ববর্তী, এবং এই সীমান্ত এলাকায় বাস করা মানুষদের জমি ও বাসস্থানের নিরাপত্তা সরাসরি এই আলোচনার উপর নির্ভর করে। যে ছয়টি সেক্টরের বিরোধ এখনও বাকি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আরও কোনো সেক্টর কাছাড় বা তার সংলগ্ন এলাকায় থাকলে তা বরাক উপত্যকার জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।

লালা টাউনের মানুষও এই বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারেন না। সীমান্ত বিরোধের সমাধান বা অবনতি — উভয়ই হাইলাকান্দি জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, উন্নয়ন প্রকল্প ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগকে প্রভাবিত করে।

৪ মে আসামের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন সরকার গঠিত হলে এবং আঞ্চলিক কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হলে, মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধ আলোচনার পরবর্তী অধ্যায় শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ২০২৮ সালের মেঘালয় নির্বাচনের আগে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে কিনা, তা নির্ভর করছে উভয় রাজ্যের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যস্থতার উপর। দশকের পর দশক ধরে চলা এই সীমান্ত বিরোধ সমাধানের পথ যে সহজ নয়, সেটা উপমুখ্যমন্ত্রী ধার নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন।


মেঘালয়-আসাম সীমান্ত বিরোধ আলোচনা পুনরায় শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের পরে: উপমুখ্যমন্ত্রী ধার
Scroll to top