ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) ২ মে ২০২৬ তারিখে অসম, মেঘালয়, সিকিম এবং উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। একইসঙ্গে অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অসম ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের এই সতর্কতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে হাইলাকান্দি, কাছাড়, দিমা হাসাও এবং শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দাদের জন্য — যেখানে ইতিমধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
কোন কোন এলাকায় কী ধরনের বিপদ?
IMD-র ১ মে ২০২৬ তারিখের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতে আগামী চার থেকে পাঁচ দিন ব্যাপক আলো থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির ঝোড়ো হাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অসম ও মেঘালয়ে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে বজ্র-ঝোড়ো (থান্ডারস্কোয়াল) পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে বাতাসের গতি ৫০ থেকে ৬০ এবং সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত উঠতে পারে।
দেশের অন্যান্য অংশেও আবহাওয়া পরিস্থিতি অস্থির। জম্মু-কাশ্মীর, পূর্ব রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগড়, ওডিশা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াসহ ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে IMD। এছাড়া উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, উপকূলীয় কর্নাটক ও তামিলনাড়ুতে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকার কথা বলা হয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরালা, পুদুচেরি ও মাহেতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি আছে বলে জানিয়েছে।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকায় IMD-র বিশেষ সতর্কতা
বরাক উপত্যকার চারটি জেলা — কাছাড়, দিমা হাসাও, হাইলাকান্দি এবং শ্রীভূমি — বিশেষভাবে সতর্কতার আওতায় রয়েছে। এই জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ ও শিলাবৃষ্টিসহ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতির ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) একটি জনসাধারণের উপদেশমূলক বার্তায় জানিয়েছে যে প্রবল বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিচু এলাকা ও পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
এই আবহাওয়া পরিস্থিতি জলাবদ্ধতা, যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। লালা শহর ও আশপাশের বাসিন্দারা, যারা প্রতিবছর বর্ষার প্রাক্কালে এই পরিচিত সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হন, তাদের জন্য এই সতর্কতা আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ এনে দিচ্ছে। বিশেষত হাইলাকান্দির নিম্নাঞ্চলগুলোতে যেখানে সামান্য বৃষ্টিতেই জলজমার সমস্যা দেখা দেয়, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা জরুরি।
CWC-র বন্যা সতর্কতা ও মে মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি
আবহাওয়া সংক্রান্ত উদ্বেগ শুধু বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC) সতর্ক করেছে যে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অসম ও বরাক উপত্যকার কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যে ১ মে ২০২৬-এর ASDMA রিপোর্টে অসমে ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং রাজ্যের আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
IMD-র মে ২০২৬-এর দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে যে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে পাঁচ দিনের আবহাওয়া সতর্কতা কার্যকর রয়েছে — যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের এই পর্বটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
ASDMA বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তারা নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলেন। বর্ষার মৌসুম আসার আগেই উত্তর-পূর্ব ভারতে এই তীব্র আবহাওয়া কার্যত প্রাক-বর্ষার সংকেত দিচ্ছে — এবং হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার মানুষদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।