Read today's news --> ⚡️Click here 

APSC টপার বনকর্মকর্তা লখিমপুরে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেফতার — ৫.৬৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার

অসম পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্থাৎ APSC পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করা একজন বনকর্মকর্তা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। অসম ফরেস্ট সার্ভিসের (AFS) কর্মকর্তা শিবাশিষ সান্ডিলিয়াকে ১ মে ২০২৬ তারিখে লখিমপুর জেলায় একটি ট্র্যাপ অপারেশনে গ্রেফতার করে অসম পুলিশের ভিজিলেন্স ও অ্যান্টি-করাপশন শাখা। তাঁর বাসস্থান থেকে মোট ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীরা অতিরিক্ত সম্পদের উৎস নিয়েও ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছেন। APSC টপার বনকর্মকর্তার এই গ্রেফতার অসম জুড়ে তীব্র জনপ্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

ট্র্যাপ অপারেশনে কীভাবে ধরা পড়লেন সান্ডিলিয়া?

শিবাশিষ সান্ডিলিয়া বর্তমানে লখিমপুর জেলায় ফরেস্ট রেঞ্জার পদে কর্মরত ছিলেন। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ভিজিলেন্স দলটি একটি পরিকল্পিত ট্র্যাপ অপারেশন পরিচালনা করে। ১ মে তারিখে তাঁর সরকারি বাসভবনে একজন ডাম্পার ট্রাক মালিকের কাছ থেকে ১২,০০০ টাকা ঘুষ গ্রহণের মুহূর্তে তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অপারেশনটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং অভিযোগকারী পক্ষের সহযোগিতায় ভিজিলেন্স দলটি সম্পূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়।

গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা লখিমপুর ও গুয়াহাটির শান্তিপুর এলাকায় সান্ডিলিয়ার দুটি বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালান। গুয়াহাটির চিড়িয়াখানা রোড সংলগ্ন শান্তিপুরের বাড়িতেও তল্লাশি পরিচালিত হয়। লখিমপুরের বাসভবনে তল্লাশিতে ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা নগদ পাওয়া যায়, যা তাঁর পরিচিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। এই অর্থের উৎস নির্ধারণ করতে পুলিশ একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি দুর্নীতির নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

APSC প্রথম স্থানাধিকারীর গ্রেফতার কেন এত আলোচিত?

শিবাশিষ সান্ডিলিয়া ২০২০ ব্যাচের APSC পরীক্ষায় অসম ফরেস্ট সার্ভিসে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক সরকারি পরীক্ষায় শীর্ষ স্থান অর্জন করা একজন কর্মকর্তার এভাবে ঘুষকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অসামের জনমানসে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে APSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন — সেই পরীক্ষায় শীর্ষ স্থানাধিকারী কর্মকর্তার এই পরিণতি স্বভাবতই তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

APSC দুর্নীতির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে অসমে। ২০১৬-১৭ সালে APSC-র তৎকালীন চেয়ারম্যান রাকেশ কুমার পল-এর নেতৃত্বে সংঘটিত ঘোটালায় ৭০-এরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং ২০১৩-১৪ সালের CCE পরীক্ষায় উত্তরপত্র কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই কেলেঙ্কারিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গুয়াহাটির বিশেষ আদালত পল-সহ ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এই দীর্ঘ প্রেক্ষাপটে সান্ডিলিয়ার ঘটনাটি APSC দুর্নীতি-সংস্কৃতির নতুন অধ্যায় হিসেবে সামনে আসছে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা

হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলার বহু মেধাবী তরুণ প্রতিবছর APSC এবং অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। লালা শহরেও এমন অনেক পরিবার আছেন, যাঁদের সন্তানেরা বনবিভাগ, রাজস্ব ও অন্যান্য সরকারি সার্ভিসে প্রবেশের লক্ষ্যে বছরের পর বছর পড়াশোনা করছেন। APSC টপার বনকর্মকর্তার এই গ্রেফতার সেই অঞ্চলের প্রার্থীদের মনে একটি তিক্ত বার্তা দেয় — যোগ্যতার জোরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নৈতিকতার ধারাবাহিক অবক্ষয় পুরো ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

অসমের ভিজিলেন্স শাখা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সফল ট্র্যাপ অপারেশন পরিচালনা করেছে — যা প্রমাণ করে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। তবে একজন শীর্ষ পরীক্ষার্থী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা একটি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয় — যা প্রশিক্ষণ, জবাবদিহি ব্যবস্থা এবং পেশাদার নৈতিকতা শিক্ষার প্রশ্নগুলো সামনে আনে।

তদন্ত এগিয়ে চলছে, বিস্তারিত আরও সামনে আসবে

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বর্তমানে একটি বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং যাচাই-বাছাই শেষ হলে আরও তথ্য সামনে আসবে। উদ্ধার হওয়া ৫.৬৮ লক্ষ টাকার উৎস নির্ধারণ, সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্য শনাক্তকরণ এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড পর্যালোচনা — এই তিনটি বিষয়কে তদন্তের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সান্ডিলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং আদালতের সামনে সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অসমের সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

APSC টপার বনকর্মকর্তা লখিমপুরে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেফতার — ৫.৬৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার
Scroll to top