শিলচরে IPL বেটিং চক্র ভেঙে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে কাছাড় জেলা পুলিশ। IPL ২০২৬ মৌসুমে অসমের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে শিলচরেও এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও বেটিং সংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
অভিযান কীভাবে হলো এবং কী পাওয়া গেল
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাছাড় জেলা পুলিশ শিলচরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বেটিং অ্যাপ চালানোর জন্য ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে IPL ম্যাচে অবৈধ বাজি পরিচালনা করে আসছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই চক্রটি Master ID এবং Sub-ID পদ্ধতিতে পরিচালিত হত — যেখানে একটি মূল অ্যাকাউন্ট থেকে বহু ব্যবহারকারীকে বাজির নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হত। এই পদ্ধতিতে বড় পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, কারণ একেকটি Master ID থেকে শতাধিক ব্যক্তি একই সময়ে বাজি ধরতে পারেন। এই ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই সময়ে বড় মাপের বেটিং চক্র ধরা পড়েছে।
সারা ভারতে IPL বেটিং অভিযান: একটি বৃহত্তর চিত্র
শিলচরে IPL বেটিং চক্র ধরা পড়ার এই ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। IPL ২০২৬ মৌসুমে সারা দেশে পুলিশ একযোগে অবৈধ বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একটি আন্তঃরাজ্য বেটিং চক্র ভেঙে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৯১ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। কানপুর পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল PTI-কে জানিয়েছেন, “অভিযুক্তরা Bethub24.com নামের একটি অবৈধ ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে Master ID ও Sub-ID নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করত।”
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরেও পুলিশ একই সপ্তাহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে, যারা Dream Exchange প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বেটিং পরিচালনা করত। ছত্তিশগড়ের মহাসামুন্দেও পুলিশ ২.৫ কোটি টাকার সম্পদসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। এই সব ঘটনা একটিই বার্তা দিচ্ছে — IPL মৌসুমে অবৈধ অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সারা দেশের মতো অসমেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে।
অসমে IPL বেটিং-এর পুরনো ইতিহাস ও বরপেটার অভিযান
অসমে IPL মৌসুমে অবৈধ বেটিং চক্র নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৩ সালেও কাছাড় জেলায় পুলিশ একটি IPL জুয়ার চক্র ভেঙে দুইজনকে গ্রেফতার করেছিল এবং ৩৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল বলে তৎকালীন রিপোর্টে জানা যায়। এবার পাঁচজনের গ্রেফতার ও আরও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটন দেখাচ্ছে যে এই চক্রগুলো সময়ের সঙ্গে আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে উঠছে।
বরপেটায় পুলিশ একই সময়ে আরও একটি IPL বেটিং চক্র ভেঙে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যা দেখাচ্ছে যে এবার অসম পুলিশ রাজ্যজুড়ে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে। শিলচরের সাম্প্রতিক অভিযানও সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দির জন্য সতর্কবার্তা
শিলচরে IPL বেটিং চক্র গ্রেফতারের এই ঘটনা লালা শহর ও হাইলাকান্দি জেলার মানুষের জন্যও একটি জরুরি সতর্কবার্তা। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে অনলাইন বেটিং অ্যাপগুলো এখন শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সহজলভ্য হয়ে গেছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে IPL মৌসুমে “সহজ আয়ের” লোভে এই ধরনের অবৈধ জুয়ায় জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ এই ধরনের বেটিং সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ধরা পড়লে ভারতীয় দণ্ডবিধি ও Public Gambling Act অনুযায়ী গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। পুলিশের এই অভিযান চলমান থাকবে বলে কাছাড় জেলা পুলিশ ইঙ্গিত দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তে এই চক্রের আরও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ অনুরোধ করছে, কেউ যদি এলাকায় এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের খবর পান, তাহলে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় জানাতে।