অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগণনা ৪ মে সকাল ৮টায় রাজ্যজুড়ে ৪০টি গণনাকেন্দ্রে একযোগে শুরু হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (CEO) অনুরাগ গোয়েল এবং পুলিশ মহানির্দেশক (DGP) সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন যে অসম ভোটগণনা ৪ মে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। ৮৫.৯১ শতাংশ ভোটার-অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়া এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
কত কর্মী, কত নিরাপত্তা — পরিসংখ্যানে সম্পূর্ণ চিত্র
গণনার দিনটি পরিচালনার জন্য প্রশাসন বিশাল মানবসম্পদ মোতায়েন করেছে। CEO অনুরাগ গোয়েল জানিয়েছেন, ৫,৯৮১ জন গণনা কর্মকর্তা — যাদের বেশিরভাগ রাজ্য সরকারি কর্মী — এবং ২,৩৪৮ জন মাইক্রো-অবজার্ভার, যারা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ECI ১২৬ জন গণনা পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে যারা রাজ্যের বাইরের IAS কর্মকর্তা এবং তারা ১ ও ২ মে-র মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন।
নিরাপত্তার দিক থেকে ব্যবস্থা বহুস্তরীয়। EVM রাখা স্ট্রং রুমের অন্তঃস্থ কর্ডনে ২৫টি CAPF কোম্পানি মোতায়েন রয়েছে এবং দ্বিতীয় কর্ডনে আরও ১৩টি CAPF কোম্পানি ও ১টি SAP প্লাটুন রয়েছে। গণনার দিন স্ট্রং রুম থেকে গণনাকেন্দ্রে EVM স্থানান্তর তদারকি করবেন অতিরিক্ত ৮০০ জন বেসামরিক পুলিশ। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯৩টি SAP কোম্পানি ও ২টি CRPF কোম্পানি স্ট্যাটিক ডিউটিতে এবং ৮৫টি অ্যাসল্ট গ্রুপ বা কমান্ডো মোতায়েন থাকবেন।
CEO গোয়েল বললেন: “স্ট্রং রুম সম্পূর্ণ নিরাপদ”
বিরোধী দল Congress স্ট্রং রুমে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ তুলেছিল। তার প্রেক্ষিতে CEO গোয়েল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে স্ট্রং রুমগুলো কোনোভাবেই বিপন্ন হয়নি।” তিনি আরও জানান যে সমস্ত স্ট্রং রুম ২৪ ঘণ্টা CCTV নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রার্থীদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাও সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন।
গণনার দিনের প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। গণনা কর্মকর্তাদের সকাল ৬টার মধ্যে, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সকাল ৭টার মধ্যে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। Times of India জানিয়েছে, ECI এবার QR কোড-ভিত্তিক ফটো আইডি যাচাই ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ড্রাই ডে ও নিষেধাজ্ঞা — সারা রাজ্যে সতর্কতা
মুখ্যসচিব ও DGP-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সে চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভোটগণনার দিন সারা রাজ্যে ড্রাই ডে ঘোষণা করা হয়েছে এবং মদের দোকান বন্ধ থাকবে। বিজয় উৎসবে সংঘর্ষ ও গণ্ডগোল ঠেকাতে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ডিব্রুগড় জেলায় BNSS-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি হয়েছে, যা সকাল ৫টা থেকে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
হাইলাকান্দি ও লালা শহরের প্রাসঙ্গিকতা
হাইলাকান্দি জেলার গণনাকেন্দ্র ৪ মে ভোর থেকেই প্রশাসনের নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। হাইলাকান্দি, কটলিচেরা ও আলগাপুর — এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল যে গণনাকেন্দ্রে ঘোষিত হবে, সেখানে SAP ও CAPF বাহিনী মোতায়েন থাকবে। লালা শহরের বাসিন্দা এবং আশপাশের গ্রামের মানুষ যারা তাদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট দিয়েছেন, তারা ৪ মে বিকেলের মধ্যেই ফলাফল জানতে পারবেন। CEO গোয়েল জানিয়েছেন, “৪ মে সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।”
ভোটগণনার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে ECI-র পক্ষ থেকে যে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা অসমের নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম মোতায়েন। ২,৫০,৫৪,৪৬৩ জন ভোটার, ৭২২ জন প্রার্থী এবং ৮৫.৯১ শতাংশ ভোটারদের অংশগ্রহণের পর কোন দল ১২৬ আসনের বিধানসভায় কতটি আসন পাবে — সেই উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।