Read today's news --> ⚡️Click here 

আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আগামী দুই সপ্তাহ, বরাক উপত্যকায় বন্যার সতর্কতা

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) আগামী দুই সপ্তাহ ধরে আসামে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস বিশেষভাবে উদ্বেগজনক কারণ এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতে ৩০০-৭০০ মিমি পর্যন্ত সঞ্চিত বৃষ্টিপাত হতে পারে — যা ভয়াবহ শহর-বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পূর্বাভাস এমন এক সময়ে আসছে যখন গৌহাটিতে ইতিমধ্যেই ৭৫ বছরের নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়ে গেছে এবং বরাক উপত্যকার নদীগুলোতে জলস্তর দ্রুত বাড়ছে।

গৌহাটিতে ৭৫ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি: ২০ এপ্রিলের বিপর্যয়

২০ এপ্রিল ২০২৬ গৌহাটিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১৭.৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা ১৯৫১ সালের পর থেকে যেকোনো এপ্রিলের সর্বোচ্চ এক দিনের বৃষ্টি। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০০৪ সালের ১১৬.৫ মিমি। শুধু গড় পরিসংখ্যান নয়, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল আরও অনেক বেশি — খানাপাড়ার SIRD কমপ্লেক্সে ২১৫.৯ মিমি, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩৪ মিমি এবং গৌহাটি সিটি ARG-তে ১২৬.৫ মিমি বৃষ্টি পরিমাপ হয়েছে।

এই বিপুল বৃষ্টিতে গৌহাটির মালিগাঁও, রুকমিণীনগর, VIP রোড, জোরাবাট, রাজগড়, হাটিগাঁও ও চিড়িয়াখানা রোড-সহ অনেক এলাকায় বুক পর্যন্ত জল জমে যায়। এই বন্যায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে। কামরূপ মেট্রো জেলা প্রশাসন সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে।

আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: আগামী ১৫ দিন কী অপেক্ষা করছে

IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আগামী দুই সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে। IMD-এর অল ইন্ডিয়া ওয়েদার বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল আসাম ও মেঘালয়ে ৫০-৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৬-২৯ এপ্রিল পর্যন্ত আসাম ও মেঘালয়ে বিচ্ছিন্নভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব আসামের উপর একটি উপরিস্থ বায়ু সঞ্চালন কেন্দ্র (upper air circulation) এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার প্রধান কারণ। ভারতীয় মৌসুমী বায়ু প্রণালীর পরিবর্তনের ফলে আসাম ও মেঘালয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ৩০০-৭০০ মিমি সঞ্চিত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে — যা স্বাভাবিক মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি। ASDMA (আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি) জানিয়েছে, এই আর্দ্র আবহাওয়া শহুরে বন্যা, যানজট এবং দুর্বল এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দি জেলায় বিশেষ ঝুঁকি

আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি, কাছাড় ও শ্রীভূমি জেলার মানুষের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বরাক নদীর জলস্তর ইতিমধ্যেই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গুরুতর বন্যা সতর্কতা জারি হয়েছে বলে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষি বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনে কৃষি বিশেষজ্ঞ এজাফুল আহমেদ (আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগ) বলেছেন, “২০২২ সালে বরাক উপত্যকায় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ছিল প্রায় ৪,৯০০ মিমি, যা একটি বিধ্বংসী বছর ছিল। এরপর ২০২৩ ও ২০২৪-এ তা কমে আসে, কিন্তু ২০২৬ সালে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” তিনি জানান, প্রতি চার থেকে পাঁচ বছর অন্তর বরাক উপত্যকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে — যা জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট সংকেত।

হাইলাকান্দি জেলার ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৫-২৬ অনুযায়ী, এই জেলা প্রতি বছরই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মিজোরাম থেকে আসা পাহাড়ি জল উপত্যকার নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে। লালা টাউনের বাসিন্দাদের এখনই সতর্ক থাকা প্রয়োজন — বিশেষত নদীতীরবর্তী এলাকা, নিচু জমি ও পাহাড়ের পাদদেশের বাড়িগুলোতে।

বন্যার ঝুঁকিতে কী করবেন: সরকারি নির্দেশ প্রস্তুতি

ASDMA-র পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, নদী ও জলাশয়ের কাছে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলুন। দ্বিতীয়ত, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তু থেকে দূরে থাকুন। তৃতীয়ত, বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ওষুধ ও নথিপত্র উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখুন। চতুর্থত, NDRF / SDRF-এর জরুরি নম্বরে যোগাযোগ রাখুন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখুন।

KVK শ্রীভূমির সিনিয়র বিজ্ঞানী পুলকাভ চৌধুরি জানিয়েছেন, বরাক উপত্যকায় এপ্রিল-মে মাসের শিলাবৃষ্টি ও বন্যা আহু ধানের মতো প্রচলিত শস্যের ব্যাপক ক্ষতি করে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এখনই পাকা বা আধাপাকা ফসল মাঠ থেকে তোলার ব্যবস্থা করুন এবং বীজ উঁচু ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন।

আগামী দিনগুলোতে কী দেখতে হবে

আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের তৎপরতার উপরই নির্ভর করছে ক্ষতির পরিমাণ। আগামী ২৫-২৯ এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আবহাওয়ার গতিবিধি সবচেয়ে সংকটজনক হতে পারে। হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দাদের IMD ও ASDMA-র অফিশিয়াল আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২০২২ সালের বিধ্বংসী বন্যার স্মৃতি এখনও তাজা — আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতিই এবারের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আসামে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আগামী দুই সপ্তাহ, বরাক উপত্যকায় বন্যার সতর্কতা
Scroll to top