Read today's news --> ⚡️Click here 

কাছাড় বড়খলায় ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ল: হারাংগি নদীতে ঝাঁপ, ৫ হাজার মানুষ বিচ্ছিন্ন

কাছাড় বড়খলায় ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ২৬ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার রাতে কাছাড় জেলার বড়খলায় হারাংগি নদীর উপর নির্মিত ফুটব্রিজটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেতুর উপর বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী পারাপার করছিলেন — সেতু ভাঙার মুহূর্তে তারা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে প্রাণ রক্ষা করেন। এই দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবে রঙ্গর গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

সেতু ভাঙার ঘটনা: কোথায়, কীভাবে

সেতুটি বড়খলার রঙ্গর এলাকাকে ভাঙারপার এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করত। কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের পর রবিবার রাতে সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়ে। সেতুর উপর যারা ছিলেন তাদের কেউ কেউ ভাঙার শব্দে বুঝতে পেরে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হন, আর যারা মাঝখানে ছিলেন তারা হারাংগি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। লাগাতার বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল, যা পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলেছিল।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় রঙ্গর ও আশপাশের গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাকেই তারা দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

পাঁচ হাজার বাসিন্দার দুর্ভোগ: স্কুল, হাসপাতাল পৌঁছানো বন্ধ

সেতু ভেঙে পড়ায় রঙ্গর গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখন মূল সড়ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। স্কুলছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী এবং প্রতিদিনের কাজে যাওয়া মানুষ — সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন তারাই। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। গ্রামবাসীরা এখন অস্থায়ী ভিত্তিতে নৌকা ব্যবহার করে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে বৃষ্টি ও জলস্তর বৃদ্ধির কারণে এটিও ঝুঁকিপূর্ণ।

গ্রামবাসীরা দাবি জানিয়েছেন যে অবিলম্বে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং দ্রুত নতুন একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে হবে। ঘটনার সময় পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ পায়নি। প্রশাসনের এই নীরবতা গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বরাক উপত্যকায় সেতু বিপর্যয়: বারবার একই ছবি

কাছাড় বড়খলায় ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ার এই ঘটনা বরাক উপত্যকার পরিকাঠামোগত দুর্বলতার একটি পরিচিত চিত্র। বরাক উপত্যকার কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি জেলায় অসম্পূর্ণ সেতু ও ভগ্নপ্রায় রাস্তার সমস্যা নির্বাচনী ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জুন মাসেও একই জেলার হারাংগি নদীর উপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়েছিল, যা বরাক উপত্যকার সঙ্গে ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা PWD-র বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছিলেন। বড়খলার এই ঘটনায়ও একই অভিযোগ নতুন করে সামনে এল।

হাইলাকান্দি লালা শহরের জন্য এই ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা

বড়খলার এই দুর্ঘটনা শুধু কাছাড় জেলার নয়, হাইলাকান্দি জেলার মানুষের জন্যও একটি জরুরি সতর্কবার্তা। হাইলাকান্দি জেলার লালা শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোতেও এই ধরনের পুরনো ও ভগ্নপ্রায় ফুটব্রিজ এবং ছোট সেতু রয়েছে। হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দারাও পুরনো সেতু ও রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন। এই অঞ্চলেও বর্ষাকালে সেতু ও রাস্তার অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে এবং প্রতি বছর স্কুলছাত্র, রোগী ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বড়খলার ঘটনায় কেউ প্রাণ না হারালেও পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

বরাক উপত্যকার পরিকাঠামোর এই দুর্বলতা কেবল অ্যাকাডেমিক আলোচনার বিষয় নয় — এটি লালা ও হাইলাকান্দির প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতা। লালা শহর থেকে আশপাশের চা বাগান এলাকা ও প্রত্যন্ত গ্রামের সংযোগরক্ষাকারী সেতু ও রাস্তাগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন ও সংস্কার জরুরি।

কাছাড় বড়খলায় ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ার এই ঘটনায় কেউ প্রাণ না হারানো নিছক ভাগ্যের বিষয়। গ্রামবাসীদের দাবি এখন একটাই — অবিলম্বে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা এবং দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ। প্রশাসনকে এই দাবি কানে তুলতেই হবে, কারণ পরের বার হয়তো এত সৌভাগ্য নাও হতে পারে। বরাক উপত্যকার ভেঙে পড়া পরিকাঠামোর সমস্যা শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপেই সমাধান সম্ভব।

কাছাড় বড়খলায় ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ল: হারাংগি নদীতে ঝাঁপ, ৫ হাজার মানুষ বিচ্ছিন্ন
Scroll to top