Read today's news --> ⚡️Click here 

গৌরব গোগই স্ট্রং রুমে BJP কর্মীর অভিযোগ তুললেন — ৪ মে ভোটগণনার আগে ECI-কে কড়া প্রশ্ন

অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরুর ঠিক দুইদিন আগে অসম কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গোগই স্ট্রং রুম নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র অভিযোগ তুললেন। ২ মে ২০২৬ তারিখে সাংবাদিকদের সামনে গোগই দাবি করেন যে অসমের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার স্ট্রং রুমে BJP কর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটগ্রহণ চলাকালীনও তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন কমিশন অর্থাৎ ECI-র ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

কী অভিযোগ করলেন গৌরব গোগই?

গোগই বলেন, “এখানে অসমে আমরা দেখছি বিভিন্ন পোলিং বুথে এটি ঘটছে। BJP কর্মীরা শুধু স্ট্রং রুমের ভেতরে নন, ভোট চলার সময়েও তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন ঠিক কী করছে? এটা গণতন্ত্রের জন্য একটা গুরুতর হুমকি।” তিনি আরও দাবি করেন যে BJP “নিজের কাজের জোরে জিততে পারছে না” এবং দলটি “চুরির মাধ্যমে নিজেকে বাঁচানোর” চেষ্টা করছে।

গোগই Exit Poll-কে সরাসরি “TRP-র খেলা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেছেন, “Exit poll-গুলো TV বিতর্কের জন্য। আসল রায় ৪ মে গণনার দিন জানা যাবে।” তিনি আরও দাবি করেন যে ভয়ের পরিবেশের কারণে বহু ভোটার প্রকাশ্যে তাদের মত জানাতে পারেননি — যা exit poll-এ প্রতিফলিত হয়নি।

এর আগেও উঠেছিল স্ট্রং রুম নিরাপত্তার প্রশ্ন

এটি প্রথমবার নয় যে অসমে স্ট্রং রুম নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ৯ এপ্রিলের একক দফার ভোটগ্রহণের পরপরই অসম বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা দেবব্রত শইকিয়া অসমের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অনুরাগ গোয়েলকে চিঠি লিখে একাধিক স্ট্রং রুমে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগ করেছিলেন। তিনি নাজিরা কেন্দ্র-সহ বেশ কয়েকটি জায়গার উদাহরণ টেনে বলেছিলেন যে বেশিরভাগ দরজায় সিলমোহর নেই, ডাবল-লক ব্যবস্থা অনুপস্থিত এবং CRPF জওয়ানরা জানিয়েছেন যে স্ট্রং রুম পাহারা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

শইকিয়া একটি ভিডিও ক্লিপও শেয়ার করেছিলেন যেখানে তাকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সামনে এই ত্রুটিগুলো দেখাতে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই সময়ে স্ট্রং রুম সংক্রান্ত বিতর্ক উঠেছে যে সেখানে BJP “ভুলভাবে স্ট্রং রুম খোলার” অভিযোগ তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে গৌরব গোগই স্ট্রং রুম নিরাপত্তার বিষয়টিকে জাতীয় নির্বাচনী প্রামাণিকতার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকায় এই বিতর্কের প্রভাব

অসমের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে হাইলাকান্দি জেলায় রয়েছে হাইলাকান্দি, কটলিচেরা এবং আলগাপুর কেন্দ্র। লালা শহরের বাসিন্দারা এই কেন্দ্রগুলোর ভোটার — এবং গৌরব গোগই যে অভিযোগ তুলেছেন তা সরাসরি তাদের ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অসম জুড়ে ৮৫.৯৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন — যেটি একটি উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ। সেই বিশাল অংশগ্রহণের পর নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্ন হাইলাকান্দির ভোটারদের কাছেও স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।

কংগ্রেস দলটি ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে “উপযুক্ত ফোরামে” পেশ করেছে বলে গোগই জানিয়েছেন। বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সর্বদাই তাৎপর্যপূর্ণ — এই অঞ্চলে Congress ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ঘাঁটি ধরে রেখেছে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোন দল কীভাবে ফল করে তা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

পবন খেরা মামলায় CM-কে নিশানা করলেন গোগই

স্ট্রং রুম প্রশ্নের পাশাপাশি গোগই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শাসন ও বিদেশ সফর নিয়েও তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট Congress নেতা পবন খেরাকে আগাম জামিন মঞ্জুর করার পর গোগই বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে একটি সভ্য ও ঐতিহাসিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার সর্বোচ্চ আদালতে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। এটি আমাদের রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং সমাজে আমাদের আত্মসম্মানকে দুর্বল করে।” CM-এর বিরুদ্ধে তিনি পুলিশকে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন।

৪ মে ২০২৬-এর ভোটগণনা এখন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। Exit poll-গুলো NDA-র প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও Congress নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী যে প্রকৃত ফলাফল ভিন্ন হবে। স্ট্রং রুম নিরাপত্তা নিয়ে Congress-এর এই অভিযোগ যদি ECI আমলে নেয় কিনা এবং গণনার দিন প্রকৃত ফলাফল কোন দিকে যায় — সেটাই এখন অসমের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

গৌরব গোগই স্ট্রং রুমে BJP কর্মীর অভিযোগ তুললেন — ৪ মে ভোটগণনার আগে ECI-কে কড়া প্রশ্ন
Scroll to top