Read today's news --> ⚡️Click here 

মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ের পর গৌহাটিতে BJP-র মহিলা আক্রোশ সমাবেশ, INDIA জোটকে দায়ী করল দল

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজিত হওয়ার পরপরই আসামের BJP-এর মহিলা শাখা ২৩ এপ্রিল গৌহাটিতে একটি বড় প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেছে। “মহিলা আক্রোশ” নামে এই সমাবেশটি খানাপাড়া থেকে শুরু হয়ে সিক্স মাইল পর্যন্ত মিছিল হিসেবে এগিয়ে যায়। এই সমাবেশে BJP দাবি করে যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন INDIA জোট সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাসে বাধা দিয়েছে — যে বিলটি লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে ২০২৯ সাল থেকে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করতে চেয়েছিল।

কী ঘটেছিল সংসদে: বিলের পতনের কারণ

১৬-১৭ এপ্রিল ২০২৬ সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্র সরকার একসঙ্গে তিনটি বিল পেশ করেছিল — সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬, সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬। বিলগুলো পাস হলে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন করে মহিলা সংরক্ষণ ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই কার্যকর করা যেত এবং লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ উন্নীত করা হত।

সংবিধান সংশোধনীর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু INDIA জোটের ২৩০ জন সদস্য এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় বিলটি পাস হতে পারেনি। BJP-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, INDIA জোট সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াটিকে সমর্থন করতে রাজি হয়নি — ফলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার সময়সীমা ২০২৬ সালের জনগণনা ও পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণ শেষ হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে যাবে।

BJP নেত্রীদের অভিযোগ: গান্ধী পরিবার ও INDIA জোটকে সরাসরি আক্রমণ

গৌহাটির খানাপাড়া ভেটেরিনারি ফিল্ডে আয়োজিত সমাবেশে BJP-এর রাজ্য সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া, সংসদ সদস্য বিজুলি কলিতা মেধি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজন্তা নিওগ এবং আশা বড়দলই উপস্থিত ছিলেন। BJP রাজ্য সহ-সভাপতি রত্না সিং বলেন, “যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে এই বিল আগেই উপস্থাপিত হয়েছিল, বিরোধী দলগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এর বাস্তবায়ন ঠেকিয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, জনশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংরক্ষণ বাস্তবায়নের শর্ত জুড়ে দেওয়ার কারণে আরও এক দশক পিছিয়ে যেতে পারে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব।

BJP-এর মহিলা মুখপাত্র জেফ্রিন মেহজেবিন বলেন, সমাজের বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মহিলারা এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন — এটি একটি দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও ব্যাপক জনমতের প্রতিফলন। BJP রাজ্য মুখপাত্র দেবাজিৎ মহন্ত বলেন, এই সমাবেশের লক্ষ্য হল মহিলাদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সমান মর্যাদার পক্ষে জনমত গড়ে তোলা।

দিল্লিতেও  BJP সাংসদ কমলজিৎ সেহরাওয়াত বলেন, “INDIA জোটের মানুষেরা আবারও ষড়যন্ত্র করে মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজিত করেছে। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম ২০২৩ সালে পাস হয়েছিল। এটি কার্যকর করতে সংশোধনী প্রয়োজন ছিল। কিন্তু INDIA জোট বিপক্ষে ভোট দিয়ে বিলটি নামিয়ে দিল।”

মহিলা সংরক্ষণ বিলের পটভূমি: ২০২৩ থেকে ২০২৬

মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি ভারতীয় রাজনীতিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদির সরকার সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইন, ২০২৩ বা নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাস করে, যেখানে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এই আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে নতুন জনগণনার পর সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন হলে। এই শর্তই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

বর্তমানে লোকসভায় মহিলা সাংসদের অনুপাত প্রায় ১৪ শতাংশ এবং বেশিরভাগ রাজ্য বিধানসভায় ১০ শতাংশের কম — যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এই পরিসংখ্যানই BJP-এর প্রচারের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দিতে এই ইস্যুর প্রতিধ্বনি

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্ক বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মানুষের কাছেও প্রাসঙ্গিক। আসাম বিধানসভায় বরাক উপত্যকার মহিলা প্রতিনিধিত্ব ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সীমিত — হাইলাকান্দি জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে কদাচিৎ মহিলা প্রার্থী মনোনীত হন। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হলে এই চিত্র বদলাত এবং স্থানীয় মহিলা নেতৃত্বের বিকাশে নতুন দরজা খুলত।

এই আন্দোলন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হিসেবে থাকবে — যার প্রভাব পড়বে সংখ্যালঘু ও উপজাতি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার মতো অঞ্চলেও।

নির্বাচনের ময়দানে নতুন অস্ত্র: সংরক্ষণ বিতর্কের ভবিষ্যৎ

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে BJP ও কংগ্রেসের এই মুখোমুখি লড়াই কেবল একটি আইনি প্রশ্ন নয় — এটি এখন নির্বাচনী মাঠের একটি কার্যকর রাজনৈতিক বিভাজিকায় পরিণত হয়েছে। এখন ২০২৬ সালের জনগণনা শেষে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরই মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবে কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হবে। কংগ্রেস-সহ INDIA জোট এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই বিতর্কের পরিণতি কী হবে তা নির্ভর করছে আগামী মাসগুলোতে জনগণনা প্রক্রিয়া ও সীমানা নির্ধারণ কমিশনের কার্যক্রমের গতির উপর।

মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ের পর গৌহাটিতে BJP-র মহিলা আক্রোশ সমাবেশ, INDIA জোটকে দায়ী করল দল
Scroll to top