Read today's news --> ⚡️Click here 

মেঘালয় সড়ক প্রকল্পে বাংলাদেশের আপত্তি ও ভূমি বিরোধে বিলম্ব, শিলং-শিলচর হাইওয়েও প্রভাবিত

মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প বাংলাদেশের আপত্তি, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও আদালতের মামলায় আটকে আছে — এই মেঘালয় সড়ক প্রকল্পে বিলম্বের বিষয়টি উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে। মেঘালয়ের ডেপুটি CM প্রেস্টন টিনসং সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে প্রস্তাবিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বাইরে পড়ে যাওয়া জমির মালিকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দ্রুততর করা হোক।

বেড়া সড়ক: দুই দিক থেকেই আটকে আছে মেঘালয়ের সীমান্ত উন্নয়ন

মেঘালয়ের ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে এখনো প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। মেঘালয়ের CM কনরাড কে সাংমা জানুয়ারি ২০২৬-এ জানান, বিশেষত ওয়েস্ট জয়ন্তীয়া হিলস অংশে সবচেয়ে বড় ফাঁক রয়ে গেছে এবং এই এলাকায় আদালতের মামলা ও ভূমি অধিগ্রহণের সমস্যাই মূল বাধা। তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করি শীঘ্রই এই বিলম্বিত অংশগুলোর কাজ শেষ হবে — বিশেষত যেসব অংশে আদালতের মামলা ছিল।”

BSF মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল পি.কে. উপাধ্যায় ডিসেম্বর ২০২৫-এ জানান, “গত বছর আমরা প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণ ও চালু করতে পেরেছি। স্থানীয় জনগণের আপত্তি, আদালতের মামলা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর পক্ষ থেকে উত্থাপিত বাধা অতিক্রম করে আমরা ২১ কিলোমিটার জমির ছাড়পত্র পেয়েছি। আশা করছি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সমস্ত ফাঁক বন্ধ করা সম্ভব হবে।”

বাংলাদেশের আপত্তি স্থানীয় কৃষকদের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ সমস্যা

মেঘালয় সড়ক ও বেড়া প্রকল্পে বিলম্বের পেছনে দুটো স্বতন্ত্র কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে BGB কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় বেড়া নির্মাণ ও সড়ক প্রকল্পের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আপত্তি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তরেখা থেকে ন্যূনতম ১৫০ মিটার দূরে বেড়া নির্মাণ করতে হয়, কিন্তু এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের চাষযোগ্য জমির একটি অংশ ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ পড়ে যাচ্ছে।

ডেপুটি CM টিনসং জানান, স্থানীয় কৃষকরা এই কারণে বেড়া নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন এবং কেউ কেউ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি করেন যে এই জমির মালিকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ না দিলে বেড়া ও সড়ক প্রকল্প দুটোই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে থাকবে। অন্যদিকে, যে শিলং-দাউকি সড়ক — যা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ — ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত সমস্যায় দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং ২০২৪ সালে ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল।

শিলচর পর্যন্ত হাইওয়ে: বরাক উপত্যকার জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

মেঘালয় সড়ক প্রকল্পে বিলম্বের প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় সুখবর হল ভারত সরকারের অনুমোদিত শিলং-শিলচর সবুজক্ষেত্র হাইওয়ে প্রকল্প — যা বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য একটি রূপান্তরকারী সুযোগ। মে ২০২৫-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে এই প্রকল্প অনুমোদন করে। এই চার-লেন হাইওয়ে NH-6 ধরে মাওলিংখুং (মেঘালয়) থেকে পাঁচগ্রাম (আসাম)-এর কাছে শিলচর পর্যন্ত মোট ১৬৬.৮ কিলোমিটার বিস্তৃত হবে এবং এর প্রাক্কলিত ব্যয় ২২,৮৬৪ কোটি টাকা।

এই প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ — কারণ এটি NHIDCL পরিচালিত কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট পরিবহন প্রকল্পের একটি সম্প্রসারণ হিসেবে কাজ করবে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতকে মায়ানমারের সিতওয়ে বন্দরের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে বিকল্প সমুদ্রপথে যুক্ত করবে — বাংলাদেশের উপর নির্ভরতা ছাড়াই। NHIDCL-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই হাইওয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য এই প্রকল্পের তাৎপর্য অপরিসীম। শিলং থেকে শিলচর পর্যন্ত সরাসরি চার-লেন হাইওয়ে চালু হলে বরাক উপত্যকার সঙ্গে গুয়াহাটি, কলকাতা ও দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ বিপ্লব ঘটবে। পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে, পর্যটন বাড়বে এবং হাইলাকান্দিসহ পুরো বরাক উপত্যকার অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

সামনের পথ: বিলম্বের বাধা অতিক্রম করে উন্নয়নের দিকে

মেঘালয় সড়ক প্রকল্পে বাংলাদেশের আপত্তি ও ভূমি জটিলতা দূর করার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। BSF ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সীমান্তের সমস্ত ফাঁক বন্ধ করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। একইসঙ্গে, শিলং-শিলচর হাইওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ যদি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে যায়, তাহলে বরাক উপত্যকার মানুষ দশকের পর দশক ধরে যে সংযোগ সংকটে ভুগছেন, তার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া যাবে। স্থানীয় ভূমি মালিকদের দ্রুত ও ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে বাংলাদেশের আপত্তির নিষ্পত্তি — এই দুটি বিষয়ই আগামী মাসগুলোতে এই অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করবে।

মেঘালয় সড়ক প্রকল্পে বাংলাদেশের আপত্তি ও ভূমি বিরোধে বিলম্ব, শিলং-শিলচর হাইওয়েও প্রভাবিত
Scroll to top