Read today's news --> ⚡️Click here 

মণিপুর কামজং কুকি সংগঠনের বিদেশি আগ্রাসনের দাবি প্রত্যাখ্যান — পাল্টা অভিযোগ সাম্প্রদায়িক নিশানার

মণিপুরের কামজং জেলায় ৭ মে ২০২৬ সালের ভোরে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তিনটি তানখুল নাগা গ্রামে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় একটি নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এক পক্ষ যখন এই হামলাকে “বিদেশি আগ্রাসন” বলে সংজ্ঞায়িত করছে, তখন প্রধান কুকি সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর (KIM) সেই বর্ণনাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। KIM দাবি করেছে — মণিপুর কামজং কুকি সংগঠনের বিদেশি আগ্রাসনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রকৃতপক্ষে এই অঞ্চলে কুকি-জো সম্প্রদায়কেই পদ্ধতিগতভাবে সাম্প্রদায়িক নিশানা করা হচ্ছে।

মে কামজংয়ে কী ঘটেছিল — হামলার ঘটনাক্রম

৭ মে ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে কামজং জেলার কাসম খুলেন পুলিশ থানার অধীন নামলি, ওয়াংলি ও চোরো গ্রামে সশস্ত্র হামলা হয়। হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন গ্রামবাসী আহত হন, ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয় ও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই হামলার সময় নামলি গ্রামের একজন তানখুল মহিলা অলিনা নিংশেন অপহৃত হন — যিনি পরবর্তীতে অসম রাইফেলসের চাপের মুখে শনিবার মুক্তি পান বলে জানিয়েছে।

ফুনগিয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের নাগা পিপলস ফ্রন্টের MLA লেইশিয়ো কেইশিং এই হামলাকে “বিদেশি আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেন এবং মিয়ানমার-ভিত্তিক Kuki National Army-Burma (KNA-B) ও People’s Defence Force (PDF)-এর ভূমিকার অভিযোগ করেন। East Mojo-র প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি রয়েছে — “এই ঘটনা সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাজ, এটি কোনো সামাজিক দ্বন্দ্ব নয়।”

কুকি সংগঠনের পাল্টা বক্তব্য — “আমরাই নিশানা”

কুকি ইনপি মণিপুর (KIM) এই “বিদেশি আগ্রাসন” আখ্যানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে এই বর্ণনা কুকি-জো সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। KIM-এর মতে, ঘটনার শুরু আসলে ২ মে কামজং জেলার লানচাহ কুকি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। এই গ্রামপোড়ানোর ঘটনাকে KIM গুরুতর সহিংসতার সূচনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং দাবি করেছে যে তানখুল সম্প্রদায়ের কিছু অংশ এই ঘটনায় জড়িত।

Village Volunteer Eastern Zone (VVEZ) — যা কামজং-সহ পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষাকারী দল — ৭ মের হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং বলেছে, এই অভিযান লানচাহ গ্রামধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় NSCN-IM-এর ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল। KNA-B অবশ্য ভারতীয় ভূখণ্ডে আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নাগা সংগঠনের PM-কে আবেদন রাজ্য সরকারের অবস্থান

United Naga Council, Naga Women’s Union ও All Naga Students’ Association, Manipur — তিনটি নাগা সংগঠন মিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে একটি যৌথ স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। সেই স্মারকলিপিতে তারা লিখেছে — “নাগাদের বাড়ি বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মানুষকে বিদেশি সন্ত্রাসীরা অপহরণ করছে, জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করা হচ্ছে — জাতীয় নিরাপত্তা আজ ভেঙে পড়েছে।” তারা আরও দাবি করেছে, SoO (Suspension of Operations)-এর অধীনে থাকা সশস্ত্র দলগুলো এবং KNA-B একযোগে কাজ করছে।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচান্দ সিং ঘটনার পরদিনই BSF কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন বলে জানিয়েছে। অসম রাইফেলস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ১৫ জন বাস্তুচ্যুত গ্রামবাসীকে উদ্ধার করে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে এবং একজন KNA-B সদস্য লালথানজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে বলে উল্লেখ করেছে।

উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা — আসাম হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা

মণিপুরের কামজংয়ের এই ঘটনাবলি আসামের হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার মানুষের কাছে সরাসরি প্রাসঙ্গিক — কারণ মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংকট ক্রমশ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। কামজং জেলার কামজং জেলা প্রশাসনের ৭ মে ২০২৪ সালের নথি অনুযায়ী, হামলার শিকার চোরো, নামলি ও ওয়াংলি গ্রামে ১,৫০০-র বেশি মিয়ানমার শরণার্থী আশ্রয় নিয়ে ছিলেন । মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ কীভাবে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে, কামজংয়ের ঘটনা তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

কামজং হামলাকে ঘিরে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত বর্ণনা এখন সক্রিয় — একটি “বিদেশি আগ্রাসন” এবং অপরটি “সাম্প্রদায়িক নিশানা।” এই দুটি আখ্যানের মধ্যে কোনটি বাস্তব সত্যের কাছাকাছি, তা নির্ধারণ করবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।  ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মণিপুর সংঘর্ষে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন — এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, শান্তির পথ এখনও কতটা কঠিন ও দীর্ঘ।

মণিপুর কামজং কুকি সংগঠনের বিদেশি আগ্রাসনের দাবি প্রত্যাখ্যান — পাল্টা অভিযোগ সাম্প্রদায়িক নিশানার
Scroll to top